দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। তবে দলীয় প্রতীক ও সরাসরি মনোনয়ন না থাকায় একই পদে একাধিক নেতার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় ভোটের মাঠে দলের ভেতর বিভক্তি ও কোন্দল এড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে একক সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার নতুন কৌশল নিয়েছে দলটি। তৃণমূলের মতামত, স্থানীয় সমন্বয় এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত একজনকে সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা।
বিএনপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতেই। ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা কিংবা সিটি করপোরেশন পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাংগঠনিক অবস্থান ও স্থানীয় বাস্তবতা যাচাই করে সমন্বয় করা হবে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান জানান, নির্বাচনি প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলে দল একক প্রার্থী নির্ধারণ করবে।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নির্বাচন থেকে দূরে থাকায় এবার বিএনপির অনেক নেতাই প্রার্থী হতে আগ্রহী। ফলে একই এলাকায় একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী সক্রিয় রয়েছেন। যেমন বরিশাল সদর উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই চার-পাঁচজন করে প্রার্থী রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। তিনি বলেন, বরিশাল বিএনপির ঘাঁটি হওয়ায় এখানে একক প্রার্থী নির্ধারণ করা জরুরি, অন্যথায় ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন।
এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনিভাবে কোনো দলীয় প্রতীক থাকছে না। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য নির্বাচন কমিশন ৪২টি প্রতীক চূড়ান্ত করেছে; যার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২০টি, সাধারণ সদস্য পদে ১২টি এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১০টি প্রতীক রয়েছে। দলীয় প্রতীক না থাকলেও বিএনপি স্থানীয়ভাবে সমর্থিত প্রার্থী রাখবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গত ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, উপজেলা বিএনপি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে একজন সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করে দিতে পারে। এর আগে গত ২০ আগস্ট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছিলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে অংশ নেবে।
দলটির স্থানীয় নেতাদের মতে, দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকায় পুরোনো ও নতুন সক্রিয় নেতাদের মধ্যে প্রার্থী হওয়ার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। একই পদে একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে দল সমর্থিত একক প্রার্থীর পক্ষে অন্য আগ্রহী নেতাদের রাজি করানো এবং তাদের একযোগে কাজ করানো বিএনপির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
এদিকে, গত ১১ জুলাই বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচন কমিশনও তাদের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষা থাকায় আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের এই সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী বাছাই ও সমন্বয়ের প্রক্রিয়াও আরও দৃশ্যমান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া খালের ওপর নির্মিত সেতুটি সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।…
কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২৫৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের…
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপের অনলাইন আবেদন আজ ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে।…
মৌলভীবাজার শহরের কোলাহলের একদম কাছেই অবস্থিত চিরহরিৎ বনাঞ্চল ‘বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক’। ১৯১৬ সালে সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকাল সাড়ে…
দক্ষিণ আমেরিকান গেমসের ফাইনালে টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে ৫-৪ ব্যবধানে হেরেছে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
This website uses cookies.