Header Premium (728×90)

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতিতে স্থানীয় পর্যায়ে আর্থিক সক্ষমতার অভাব

ঘূর্ণিঝড় মৌসুম আবার সামনে চলে এসেছে। উপকূলের মানুষের কাছে এটি কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা নয়, বরং সতর্কসংকেত পাওয়ার পর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি সহায়তা প্রস্তুত রাখার এক কঠিন পরীক্ষা। বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি ব্যবস্থা—বিশেষ করে আগাম সতর্কবার্তা, আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বেচ্ছাসেবকভিত্তিক উদ্যোগ—বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। তবে এই সাফল্যের আড়ালে স্থানীয় পর্যায়ে একটি বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। দুর্যোগের সময় সরকারি বরাদ্দের ব্যবস্থা থাকলেও, দুর্যোগ আঘাত হানার ঠিক আগমুহূর্তে স্থানীয় প্রশাসন বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকে না। অথচ ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে দুর্যোগের আগের প্রস্তুতির ওপর।

২০১৯ সালের দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায় থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির ওপর ঝুঁকি মূল্যায়ন, সতর্কবার্তা প্রচার, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠিত করা এবং মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে। কিন্তু সম্পদ ছাড়া কেবল দায়িত্ব অর্পণের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। এই কমিটিগুলোর জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মহড়া এবং মৌলিক সরঞ্জামের প্রয়োজন। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট এবং বিভিন্ন এনজিওর সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, মৌলিক প্রস্তুতির বিষয়টি কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়।

বাংলাদেশে দুর্যোগের পর সাড়াদানকেন্দ্রিক অর্থায়নের পাশাপাশি আগাম প্রস্তুতিতে অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকার উপকূলীয় জেলা ও উপজেলায় আপৎকালীন বরাদ্দ দিয়ে থাকে, তবে তা মূলত দুর্যোগ আঘাত হানার পরের সাড়াদানের জন্য। প্রশ্ন হলো, দুর্যোগের আগে বা চলাকালে স্থানীয় কমিটির জন্য কোনো পূর্বনির্ধারিত তহবিল আছে কি না। কক্সবাজারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আপৎকালীন তহবিলের ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা যেতে পারে, যেখানে স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণের জন্য থাকবে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর।

আশ্রয়কেন্দ্রে সহায়তার ক্ষেত্রেও মানুষের প্রয়োজনের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। শুকনো খাবারের পাশাপাশি নিরাপদ খাবার পানি এবং স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা জরুরি, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য। এছাড়া আগাম নগদ সহায়তাও অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। দরিদ্র পরিবারগুলো নগদ অর্থ পেলে পরিবহন, ওষুধ ও গবাদি পশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার খরচ বহন করতে পারে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও রেড ক্রসের মতো সংস্থাগুলো এর কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।

আসন্ন ঘূর্ণিঝড় মৌসুমকে কেবল সাড়াদান ব্যবস্থার পরীক্ষা হিসেবে না দেখে, প্রস্তুতিতে বিনিয়োগের পরীক্ষা হিসেবে দেখা উচিত। বিদ্যমান শক্তিশালী কাঠামোকে কার্যকর করতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে প্রশিক্ষিত জনবল এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য সম্পদ নিশ্চিত করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার। দুর্যোগ প্রস্তুতি তখনই সফল হয়, যখন ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই অর্থ ও উপকরণ যথাস্থানে প্রস্তুত থাকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্যের ভূমিকা

ইউক্রেন ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায়…

2 minutes ago

রাবিতে সাংবাদিকের ওপর হামলা: ৪ ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার নেতার ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া…

9 minutes ago

সিরাজগঞ্জে সেপ্টেম্বর মাসের শ্রেষ্ঠ সম্মাননা পেলেন ২ পুলিশ কর্মকর্তা

সিরাজগঞ্জে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সেপ্টেম্বর মাসের শ্রেষ্ঠ সম্মাননা পেয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ ও…

10 minutes ago

৩০ বছর পর কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী খোকন

উন্নত জীবন আর স্থায়ী আবাসের স্বপ্ন নিয়ে তিন দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো কাজী আজিজুল…

15 minutes ago

স্মার্ট ডাকসেবার প্রত্যয়ে বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডাক দিবস

স্মার্ট ডাকসেবার প্রত্যয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডাক দিবস-২০২৬। এ উপলক্ষ্যে…

19 minutes ago

ইতালিতে বিতর্কিত নির্বাচনী সংস্কার পাস, বিরোধীদের ‘প্রতারণার’ অভিযোগ

ইতালির পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিতর্কিত নির্বাচনী সংস্কার বিল অনুমোদিত হয়েছে। এই সংস্কারকে…

21 minutes ago

This website uses cookies.