সিলেটে শাহপরান এলাকায় প্রবীণ ফাস্টফুড ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক রেস্টুরেন্ট কর্মচারী জালাল আহমদ। বুধবার বিকালে সিলেটের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জালাল জানায়, তাদের পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
নিহত শাহাবউদ্দিন সিলেট নগরের শাহপরান মাজার রোডের একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যবসায়ী ছিলেন এবং ওই এলাকায় তার একটি ফাস্টফুডের দোকান রয়েছে। গত সোমবার মধ্যরাতে দোকান বন্ধ করে ছড়ারপাড়ের বাসায় ফেরার পথে রেইনকোট পরিহিত জালাল আহমদ তাকে রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পর এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ভার্চ্যুয়াল তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে, রেইনকোট পরা হত্যাকারী ব্যক্তিটিই রেস্টুরেন্ট কর্মচারী জালাল আহমদ।
হত্যাকাণ্ডের পর জালাল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে রেস্টুরেন্ট মালিকের সহযোগিতায় মঙ্গলবার রাতে তাকে পুনরায় শাহপরানের ওই রেস্টুরেন্টে নিয়ে আসা হয়। তার উপস্থিতির খবর পেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। জালাল আত্মরক্ষার্থে রেস্টুরেন্টের পেছনে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত জনতা চারপাশ ঘেরাও করে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশের কাছে হস্তান্তরের আগেই উত্তেজিত জনতার জিজ্ঞাসাবাদে সে খুনের কথা স্বীকার করে। পরে পুলিশ তাকে এ মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখায়।
গ্রেফতারের পর জালালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করে। বুধবার সকালে পুলিশ তাকে সাথে নিয়ে খুনে ব্যবহৃত রামদা উদ্ধারে অভিযানে নামে। জালালের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর ফেলে দেওয়া পাশের একটি ডোবা থেকে রক্তমাখা রামদাটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় সেখানে শত শত উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল বেলা দুইটায় নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম জানান, পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও জানান, আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে এবং পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে জালাল তার হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। সে জানায়, সুনামগঞ্জের বাসিন্দা জালাল গত ১০-১২ বছর ধরে শাহপরানের ওই রেস্টুরেন্টে কাজ করে আসছিল। এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে পুলিশ ও পরে আদালতে ঘাতক জালাল জানিয়েছে- হোটেলে প্রায় ৭-৮ বছর ধরে বাবুর্চির কাজ করছেন রেহেনা পারভীন নামের এক নারী। বছর সাতেক আগে রেহেনার স্বামী মারা যাওয়ার পর জালালের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়ায়। এই সম্পর্কের কারণে সুনামগঞ্জে থাকা নিজের স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন জালালকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেয় না। ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিন তাদের এই অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানতেন এবং প্রায়ই তাদের গালিগালাজ ও শাসন করতেন। জালাল ব্যবসায়ীকে জানিয়েছিল যে সে রেহেনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারবে না। এরপরও শাহাবউদ্দিন তাদের শাসন করা অব্যাহত রাখলে ক্ষিপ্ত হয়ে জালাল তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং সোমবার রাতে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটোয়ারটেক সৈকত এলাকার একটি কাঠের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে,…
বিএনপি নেত্রী ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির শূন্য সংরক্ষিত আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থীদের ২০ হাজার টাকা জামানত দেওয়ার…
দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ফের বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী,…
সাংবাদিক লুৎফুর জামান ফকিরকে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা।…
ফেসবুক ব্যবহারকারীর মৃত্যুর পর তার প্রোফাইলটি স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করা বা চিরতরে ডিলিট করার বিষয়ে…
ভারত ও চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পথ তৈরি করা একটি বিতর্কিত আইনের প্রয়োগ…
This website uses cookies.