Header Premium (728×90)

Categories: রাজনীতি

সংবিধানের রচয়িতা ড. কামাল স্বাধীনতা পদক পাননি, আক্ষেপ রেহমান সোবহানের

বাংলাদেশের সংবিধানের মূল রচয়িতা ও খসড়া প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ড. কামাল হোসেনকে এখনো রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার না দেওয়া নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবীণ অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৬ সালে সংবিধানের হস্তলেখক (ডাফটম্যান) এ কে এম আবদুর রউফকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দিলেও মূল রচয়িতাকে এই সম্মান দেওয়া হয়নি। আমাদের দেশের ইতিহাস দুর্ভাগ্যজনকভাবে এভাবেই চলে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণফোরামের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমান ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রেহমান সোবহান এসব কথা বলেন। ছাত্রজীবন থেকে ড. কামালের সঙ্গে নিজের বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, কামাল হোসেন তাঁর ভাইয়ের মতো। ১৯৫২ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করার পর ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের সহকর্মী হিসেবে রাজনীতিতে ড. কামালের হাতেখড়ি হয়েছিল। এরপর থেকে আজীবন তিনি নীতিভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি করে গেছেন এবং একই সঙ্গে দেশের অন্যতম শীর্ষ আইনজীবী ও বৈশ্বিক স্তরে এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।

স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ আরও একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, একবার ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে) থেকে বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি এসে ড. কামালকে আইসিজের বিচারক হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর নাম প্রস্তাব করার প্রয়োজন থাকলেও তৎকালীন সরকার সেই উদ্যোগ নেয়নি। ফলে উপযুক্ত সম্মান থেকে তিনি বঞ্চিত হন।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ড. কামাল হোসেন সারাজীবন নীতিভিত্তিক রাজনীতি করেছেন। দেশে যদি একটি ন্যায্য সমাজ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকত, তবে তিনি বহু বছর ধরে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকতেন। দুঃখের বিষয়, আগামী বছর ড. কামালের বয়স ৯০ বছর পূর্ণ হবে, অথচ এই দীর্ঘ জীবনের মধ্যে তিনি মাত্র তিন থেকে চার বছর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পেয়েছেন। আইনমন্ত্রী হিসেবে সংবিধান প্রণয়ন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে বহুজাতিক কোম্পানির কবল থেকে দেশের গ্যাস সম্পদ রক্ষা করার ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, ৫০ বছর আগে ড. কামাল হোসেন যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকে তাঁর নিখুঁত কাজের শৈলী দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সংবিধান প্রণয়নে ড. কামাল যোগ্যতম ব্যক্তি হিসেবেই তাঁর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, চরম বিভাজনের এই দেশে ড. কামাল সবসময় জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি করার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে মান্না নতুন গুম প্রতিরোধ আইনের তদন্তভার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত এবং নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনের সমালোচনা করেন। তিনি বর্তমান সরকারের সময়ের বিভিন্ন সংকট ও অব্যবস্থাপনার দিকে ইঙ্গিত করে ঠান্ডা মাথায় সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ড. কামাল হোসেনকে সংবর্ধনা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রের। এরশাদবিরোধী আন্দোলন ও আইনি অঙ্গনে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশের মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিটি লড়াইয়ে ড. কামাল সবসময় প্রাসঙ্গিক থাকবেন। গণফোরামের সাবেক নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বর্তমান সরকারকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সরকার’ হিসেবে অভিহিত করে ড. কামালকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার আহ্বান জানান। দেশে উগ্রবাদ ও ধর্মান্ধতার উত্থান ঠেকাতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ওপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এবং জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব। গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ড. কামাল হোসেনকে ফুল, উত্তরীয় ও ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেন সশরীরে উপস্থিত থাকলেও নিজে কোনো বক্তব্য দেননি। তাঁর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল সতর্ক করে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে একটি অশুভ ও উগ্রপন্থী চক্র দেশে মব সংস্কৃতি, সহিংসতা, সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছে। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয়গুলোকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। সরকার যদি এখনই এই অশুভ শক্তিকে কঠোর হস্তে দমন করতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তিনি সবাইকে সতর্ক করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির সময়সূচি দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী…

15 minutes ago

নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ…

32 minutes ago

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা শীতকালীন আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর সেভেন…

39 minutes ago

বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সামনের মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে…

42 minutes ago

সাবেক সাত এমপি ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাত সাবেক সংসদ সদস্য এবং…

45 minutes ago

আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী…

1 hour ago

This website uses cookies.