জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সংশয় তৈরি হয়েছে। জোটের শরিক খেলাফত মজলিস এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন জোটের কর্মসূচিতে আর অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতারা বলছেন, এখনই ১১-দলীয় ঐক্য ভেঙে যাচ্ছে বা নতুন কোনো রাজনৈতিক জোট হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। অন্যদিকে জামায়াত দাবি করছে, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ না নিলেও তারা জোটে রয়েছে।
১১-দলীয় ঐক্যে মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ ও আহমদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিসের অসন্তোষ নতুন নয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসন সমঝোতা ও সংরক্ষিত নারী আসনে প্রত্যাশিত ছাড় না পাওয়ায় দলটির মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তাদের অভিযোগ, জোটে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে অংশ নিতে পারে—এমন ধারণাও তাদের অসন্তোষ বাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গতকাল কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে দলটি ১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের জন্য প্রয়োজন হলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় দলটি।
খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী জানান, খেলাফত মজলিস এখন থেকে এককভাবে কর্মসূচি দেবে। এসব কর্মসূচিতে অন্য দলের কেউ এসে বক্তব্য দিতে পারবেন, খেলাফতের নেতারাও চাইলে অন্য দলের কর্মসূচিতে যেতে পারবেন। হেফাজতের উদ্যোগে ৭-দলীয় ঐক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো ঐক্য প্রক্রিয়া চূড়ান্ত নয় এবং সামনে কী হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
এর আগে গত জুনে ১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। দলটি তখন জোটের কর্মসূচিতে তাদের নাম ব্যবহার না করারও অনুরোধ জানায়। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা না হওয়া এবং উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন ঐক্য হলে এবং সেটি হেফাজতের জ্যেষ্ঠ আলেমদের তত্ত্বাবধানে থাকলে তারাও সেই ঐক্যে থাকবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের আলোচনা শুরু হয়। প্রথমে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ আট দলের ঐক্য গড়ে ওঠে। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি ও এলডিপি যুক্ত হলে সেটি ১১-দলীয় ঐক্যে রূপ নেয়। তবে সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আসন ভাগাভাগির বিরোধে ইসলামী আন্দোলন ভোটের আগেই জোট ছাড়ে। পরে বাংলাদেশ লেবার পার্টি যোগ দিলে জোটে সদস্য দল ১১টিই থাকে।
এদিকে ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশ নেয়। হেফাজত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ কমিয়ে ভবিষ্যতে একসঙ্গে চলার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। প্রতিটি দলের কাছে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানান, ইসলামপন্থী দলগুলো যাতে ধর্মের বিষয়ে এক থাকে, পরস্পর কাদা ছোড়াছুড়ি না করে, সে জন্য হেফাজতে ইসলাম দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্তত তিনজন নেতা মনে করেন, অতীতেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি। নেতৃত্ব, রাজনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং বিভিন্ন দলের ভিন্ন অবস্থানের কারণে এবারও উদ্যোগটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে থাকা কওমি ধারার দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া কিংবা নতুন জোট করার চিন্তা তাঁরা করছেন না। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার জানান, এখন পর্যন্ত ১১-দলীয় ঐক্য ছেড়ে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আর ৭ দলের যে ঐক্যের কথা বলা হচ্ছে, সেটিও এখনো চূড়ান্ত নয়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ১১-দলীয় ঐক্যের এজেন্ডা হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। হেফাজতের উদ্যোগে যে ঐক্যের রূপরেখা, সেটি ধর্মীয় বিষয়ে বোঝাপড়া। তবে রাজনৈতিক ঐক্যের কোনো আলোচনা হয়নি।
১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এসব দল জোটে আছে, সংসদে আছে। তবে কিছু কারণে তারা কর্মসূচিতে থাকছে না। ৭-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগের পেছনে বিএনপি সরকারের ইন্ধন আছে বলে সন্দেহ করছেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, বিরোধী দলের আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক পন্থায় মোকাবিলা করতে না পেরে সরকার ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছে। পেছন থেকে ইন্ধন দিচ্ছে।
আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের দীর্ঘদিনের ডিফেন্ডার নিকোলাস তালিয়াফিকো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে সদর দপ্তরের কাছে একটি সন্দেহজনক স্যুটকেস ঘিরে বোম…
মানবজীবনে যাতায়াতের জন্য রাস্তাঘাট অপরিহার্য। এই পথকে নিরাপদ ও নিষ্কণ্টক রাখা ইসলামের অন্যতম নির্দেশ। ইসলামে…
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ডাকাতি ও প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আসামিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
নতুন মৌসুমের শুরুতেই ইউরোপীয় ফুটবলে গোলবন্যা বইয়ে দিচ্ছে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ। রাফিনিয়া, লামিনে ইয়ামাল ও ফেরমিন…
জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক…
This website uses cookies.