বিদেশে পাচার হওয়া অবৈধ সম্পদ ও অর্থ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া গতিশীল করতে ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’ সংশোধনের বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬ (2026) সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক তথ্য অনুযায়ী, এই সংশোধনীর মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণের প্রচলিত ধারায় পরিবর্তন এনে ‘নিরপরাধ প্রমাণের দায়’ সরাসরি অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপর অর্পণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে আইনটি পাস হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকেই নিজের সম্পদ সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে অর্জিত বা পাচার করা হয়েছে বলে প্রমাণ করতে হবে।
সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় ও অংশীজন সভার কার্যবিবরণী থেকে এই তথ্য জানা গেছে। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে তাদের মতামত দেন। প্রথমে একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারির পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে বিদ্যমান আইনটি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। খসড়া প্রস্তাবে অবৈধ অর্থের হাতবদল বা লেয়ারিং ঠেকাতে কঠোরভাবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানি লন্ডারিংয়ের মতো জটিল অপরাধে অপরাধীরা সাধারণত অর্থের উৎস ও মালিকানা নানা কৌশলে লুকিয়ে ফেলে। ফলে প্রচলিত আইনে প্রসিকিউশনের পক্ষে অপরাধ প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এই আইনি জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা দূর করতেই আন্তর্জাতিক আইন এবং ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো দেশের উদাহরণ অনুসরণ করে এই বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। তবে আইনের কঠোরতার পাশাপাশি মানুষের আইনি সুরক্ষা ও হয়রানি এড়াতে ‘দ্য এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২’-এর আলোকে সামগ্রিক বিধানগুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার আবেদনের সময়সীমাও বাড়ানো হচ্ছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ তাদের সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার আবেদন করার সময় ৩০ দিনের পরিবর্তে ৪৫ দিন পাবেন, যা তাদের আইনি অধিকার সাব্যস্ত করার পর্যাপ্ত সুযোগ দেবে। এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ আমার দেশকে বলেন, সময়ের প্রয়োজনে এবং আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এই ধরনের কার্যকর সংশোধনী আনা অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের মধ্যে আদালতে অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ হওয়া ব্যাংক হিসাব থেকে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ের উপায় নির্ধারণে একটি সাত সদস্যের বিশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সম্প্রতি বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
নবগঠিত এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, দুদকের মানিলন্ডারিং শাখার মহাপরিচালক, বিএফআইইউর প্রধান কর্মকর্তা, এনবিআরের সিআইসির মহাপরিচালক এবং সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) মহাপরিচালক। এই কমিটি বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে অবরুদ্ধ হিসাব থেকে রাষ্ট্রের প্রাপ্য অর্থ আদায় ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করবে, যা পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।
তেলুগু তারকা নানির ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত যাত্রা, তার সম্পদের পরিমাণ, বিলাসবহুল গাড়ি ও…
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কনজ্যুমারস এসোশিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বিপিসির…
শিল্পের সত্য ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি ও তাদের দর্শনের তুলনামূলক…
আওয়ামী লীগের নির্দেশে যারা অগ্নিসংযোগ ও বোমাবাজির মাধ্যমে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে, তাদের কোনো…
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে শুরু…
রাজধানীর বনশ্রীতে পথকুকুরকে খাবার দিতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন এক তরুণী। গত মঙ্গলবার রাতে…
This website uses cookies.