Header Premium (728×90)

নেপালের জীবন্ত দেবী কুমারী: এক অনন্য আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের গল্প

নেপালের কাঠমান্ডুর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মন্দিরে বসবাস করেন কুমারী, যাকে বিশ্বের একমাত্র জীবন্ত দেবী হিসেবে গণ্য করা হয়। হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় ধর্মের অনুসারীদের কাছে তিনি দেবী তলেজু বা দুর্গার সাক্ষাৎ রূপ হিসেবে পূজিত হন। ভক্তরা তাঁর আশীর্বাদ লাভের আশায় নিয়মিত মন্দিরে ভিড় করেন এবং বিশেষ মুহূর্তে বারান্দার জানালা দিয়ে তাঁর একঝলক দর্শন পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন।

এই প্রথাটির পেছনে রয়েছে শতবর্ষ পুরোনো ইতিহাস। প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, প্রাচীন নেপালের রাজারা দেবী তলেজুর পরম ভক্ত ছিলেন এবং দেবী প্রায়ই রাজপ্রাসাদে আসা-যাওয়া করতেন। তবে রাজা জয়প্রকাশ মল্লের সঙ্গে এক মনোমালিন্যের পর দেবী অদৃশ্য হয়ে যান। পরবর্তীতে রাজা ক্ষমা প্রার্থনা করলে দেবী স্বপ্নে তাঁকে নির্দেশ দেন যেন এমন এক ছোট কন্যাকে নির্বাচন করা হয় যার শরীরে তিনি ভর করতে পারেন। ১৬০০ শতকে রাজা জয়প্রকাশ মল্লের হাত ধরেই এই কুমারী প্রথার সূচনা হয়।

কুমারী নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠোর এবং নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে পরিচালিত হয়। জ্যেষ্ঠ বৌদ্ধ পুরোহিত এবং হিন্দু কর্মকর্তাদের একটি পরিষদ এই দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচিত কন্যাকে অবশ্যই নেওয়ার সম্প্রদায়ের শাক্য বা বজ্রাচার্য বংশের হতে হয়। জ্যোতিষীদের দ্বারা কোষ্ঠী যাচাইয়ের মাধ্যমে তাঁর যোগ্যতা নিশ্চিত করা হয়। অতীতে রাজার কোষ্ঠীর সঙ্গে কুমারীর কোষ্ঠীর মিল থাকাটাও বাধ্যতামূলক ছিল।

বর্তমানে আর্যতারা শাক্য কুমারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাত্র দুই বছর আট মাস বয়সে তাঁকে নির্বাচিত করা হয়। তিনি পূর্ববর্তী কুমারী তৃষ্ণা শাক্য-এর স্থলাভিষিক্ত হন, যিনি ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ১১ বছরে পদার্পণ করেছেন। আর্যতারা এখন 'রয়্যাল' বা 'সুপ্রিম' কুমারী নামে পরিচিত।

কুমারী ঐতিহ্যগতভাবে সোনালী কারুকাজ করা লাল পোশাক পরিধান করেন। তাঁর চুল সবসময় খোঁপা করা থাকে এবং কপালে আঁকা 'তৃতীয় নেত্র' বা তিন নম্বর চোখটি তাঁর আধ্যাত্মিক দূরদর্শিতার প্রতীক। তিনি কাঠমান্ডুর বসন্তপুর দরবার স্কয়ারের তলেজু মন্দিরে বা কুমারী ঘরে বসবাস করেন।

আধুনিক যুগে এই প্রথাটি কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে কুমারী ঘরের ভেতরেই তাদের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পর তারা তাদের ইচ্ছামতো পড়াশোনা ও কাজ করতে পারেন। এমনকি তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার স্বাধীনতাও রাখেন। তবে সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কারের কারণে তাদের জন্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাটা অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্ত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রাচীন এই প্রথাটিকে আধুনিকীকরণের পাশাপাশি নেপালের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

Recent Posts

মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী বাজারে অনিয়মের অভিযোগে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ…

2 hours ago

নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহীকে…

3 hours ago

নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ

যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করছেন না ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন…

3 hours ago

মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী প্রবণতায় থাকলেও তা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার বেশি হওয়ায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে…

3 hours ago

টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করতে বিদেশি ট্রেডিং পার্টনার ব্যাংকের নামে প্রারম্ভিক জমা ছাড়াই টাকা ভস্ট্র অ্যাকাউন্ট…

3 hours ago

পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সীমান্ত চুক্তিকে আইনি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। বিতর্কিত…

3 hours ago

This website uses cookies.