২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ মনে করার সুযোগ নেই। এটি ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি বা মহড়া বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সিরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ’২৪ সালের আন্দোলনে জেগে ওঠা মানুষ এখনো সজাগ রয়েছেন যেকোনো ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ’২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়, তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। এরা যেন ’২৪-কে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটি ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের পর আশা করেছিলাম দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা পরিষ্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।
ফ্যাসিবাদকে একটি সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে। তিনি বলেন, এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এটি ফ্যাসিবাদীদের রাস্তা, আয়নাঘরের রাস্তা এবং অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না।
জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য এর অনেক উপাদান গায়েব করে দেয়া হয়েছে। ১৯৪৬ বা ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের পুরোধা ব্যক্তিত্বদেরও এখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো গায়েব করে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন, যাকে ২০০ দিন রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল, তার স্মৃতিচিহ্ন, বেগম খালেদা জিয়ার আক্ষেপের স্মৃতি এবং সীমান্তে নিহত ফেলানীর অমানবিক হত্যার স্মৃতিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে।
দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের মানদণ্ড পাসপোর্টের শক্তি, অথচ বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ঐক্যবদ্ধ না থাকলে শত্রুরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারে। আলেমরা একে অপরের বিরুদ্ধে গালমন্দ করছেন, যার পেছনে তৃতীয় কোনো শক্তির হাত থাকতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। মদিনার আদলে রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরির জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আ ন ম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের একদিন পরই প্রকল্প পরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছে…
খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতকে চীনের চাংআনে হুয়াই গাছের নিচে গড়ে ওঠা বইয়ের বাজারের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও…
দলবদলের বাজার বন্ধ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অ্যাস্টন ভিলা ছেড়ে চেলসিতে যোগ…
অস্ট্রেলিয়ায় ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে গিয়ে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। এই…
হিমালয়ের পাদদেশে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল ও তিব্বতে মৃতের সংখ্যা ৩৫৯ ছাড়িয়েছে। তবে…
‘স্কুইড গেম’ দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতা হোয়াং দং-হিউক আবারও বড় পর্দার সিনেমা…
This website uses cookies.