বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক সদস্য এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর মনে করেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক কর্মবাজার ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কেবল সনদনির্ভর শিক্ষা যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তা এবং পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
শিক্ষার মান উন্নয়নের বিষয়ে ড. আলমগীর বলেন, প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধিই উচ্চশিক্ষার সাফল্যের মাপকাঠি নয়। এর পরিবর্তে যোগ্য শিক্ষক, যুগোপযোগী কারিকুলাম, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং গবেষণার সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের গুরুত্বারোপ করে জানান, বর্তমানে মাত্র ১১টি একাডেমিক প্রোগ্রাম অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছে, যা সবই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের। নতুন কোনো বিভাগ বা প্রোগ্রাম চালুর আগেই অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের প্রাথমিক অনুমোদন নেওয়া হলে শিক্ষার মান আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব।
ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদর্শনে আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল চাকরির সন্ধানে সীমাবদ্ধ না থেকে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং সমাজে অবদানের দিকে মনোযোগী হতে হবে। প্রযুক্তিগত বিকাশের ফলে ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স ও স্টার্টআপের মতো নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে। এ জন্য ইনকিউবেটর, ইনোভেশন ল্যাব এবং শিল্প অভিজ্ঞদের মেন্টরশিপের পরামর্শ দেন তিনি।
আঞ্চলিক অর্থনীতির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ স্থাপনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্প বা কৃষি চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা তৈরি করলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একটি জনপদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখতে পারে। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, শুধু প্রযুক্তি বিভাগ নয়, সব শিক্ষার্থীরই এআই লিটারেসি থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ, নেতৃত্ব, সহযোগিতা, সমস্যা সমাধান ও অভিযোজন ক্ষমতার মতো মানবিক দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। ২০২৫ সালের ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে অ্যানালিটিক্যাল থিংকিং, ক্রিয়েটিভ থিংকিং, রেজিলিয়েন্স, লিডারশিপ ও কলাবোরেশনকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
গবেষণাকে কেবল জার্নালে সীমাবদ্ধ না রেখে তা পেটেন্ট ও শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে ইন্টার্নশিপকে কেবল সনদ পাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা না করে বাস্তব দক্ষতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানান। শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কারিকুলাম প্রণয়নে যুক্ত করা এবং গ্র্যাজুয়েট ট্র্যাকার স্টাডির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তার প্রত্যাশা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করবে, যারা শুধু নিজেদের কর্মসংস্থান নয়, বরং অন্যদের জন্যও কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
ইভ্যালি থেকে মোটরসাইকেল কেনার টাকা পরিশোধের পাঁচ বছর পরও পণ্য বা অর্থ ফেরত না পাওয়ায়…
লালমনিরহাটে ৫৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলায় দুই আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই…
মাদারীপুরের কালকিনিতে মো. শাহীন রাড়ীর পোষা কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার পর পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ…
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাত বড় ঝুঁকির মুখে। এই সংকট কাটিয়ে…
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা। পর্যাপ্ত আসন…
বেসরকারি শিক্ষক অ্যালায়েন্সের আগামী তিন মাসের জন্য আংশিক কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে…
This website uses cookies.