সম্প্রতি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সামনে এখন নতুন অধ্যায় হিসেবে এসেছে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া। তবে এই ভর্তি প্রক্রিয়াটি শিক্ষার্থীদের জন্য কেবল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার ধাপে প্রবেশের সুযোগই নয়, বরং তা রূপ নিয়েছে পছন্দের কলেজে একটি আসন পাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতায়। বিশেষ করে রাজধানী ও বিভাগীয় শহরের হাতে গোনা কয়েকটি নামি প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ঝোঁক থাকায় এই ভর্তিযুদ্ধ আরও প্রকট হয়ে ওঠে। অথচ এর বিপরীতে দেশের অসংখ্য কলেজে বিপুলসংখ্যক আসন খালি পড়ে থাকে, যা আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার একটি দীর্ঘদিনের অসংগতিকে তুলে ধরে।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। অর্থাৎ সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও অর্ধেকের বেশি আসন খালি থাকবে। এর আগের বছরও মোট আসনের ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এবার পাসের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় শূন্য আসনের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিপরীতে মানসম্মত কলেজের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। সারাদেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য প্রায় ৮ হাজার ৮৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও মোটামুটি মানসম্মত কলেজ রয়েছে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০টি। এসব মানসম্মত কলেজে আসন সংখ্যা মাত্র প্রায় ৫০ হাজার। অথচ এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। ফলে ভালো কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তীব্র প্রতিযোগিতা হওয়া স্বাভাবিক।
একদিকে লাখ লাখ আসন খালি থাকা এবং অন্যদিকে মাত্র কয়েকটি কলেজে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এই দুশ্চিন্তা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত বৈষম্যকে নির্দেশ করে। শিক্ষার্থীরা কেবল একটি সনদ বা আসন চায় না; তারা চায় দক্ষ শিক্ষক, ভালো ফলাফল, নিরাপদ পরিবেশ এবং উচ্চশিক্ষার উপযুক্ত প্রস্তুতি। সব কলেজে সমানভাবে এসব সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি বলেই কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি এই অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। যদিও অনলাইন ভর্তি ব্যবস্থা চালুর ফলে ভর্তিপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং কলেজগুলোর অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষার্থী সংগ্রহের সুযোগ কমেছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। তবে কেবল অনলাইন পদ্ধতি চালু রাখাই এই সংকটের একমাত্র সমাধান নয়।
শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় কেন গুটিকয়েক কলেজ বারবার শীর্ষে থাকছে, নীতিনির্ধারকদের তা খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা, পাঠদানের পরিবেশ ও ফলাফলের ভিত্তিতে কলেজগুলোর বাস্তব চিত্র সবার সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। এছাড়া প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনের প্রবণতা বন্ধ করা দরকার। কোনো এলাকায় কতটি কলেজ প্রয়োজন বা সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত, তা বিবেচনা না করে শুধু প্রতিষ্ঠান বাড়ালে শিক্ষার মান বাড়ে না; বরং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংকট এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা আরও প্রকট হয়। তাই আসন বাড়ানোর চেয়ে এখন শিক্ষার মান ও চাহিদার মধ্যে সমন্বয় করা জরুরি। পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানোন্নয়নের আওতায় এনে দেশের প্রতিটি কলেজে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই হতে পারে এই ভর্তিযুদ্ধের স্থায়ী সমাধান।
দেশের উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সাড়ে তিন…
বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চল ও এর কাছাকাছি এলাকায় একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে…
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ৪৯৬ জন…
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্টাফ পরিবহনকারী বাসে হামলার ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে…
টাকার বিনিময়ে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সাধারণ মানুষের আগে ধনীদের কাছে বিক্রি করার অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট…
ইভ্যালি থেকে মোটরসাইকেল কেনার টাকা পরিশোধের পাঁচ বছর পরও পণ্য বা অর্থ ফেরত না পাওয়ায়…
This website uses cookies.