২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর চালানো নির্যাতনকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তৎকালীন এডিসি ইশতিয়াক আহমেদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চালানো এসব নির্যাতন ছিল সুপরিকল্পিত ও বিস্তৃত (ওয়াইডস্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেমেটিক), যা ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত। বুধবার ট্রাইব্যুনালে নিজের দায়ের করা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ওই আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান। এর আগে তিনি চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মামলার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
সাংবাদিকদের কাছে রাশেদ খান অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) বিশেষ টর্চার সেল গড়ে তুলেছিলেন তৎকালীন এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ। বিতর্কিত বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের ছেলে হওয়ার সুবাদে এই পুলিশ কর্মকর্তা ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতেন এবং তা ব্যবহার করে আন্দোলনকারী ও বিরোধী মতের মানুষদের দমন করতেন। শেখ হাসিনার সরাসরি সবুজ সংকেত ছাড়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে ডিএমপির ভেতরে এমন নির্যাতন কক্ষ চালানো অসম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের ওপর নেমে আসা নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তাকে রাজধানীর ভাষানটেক থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রথমে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে এবং পরে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে নেওয়ার পরপরই এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ তার ওপর নৃশংস নির্যাতন চালান।
নির্যাতনের সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা স্মরণ করে রাশেদ খান জানান, সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ভেতরে তার হাত, চোখ ও মুখ গামছা দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয়েছিল, যেন কোনো চিৎকার বাইরে না যায়। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে তাকে ১৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে গিয়েও চরম অত্যাচার করা হয়েছিল।
রাশেদ খান আরও জানান, এডিসি ইশতিয়াকের কার্যালয়টি মূলত একটি নির্যাতন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। শুধু তাকেই নয়, সেখানে যুবদলের নেতাসহ অসংখ্য মানুষকে সবার সামনে এনে নির্যাতন করা হতো। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ড্রোন দিয়ে ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করে হত্যার প্রমাণ নষ্ট করার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের ধারাবাহিকতাতেই ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেন, সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই তিনি এই নির্যাতনের ন্যায়বিচার চান। ট্রাইব্যুনাল থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তার অভিযোগের একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং দ্রুতই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী বাজারে অনিয়মের অভিযোগে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ…
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহীকে…
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করছেন না ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন…
সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী প্রবণতায় থাকলেও তা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার বেশি হওয়ায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে…
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করতে বিদেশি ট্রেডিং পার্টনার ব্যাংকের নামে প্রারম্ভিক জমা ছাড়াই টাকা ভস্ট্র অ্যাকাউন্ট…
পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সীমান্ত চুক্তিকে আইনি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। বিতর্কিত…
This website uses cookies.