রাজধানীর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ইসমাইল হোসেনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—বাসচালক সোহেল রানা (৪০), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৮) এবং হেলপার মোহাম্মদ মনির হোসেন (১৮)। রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।
পুলিশ জানায়, গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাইক বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইল হোসেন যাত্রী হিসেবে রাজ ক্লাসিক বাসে ওঠেন। পথিমধ্যে সুপারভাইজার সাজু ভাড়া চাইলে ইসমাইল তার কোমরের লুঙ্গির কোছা বা ভাঁজ থেকে টাকা বের করে দেন। এ সময় তার কাছে অনেক টাকা দেখে সুপারভাইজার বিষয়টি বাসচালক সোহেল রানাকে জানান। তারা ধারণা করেন ইসমাইল কোনো বড় ব্যবসায়ী এবং তার কাছে প্রচুর টাকা রয়েছে। এরপরই তারা ইসমাইলকে লুট ও হত্যার পরিকল্পনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আসামিরা ইসমাইলকে আশ্বস্ত করে ঘুমিয়ে যেতে বলেন এবং জানান যে গন্তব্যে পৌঁছালে তাকে ডেকে দেওয়া হবে। ইসমাইল ঘুমিয়ে পড়লে বাসের অন্য যাত্রীদের একে একে নির্ধারিত স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ফাঁকা বাসে ঘুমন্ত ইসমাইলের মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। পরে গামছা দিয়ে গলা পেঁচিয়ে তার শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার।
হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর আসামিরা বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠে এবং বনানীর দিকে যায়। পরে আবার উল্টো পথে বিমানবন্দরের দিকে ফেরার সময় এক্সপ্রেসওয়ের ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি স্থানে ইসমাইলের মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়। ওইদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে বনানী থানা পুলিশ এক্সপ্রেসওয়ের স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আঙুলের ছাপের (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সাহায্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
ঘটনার পর বনানী থানা পুলিশ এক্সপ্রেসওয়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসটিকে সন্দেহজনক হিসেবে শনাক্ত করে। পরবর্তীতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসটি জব্দ করার পাশাপাশি সুপারভাইজার সাজু ও হেলপার মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পৃথক অভিযানে চালক সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক হোসেন জানান, ইসমাইলের কাছে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা থাকলেও আসামিরা প্রাথমিকভাবে প্রায় আড়াই লাখ টাকা লুটের কথা স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গ্রেপ্তারকৃত চালক সোহেলের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি ও দুটি মাদক মামলাসহ দুটি ওয়ারেন্ট রয়েছে এবং সুপারভাইজার সাজুর বিরুদ্ধেও দুটি ডাকাতি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আগামীকাল শুরু হচ্ছে। মহা ষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের…
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীর ছেলে ও…
পাকিস্তানের পেশোয়ারে দির কলোনিতে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ শিশুসহ ২৯ জন নিহত হয়েছেন।…
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি ও ছড়ানোর বিরুদ্ধে সরব…
সৌদি আরবের মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ ও পবিত্রতা লঙ্ঘনের দায়ে নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর…
বকেয়া বেতন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা।…
This website uses cookies.