Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আইনি বিষয়, জানাল ভারত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বুধবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার নথি ভারত পেয়েছে কি না এবং সেসব নথির ভিত্তিতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয়। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং ভারত আগেও তাদের অবস্থান জানিয়েছে। একই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী। জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই ভারতের লক্ষ্য।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। তাকে বাংলাদেশে ফেরাতে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। গত জুলাইয়ে ভারত জানিয়েছিল, তারা বাংলাদেশের অনুরোধ পেয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরীক্ষা করছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালে চুক্তিটির একটি ধারা সংশোধন করে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করার ব্যবস্থা করা হয়। সংশোধিত ব্যবস্থায় প্রত্যর্পণের অনুরোধের ক্ষেত্রে অপরাধের বিস্তারিত প্রমাণ দাখিলের বাধ্যবাধকতা কমানো হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়। তবে প্রত্যর্পণ চুক্তিতে কিছু ক্ষেত্রে তা প্রত্যাখ্যানের সুযোগও রয়েছে। চুক্তির ৬ নম্বর ধারায় রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অপহরণ ও সন্ত্রাসবাদের মতো কিছু গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া চুক্তির ৮ নম্বর ধারায় অভিযোগ সৎ উদ্দেশ্যে বা ন্যায়বিচারের স্বার্থে করা হয়নি বলে মনে হলে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। শেখ হাসিনা ওই বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরও শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। দেশটির বক্তব্য, বিষয়টি আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর আগে গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারও জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ আইনি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। তাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ভারত দিতে পারছে না বলেও জানান তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

Recent Posts

উপজেলা পরিষদের সভার কার্যবিবরণী ১৪ দিনের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ

উপজেলা পরিষদের প্রতিটি সভা শেষ হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে সভার কার্যবিবরণী সরকারের কাছে পাঠানোর জন্য…

3 minutes ago

সিলেটের কৃষিপণ্য সরাসরি বিদেশে পাঠাতে ৩৮০ কোটি টাকার প্রকল্প

সিলেটের কৃষিপণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানির পথ সুগম করতে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে প্রায় ৩৮০ কোটি…

8 minutes ago

টেক্সাসে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে বিক্ষোভকারীদের হট্টগোল

টেক্সাসে বুধবার আয়োজিত এক সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বারবার বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।…

15 minutes ago

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের সাড়ে ৮ ফুটের নগ্ন ভাস্কর্য ‘অরেঞ্জ প্লেগ’

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাড়ে আট ফুট উচ্চতার একটি নগ্ন ভাস্কর্য স্থাপন…

17 minutes ago

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ২৩ জানুয়ারি, আবেদন শুরু ১২ অক্টোবর

আগামী ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন। এই সমাবর্তনে অংশ…

23 minutes ago

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা: ৫ শিশুসহ নিহত ৩২

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়া পরিচালিত ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ৫ শিশুসহ অন্তত ৩২ জন নিহত ও…

24 minutes ago

This website uses cookies.