সংস্কার বাস্তবায়নের দাবির পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো সরাসরি জনসম্পৃক্ত বিষয়গুলোতে সংসদে আক্রমণাত্মক থাকার কৌশল নিয়েছে বিরোধী দল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুর দিনেই এর স্পষ্ট আভাস মিলেছে। একই সঙ্গে রাজপথে সক্রিয় থেকে পর্যায়ক্রমে বড় আন্দোলনের দিকে এগোতে চায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য জোট।
বিরোধীদলীয় সূত্রগুলো জানায়, দেশের চলমান সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকার অনুরোধ জানিয়েছিল তারা। তবে তা না হওয়ায় চলতি অধিবেশনেই প্রশ্নোত্তর পর্বসহ অন্যান্য উপায়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো বিষয়গুলো সামনে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হয়। একটি প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া জবাবকে কেন্দ্র করে সংসদে হইচই ও হট্টগোল সৃষ্টি হয়, যার ফলে প্রায় ১০ মিনিট সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল।
সরকারদলীয় সূত্রগুলো মনে করছে, বিরোধী দলের এই প্রতিক্রিয়া ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং তারা মূলত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও বিরোধী দলীয় দুজন সংসদ সদস্য এই দাবি অস্বীকার করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা জানান, এটি কোনো পরিকল্পিত বিরোধিতা ছিল না, বরং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছিল। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী দিনগুলোতে সরকারের কেউ জনবিরোধী বক্তব্য দিলে বিরোধী দল তা ছেড়ে কথা বলবে না এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
বিরোধী দল মূলত সরকারের গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের দুর্বলতা ও জনজীবনের সংকটগুলোকে রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ দিয়ে ধাপে ধাপে বড় আন্দোলনের দিকে যেতে চায়। এ জন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবির সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে যুক্ত করা হয়েছে।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে ১১-দলীয় ঐক্য। জোটের নেতাদের ধারণা, সময়ের সঙ্গে সরকারের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হলে জন-অসন্তোষ বাড়তে পারে, যা কাজে লাগিয়ে জনমত গঠন এবং মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় করা সম্ভব হবে।
১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, এই লংমার্চের মূল রাজনৈতিক বার্তা হলো সংস্কার ও বিচার বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার থাকা। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণে অনেক রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনও এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লংমার্চে প্রধানত ছয়টি দাবি তুলে ধরা হবে। এগুলো হলো—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা। রাজনৈতিক সংস্কার ও জনজীবনের সংকটকে একসাথে সামনে এনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোই জোটের মূল লক্ষ্য।
রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দাবিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এই জোট। গত ২৫ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনে বড় বিজয়ের পর সরকার গণভোটের রায়ের বিষয়টি ভুলে গেছে। তাঁর দাবি, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কার্যকর পরিবর্তনের আশায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিলেন। সেই রায় বাস্তবায়নের দাবিতেই ১১ দল আন্দোলন করছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেছেন, গণভোটের রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে তারা তিল পরিমাণ ছাড় দেবেন না। সংসদে এর নিষ্পত্তি না হলে তারা রাজপথেই থাকবেন। বিরোধী দলের নেতাদের মতে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে কোনো সরকারকে এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দেবে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের পর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১-দলীয় ঐক্য। পরবর্তীতে এই কর্মসূচির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং সবশেষে ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। লংমার্চে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, এলডিপির অলি আহমদ, এনসিপির নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হকসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাতটায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ শুরু হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শেষ হবে।
বিরোধীদলীয় জোটের নেতারা মনে করেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের সংকট, শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, দ্রব্যমূল্যের চাপ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যাকে সরকারের রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরে এবার মাঠের বড় কর্মসূচিতে নামছে ১১-দলীয় ঐক্য।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের সাবেক…
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী। বৃহস্পতিবার…
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।…
কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬২৪ জনকে আটক…
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থার আওতায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত বিদ্যমান…
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।…
This website uses cookies.