দীর্ঘ দেড় দশকের শ্বাসরুদ্ধকর অধ্যায় পার করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। তবে ক্ষমতার এই মসনদ দলটির জন্য মোটেও সহজ প্রমাণিত হচ্ছে না। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি বর্তমানে এক জটিল ও ত্রিমুখী মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখোমুখি হয়েছে, যাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এক ‘তথৈবচ’ অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করছেন। সমসাময়িক বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রচলিত প্রবাদ ‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’-এর মতো পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে বিএনপির জন্য, যেখানে জলে রয়েছে আওয়ামী লীগ এবং ডাঙায় জামায়াত।
রাষ্ট্রযন্ত্রের দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটলেও প্রশাসনের অন্দরমহলে দীর্ঘ দেড় দশকের আওয়ামী শাসনের শেকড় রয়ে গেছে। প্রশাসন, police, বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র, শিক্ষাঙ্গন ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে গড়ে ওঠা এই বিশাল নেটওয়ার্ক বা ‘ডিপ স্টেট’ এখন বিএনপির জন্য ‘জলের নিচে ঘাপটি মেরে থাকা কুমির’-এর মতো কাজ করছে। প্রশাসনের ভেতরে থাকা পূর্বতন সরকারের সুবিধাভোগীরা সুকৌশলে বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক উদ্যোগে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করছে। ফাইলে সই না হওয়া, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা কিংবা কৃত্রিমভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঘটিয়ে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা এই অদৃশ্য শক্তির চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই শক্তিকে পুরোপুরি নির্মূল করা যেমন কঠিন, তেমনি তাদের সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করাও দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে, রাজপথ বা ‘ডাঙা’য় বিএনপির জন্য অস্বস্তি বাড়াচ্ছে তাদের একসময়ের দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামী। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতায় জামায়াত এখন নিজেদের একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া। আওয়ামী লীগের পতনের পর সৃষ্ট ডানপন্থী ও ইসলামি মূল্যবোধের রাজনৈতিক মাঠে তারা অত্যন্ত সুসংগঠিত ও আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে এখন বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের নীরব ও সরব লড়াই চলছে। গণতান্ত্রিক সহনশীলতার ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে বিএনপি যেমন জামায়াতকে শক্ত হাতে দমন করতে পারছে না, তেমনি তাদের এই আগ্রাসনকে ছাড় দিলে নিজেদের রাজনৈতিক জমিও হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।
দলের বাইরের এই সাঁড়াশি আক্রমণের পাশাপাশি বিএনপির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও বেশ নাজুক। দীর্ঘ দেড় দশক ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে দলটির মধ্যে প্রশাসনিক অনভিজ্ঞতা, সিদ্ধান্তহীনতা ও সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পাচ্ছে। ক্ষমতার পালাবদলের পর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কিছু অতি-উৎসাহী নেতাকর্মীর মধ্যে রাতারাতি সম্পদ ও আধিপত্য দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বারবার সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তা বাতিলের ঘটনা দলটির এই অসহায়ত্বকে জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিচ্ছে।
এই জটিল রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিএনপিকে সবার আগে দলের ভেতরে কঠোর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রশাসনের ভেতরের অদৃশ্য অন্তর্ঘাতকদের মোকাবিলা করতে হবে হঠকারী শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে নয়, বরং প্রজ্ঞাবান ও কৌশলী প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে। একই সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক উত্থানকে পেশিশক্তি দিয়ে নয়, বরং আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক দর্শনের মাধ্যমে আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করার প্রয়োজন। এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হলে তা দলটির জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক ট্র্যাজেডিতে পরিণত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোর দায়িত্ব থাকলেও তাদের হাতে তাৎক্ষণিক ব্যয়যোগ্য পর্যাপ্ত অর্থ নেই।…
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের দায়বদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী…
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে জামাল হাওয়ার্ড নামে এক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।…
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে,…
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও চলমান সংঘাতের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, শান্তিতে…
গত ৩০শে সেপ্টেম্বর টেনেসিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর ক্রিস্টা পাইক বর্তমানে…
This website uses cookies.