বাংলাদেশের বিদ্যমান সংকটের পেছনে ঐতিহাসিক কোনো কারণ নয়, বরং ১৯৯১ সাল থেকে শুরু হওয়া রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনীতিকীকরণই মূল দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তাঁর মতে, ২০০৯ সালের পর এই ব্যবস্থা পুরোপুরি একটি দলের যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আমলাতন্ত্রকে সংস্কারবিরোধী এবং রাজনৈতিক প্রভুদের অনুগত বা তাঁবেদার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
রবিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের মেঘনা কক্ষে আয়োজিত 'বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন'-এর দ্বিতীয় দিনে 'দ্য অথরস টেবিল' শীর্ষক সেশনে তিনি এই বক্তব্য দেন। 'বাংলাদেশ কি চক্র ভাঙতে পারবে?' শিরোনামের এই সেশনে তাঁর লেখা 'এ ফ্র্যাকচারড পাথ' বইয়ের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে ব্যর্থতার কারণ, প্রধান শক্তিগুলোর ভূমিকা, কাঠামোগত বাধা এবং চলমান উত্তরণ প্রক্রিয়া কীভাবে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আমলাতন্ত্রের তীব্র সমালোচনা করে আলী রীয়াজ বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ মাস এবং বিশেষ করে শেষ ৯ মাস আমলাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি এই মন্তব্য করছেন। এত বড় গণঅভ্যুত্থান এবং জনগণের পক্ষ থেকে পুরনো ব্যবস্থাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করার পরও আমলাদের মধ্যে পরিবর্তনের কোনো সদিচ্ছা তিনি দেখেননি। বরং সংস্কারের প্রতিটি পদক্ষেপে তারা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমলারা আমলাতন্ত্রের নিয়ম মেনে চলার চেয়ে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তাদের রাজনৈতিক প্রভুদের সেবা করতেই বেশি পছন্দ করেন। তাই সত্যকে আড়াল না করে তাদের এই সংস্কারবিরোধী রূপটি সবার সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ এই সংকটের চক্র ভেঙে বের হতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোকে তাড়াহুড়ো বলে মনে করেন। তিনি নিজে আশাবাদী বলেই সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে কাজ করেছেন। তবে এই চক্র ভাঙার ক্ষেত্রে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, একই কাজ বারবার করে ভিন্ন ফলাফল আশা করা বোকামি। স্বৈরতান্ত্রিক নীতি ব্যবহার করলে ফলাফল সবসময় স্বৈরাচারই হবে।
জনগণের আকাঙ্ক্ষার পক্ষে তিনটি ইঙ্গিতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানটি ছিল কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ছাড়াই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের সরাসরি প্রত্যাখ্যানের বহিঃপ্রকাশ। যদিও পরে দলগুলো আবার সেই জায়গা দখল করেছে। দ্বিতীয়ত, গণভোটে সাত কোটি মানুষের রায় (পাঁচ কোটি হ্যাঁ এবং দুই কোটি না) জনগণের সুস্পষ্ট বার্তা দেয়। তৃতীয়ত, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ছাড়া গণতান্ত্রিক উত্তরণ অসম্ভব। দেশের বর্তমান সংবিধানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। রাষ্ট্রপতির নামে নিয়োগ হলেও মূলত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই হয়ে থাকে। নির্বাহী বিভাগের এই অতিমাত্রার নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে সত্যিকারের স্বাধীনতা বা গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়। উপজাতীয় রাজনীতি (ট্রাইবাল পলিটিক্স) শব্দবন্ধটি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, দেশে এখনো দলীয় রাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের বড় অভাব রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশের পর সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা…
সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দাবি করা…
জাপানের নাগোয়ায় সমাপ্ত হলো ২০তম এশিয়ান গেমস। চীনের নিরঙ্কুশ আধিপত্য, বাংলাদেশের একটি ব্রোঞ্জ এবং আয়োজকদের…
তরুণদের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত করতে আগামী ১৬ ও ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি…
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় কর্নেল অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে। আগ্রহীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে…
৪৮তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে কর্মরত ডা. শাহজিয়া শাহরিন আনিকা দেড় মাসের সংক্ষিপ্ত প্রস্তুতিতে ক্যাডার হওয়ার…
This website uses cookies.