আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে 'মুজিববর্ষ' পালনের নামে বিপুল অর্থ অপচয় এবং দলীয় তোষামোদের বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত 'নজরুলবর্ষ'কে একটি অর্থবহ ও স্থায়ী জাতীয় কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিগত সরকারের অতি-উৎসাহী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এই দুই বর্ষ উদযাপনের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তাদের নেতাকে অতিমানবীয় স্তরে উন্নীত করতে ২০২০ সালে 'মুজিববর্ষ' ও বিশেষ 'মুজিব পঞ্জিকা'র প্রস্তাব করেছিল। এই পঞ্জিকার ১২টি মাসের নামকরণ করা হয়েছিল— স্বাধীনতা, শপথ, বেতারযুদ্ধ, যুদ্ধ, শোক, কৌশলযুদ্ধ, আকাশযুদ্ধ, জেলহত্যা, বিজয়, ফিরে আসা, নবযাত্রা ও ভাষা। পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৭ মার্চ থেকে স্বাধীনতা মাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। সমালোচকরা মনে করেন, কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা না এলে এই পঞ্জিকা জোরপূর্বক চাপিয়ে দিয়ে বাংলা সনের ঐতিহ্যবাহী মাসগুলোর নাম ভুলিয়ে দেওয়ার এক অপচেষ্টা চালানো হতো।
মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে সে সময় তোষামোদের এক নজিরবিহীন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। আকাশ থেকে মুজিবের আত্মা নামানোর মতো অবৈজ্ঞানিক দাবি থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি রেলস্টেশনে মূর্তি স্থাপন এবং প্রতি ১০০ মিটার পরপর মূর্তি বসানোর মতো পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছিল। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা স্থগিত হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২৬-২৭ মার্চ তিনি বাংলাদেশ সফর করেন, যা মুজিববর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয়েছিল।
সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু জানিয়েছেন, মুজিববর্ষ উদযাপনে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, করোনা পরিস্থিতি না থাকলে এই ব্যয় পাঁচ গুণ বেড়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকায় ঠেকত। এই বিপুল খরচের বিরোধিতা করলেই তাদের 'রাজাকারের শাবক' আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করার হুমকি দেওয়া হতো। এছাড়া করোনা মহামারিকে অনেকে এক ধরনের ঐশ্বরিক আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন, যা দেশকে মূর্তির বন্যায় ভেসে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছে এবং তৎকালীন সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তির দাপটের অবসান ঘটিয়েছে।
এর বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের মে থেকে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত সময়কে 'নজরুল বর্ষ' হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তবে এই আয়োজন যেন কেবল কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন, ফুল দেওয়া বা গতানুগতিক আলোচনা সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নজরুলকে সত্যিকার অর্থে ধারণ করতে হলে তার সাহিত্য, সংগীত, সাংবাদিকতা ও সাম্যবাদী চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এজন্য नजরুলের পূর্ণাঙ্গ জীবনী রচনা এবং একটি জাতীয় ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলা জরুরি।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তারেক রহমানকে 'আমাদের নজরুল' বলে অভিহিত করায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে একে বিগত সংসদের তোষামোদি সংস্কৃতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে কবি নজরুল ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তুলনা বেখাপ্পা হলেও তাদের মধ্যে একটি আদেশিক ও আত্মিক মেলবন্ধন রয়েছে। ১৯২৬ সালের দিকে ঢাকা বিভাগের মুসলমান কেন্দ্র থেকে ভারতীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য হতে কবি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন ঢাকা বিভাগ থেকে কেন্দ্রীয় আইন সভায় মুসলমানদের জন্য দুটি আসন সংরক্ষিত ছিল এবং মোট ১৮ হাজার ১১৬ জন ভোটার ছিলেন, যেখানে প্রত্যেক ভোটার দুটি করে ভোট দিতে পারতেন। ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্বরাজ দলের পাণ্ডারা পিছুটান দেওয়ায় এবং প্রতিশ্রুত অর্থ না পাওয়ায় নির্বাচনে কবির জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। নজরুল যে শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ তারেক রহমানের সামনে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ এসেছে।
কবি নজরুলের প্রতি এই আত্মিক টানের উত্তরাধিকার তারেক রহমান তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে পেয়েছেন। জিয়াউর রহমানই কবির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে সমাহিত করেছিলেন। এই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে গিয়ে ১২৭তম থেকে ১২৮তম জন্মবার্ষিকীর মধ্যবর্তী সময়কে নজরুলবর্ষ ঘোষণা করেছেন এবং ত্রিশালকে লন্ডনের কেমব্রিজ বা অক্সফোর্ডের আদলে একটি জ্ঞানভিত্তিক 'নজরুল সিটি' হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া নজরুলের কাঙ্ক্ষিত 'উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল' থামানো সম্ভব নয়। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার দুর্নীতি ও অনিয়ম রাতারাতি দূর করা কঠিন, কারণ শাসন ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনও পুরোনো দোসররা রয়ে গেছে। তারেক রহমানের সাফল্য নির্ভর করবে কত দ্রুত তিনি এই অপশক্তিকে চিহ্নিত করতে পারেন। একই সঙ্গে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক রূপ তুলে ধরার পাশাপাশি তার প্রতিবাদী সত্তা ও প্রবন্ধ সাহিত্যকে জনগণের সামনে আনা প্রয়োজন, যা দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ মহলের স্বার্থে আড়াল করে রাখা হয়েছিল।
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচটি আজ বেলা ১১টায় সরাসরি সম্প্রচার…
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর সাত মাস পর উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পানি ও…
রাজধানীর বাংলামটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তরা তিনটি ককটেল ছুড়েছে। এর মধ্যে…
পাকিস্তান আমলে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকশ্রেণি কীভাবে বাংলা ভাষা ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রতি ঔপনিবেশিক ও বর্ণবাদী…
২০২৬ সালের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স অনুযায়ী, ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮৪তম অবস্থানে রয়েছে। সূচকে বাংলাদেশের…
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ দেশের লাভজনক স্থাপনা বিদেশি কোম্পানির কাছে লিজ দেওয়ার পদক্ষেপকে আত্মঘাতী…
This website uses cookies.