এইচ-১বি ভিসা-ধারীদের ‘চুক্তিভিত্তিক দাস’ হিসেবে অভিহিত করায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যায়িত করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন অর্থনীতিতে অভিবাসী কর্মীদের বিশাল অবদানের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। জেডি ভ্যান্সের এমন মন্তব্যের পর ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতিরিক্ত মাখামাখি বন্ধ করার দাবি তুলেছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেদনাদায়ক ঐতিহাসিক এবং ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকারের ইঙ্গিত বহন করে এমন পরিভাষা ব্যবহার করা অত্যন্ত আপত্তিকর। সম্প্রতি ওয়াশিংটন এমন একটি কর্মসূচির আওতায় আবেদন গ্রহণ স্থগিত করেছে, যার মাধ্যমে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বসবাসের অনুমতির (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) জন্য স্পন্সর করতে পারত। এই সিদ্ধান্তের মধ্যেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এমন মন্তব্য এলো।
যুক্তরাষ্ট্রের আইটি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আমেরিকান কর্মীদের বদলে বিদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে ভিসা ব্যবস্থাকে কাজে লাগানোর অভিযোগ তুলেছেন জেডি ভ্যান্স। মাইক্রোসফট, ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), উইপ্রো এবং এইচসিএল-সহ আটটি বৃহৎ আইটি প্রতিষ্ঠানের জন্য মার্কিন শ্রম বিভাগের ‘পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’ (যা ‘পার্ম’ নামে পরিচিত) স্থগিত করার বিষয়টিকে সমর্থন জানান ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব কোম্পানির উচিত ‘বিদেশি চুক্তিবদ্ধ দাস’ দিয়ে আমেরিকান কর্মীদের প্রতিস্থাপন না করে বরং ‘দক্ষ আমেরিকান কর্মীদের’ নিয়োগ দেওয়া।
এর জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীদের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, এই পেশাজীবীরা অত্যন্ত দক্ষ এবং তারা মার্কিন অর্থনীতি ও উদ্ভাবনী ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। আমেরিকার নিজস্ব ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ভারত বলেছে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অভিবাসীরা তাদের শ্রম, উদ্যম ও উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন。
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই ভিসা ব্যবস্থা যেমন ভারতীয়দের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্যও অত্যাধুনিক মেধা, উদ্ভাবন, গবেষণা, উৎপাদনশীলতা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সমানভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এটি যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদ বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। তাই এটি উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত পারস্পরিক সুবিধাজনক একটি ক্ষেত্র। তবে ওয়াশিংটনের ঘোষিত সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো তাদের যৌথ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক নয় এবং তা উভয় দেশের পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করছে বলে সতর্ক করেছে ভারত।
পটুয়াখালীর দশমিনায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগে আট জেলেকে আটক…
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, গণতন্ত্রের সূতিকাগার স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে…
১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে রোববার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জাতীয়…
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নেতা কর্মীদের মধ্যে বিভেদ দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে একক প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত…
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ…
আমদানি নির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমিয়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে চায় সরকার। আগামী এক থেকে দুই…
This website uses cookies.