চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আজ শনিবার ভারতে আসছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি তার তৃতীয় ভারত সফর এবং দীর্ঘ সাত বছর পর প্রথম। ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনে অংশ নেওয়াই তার সফরের আনুষ্ঠানিক কারণ হলেও, ২০২০ সালের সীমান্ত অচলাবস্থার পর দুই দেশের তলানিতে ঠেকে যাওয়া সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সফর দ্বিপক্ষীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝে ভারত-চীন সম্পর্কের এই ফাটল সম্মেলনের গতিপথ নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০০১ সালে গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা ভারত, চীন, ব্রাজিল ও রাশিয়াকে ‘উদীয়মান অর্থনীতি’ হিসেবে চিহ্নিত করার মাধ্যমে ব্রিক জোটের ভিত্তি গড়েছিলেন। ২০০৯ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের ছায়ায় প্রথম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২৫ বছর পর এই চার দেশের যাত্রাপথ ভিন্নমুখী হয়েছে। চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক পরাশক্তি হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রদর্শন করছে। বিপরীতে ভারত অর্থনৈতিকভাবে এগিয়েছে ঠিকই, কিন্তু চীনের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। রাশিয়া ও ব্রাজিলও নিজস্ব অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সীমান্ত অচলাবস্থার কারণে ভারতকে বারবার চীনের শক্ত ও আগ্রাসী অবস্থানের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধ ও ১৯৬৭ সালের সিকিম সংঘর্ষের পর ২০১৩ সালের দেপসাং, ২০১৪ সালের চুমার, ২০১৭ সালের ডোকলাম এবং ২০২০ সাল থেকে পূর্ব লাদাখে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। পূর্ব লাদাখে এখনো প্রায় ৫০ হাজার ভারতীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে। ২০২০ সালের জুনের সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা ও অন্তত চারজন চীনা সেনা নিহত হয়েছিল। ২০২৪ সালে সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সেনাদের বিচ্ছিন্নকরণ বা ডি-এনগেজমেন্ট শুরু হলেও কাঠামোগত মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এর মধ্যে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি এবং চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর ভারতের বিধিনিষেধ অন্যতম।
কৌশলগত ও রাজনৈতিক আস্থার সংকট ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতে চীনের ভূমিকা এই আস্থাহীনতাকে আরও গভীর করেছে। বর্তমানে ৩০টিরও বেশি দেশ ও জোটের নেতারা এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। ডনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন সরকারের বিভিন্ন শুল্কনীতি চীন ও ভারত উভয়কেই চাপে ফেলেছে, ফলে কিছু ক্ষেত্রে তারা একই অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। তবে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে। জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ২০২৩ সালের সম্প্রসারণের ফলে জোটের বর্তমান ১১ সদস্যের কাঠামো তৈরি হয়।
ভারত ব্রিকসকে একটি ‘অ-পশ্চিমা’ জোট হিসেবে দেখলেও, চীন ও রাশিয়া একে ‘পশ্চিমবিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ভারত পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রেখে প্রযুক্তি ও পুঁজির প্রবাহ নিশ্চিত করতে চায়। তাই বেইজিংয়ের তুলনায় ভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং চীনের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ব্রিকস জোটের ঐক্য ধরে রাখাই এখন দিল্লির বড় পরীক্ষা।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালনা পর্ষদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ব্যাংকের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম…
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন…
রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আধুনিকায়ন করতে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন…
গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রম এলাকায় ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর…
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের ভাষণের সময় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার…
মাগুরার শ্রীপুরে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ ও কীটনাশক…
This website uses cookies.