Header Premium (728×90)

বাথরুমে হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার কারণ ও সুরক্ষার উপায়

বাথরুমে গিয়ে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া বা জ্ঞান হারানোর মতো ঘটনা অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং যারা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের জন্য এটি বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বাথরুমে গোসল করার কারণে সরাসরি স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি না থাকলেও পরিবেশগত ও শারীরিক কিছু পরিবর্তনের কারণে সেখানে আকস্মিক অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে হঠাৎ দ্রুত দাঁড়িয়ে গেলে সাময়িকভাবে রক্তচাপ কমে যেতে পারে, যাকে 'অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন' বলা হয়। এর ফলে মাথা ঘোরানো, চোখের সামনে অন্ধকার দেখা বা সাময়িকভাবে অচেতন হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত জোর দিলে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা হৃদরোগীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত গরম পানিতে দীর্ঘ সময় ধরে গোসল করলে শরীরের রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়ে যায়, যা রক্তচাপ কমিয়ে দেয় এবং শরীর দুর্বল করে ফেলে। একইভাবে হঠাৎ খুব ঠান্ডা পরিবেশে যাওয়াও শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এর পাশাপাশি বাথরুমের পিচ্ছিল মেঝেতে পা পিছলে পড়ে যাওয়াও একটি বড় দুর্ঘটনা। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এ ধরনের পতনে মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগা বা হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বাথরুমে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু জরুরি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। শোয়া বা বসা অবস্থা থেকে সবসময় ধীরে ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। অতিরিক্ত গরম পানিতে দীর্ঘক্ষণ গোসল করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া জরুরি। বাথরুমের মেঝে সবসময় শুকনো ও পিচ্ছিলমুক্ত রাখা এবং বয়স্কদের সুবিধার্থে দেয়ালে গ্র্যাব বার বা হাতল স্থাপন করা উচিত। এছাড়া কোনো অসুস্থ বা বয়স্ক ব্যক্তি একা বাথরুমে গেলে আগে থেকেই পরিবারের অন্য সদস্যদের জানিয়ে রাখা ভালো।

তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। হঠাৎ মুখ একপাশে বেঁকে যাওয়া, শরীরের যেকোনো একদিকের হাত বা পা দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, তীব্র বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট হওয়া কিংবা জ্ঞান হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং রোগীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

Recent Posts

পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

সাভারে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের…

9 seconds ago

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় রোগীর তথ্যের নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা

হাসপাতালের ডিজিটাল ব্যবস্থায় রোগীর ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তি ব্যবহারের…

3 minutes ago

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১২০০

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি ও জনসেবার অবনতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। দেশজুড়ে চলা…

15 minutes ago

কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর ৮ম প্রয়াণ দিবস: ‘রুপালি গিটার ফেলে’

বাংলা ব্যান্ডসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর ৮ম প্রয়াণ দিবস আজ। ২০১৮ সালের এই দিনে মাত্র…

23 minutes ago

অফিসার্স ক্লাবে দুর্ঘটনায় সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মৃত্যু, দিশাহারা মেয়ে

রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়ির পাশ থেকে উদ্ধার করার পর সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো.…

43 minutes ago

লালমনিরহাট সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধার মুখে অবস্থান

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বামনদল সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী…

58 minutes ago

This website uses cookies.