Header Premium (728×90)

ইয়াবা মামলায় মৃত্যুদণ্ড: সোনা মিয়া পরিচয়ে কারাগারে অন্যজন

কক্সবাজারে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ধোঁয়াশা। কারাগারে থাকা ওই ব্যক্তি দাবি করছেন, তিনি মামলার প্রকৃত আসামি নন। পুলিশি তদন্তেও উঠে এসেছে যে, ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়া ‘সোনা মিয়া’ এবং ২০২৬ সালে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি একই মানুষ নন। কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের নির্দেশে পুলিশের দাখিল করা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির আসল নাম রমজান। তিনি অন্যের জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করে নিজেকে সোনা মিয়া হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। সেই ভুয়া পরিচয়েই তার বিচার সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তী সময়ে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের ২ মার্চ, যখন কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে। মামলার এজাহারে দ্বিতীয় আসামি হিসেবে ‘সোনা মিয়া’ নাম দেওয়া হয়, যার পিতা নজির আহমদ এবং ঠিকানা কক্সবাজার পৌরসভার কুতুবদিয়াপাড়া ও রামু উপজেলার গর্জনিয়া উল্লেখ ছিল। তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করার সময় উল্লেখ করেছিলেন যে, সোনা মিয়ার নাম-ঠিকানা যাচাই করে সঠিক পাওয়া যায়নি। থানা পুলিশ দিয়ে অনুসন্ধান করেও তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। তবুও তাকে কারাগারে রেখে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল।

নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জুন সোনা মিয়া আদালত থেকে জামিন পান এবং এরপরই আত্মগোপনে চলে যান। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর গত ২৩ জুন বর্তমান সোনা মিয়াকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকা সোনা মিয়া বিষয়টি জেল সুপারের কাছে লিখিতভাবে জানান। আদালতের নির্দেশে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ তদন্ত করে ২ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়।

গ্রেফতার সোনা মিয়ার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, তার স্বামী কখনো কোনো মামলায় জড়াননি। তিনি দাবি করেন, তার স্বামী রামুর বাসিন্দা এবং কুতুবদিয়াপাড়ায় থাকার সময় রমজান নামের এক রোহিঙ্গার সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। রমজানই ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছিল বলে তারা জানতেন, অথচ এখন সেই মামলায় তার স্বামীকে আসামি করা হয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, তদন্তকারী কর্মকর্তার গাফিলতির কারণেই এমনটি ঘটেছে। কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান বলেন, অন্যের জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করে পরিচয় দিলে তা যাচাই করা তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব ছিল, যা এখানে করা হয়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

Recent Posts

অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারল বাংলাদেশ, রিয়াদের লড়াই বৃথা

চ্যাম্পিয়ন্স ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে রিয়াদ…

1 minute ago

নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিক্ট ইউনিভার্সিটিতে সম্পূর্ণ ফ্রি স্কলারশিপের সুযোগ

নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিক্ট ইউনিভার্সিটি (এমইউ) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি স্নাতকোত্তর স্কলারশিপের ঘোষণা দিয়েছে। টিউশন ফি,…

14 minutes ago

কুড়িগ্রামে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে গোয়ালঘরে ঢুকে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগে মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মফিজুল…

19 minutes ago

গাফিলতি যেভাবে মানুষের জীবন ও সময়কে ধ্বংস করে

মানুষের জীবনের অন্যতম বড় বিপদ হলো গাফলত বা অলসতা। এটি মানুষের সময়, শক্তি ও হৃদয়কে…

20 minutes ago

মাছওয়ালির চরিত্রে কৌশানী, সিনেমার প্রচারে অচেনা লুক

নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখার্জির ‘বহুরূপী’র সিক্যুয়েল ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’র প্রচারে মাছওয়ালির চরিত্রে দেখা…

32 minutes ago

দাম্পত্য জীবন সুখময় করার উপায় ও ইসলামি নির্দেশনা

ইসলামে বিয়ে একটি সুন্নত। দাম্পত্য জীবনকে সুখময় ও প্রশান্তিময় করে তুলতে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক দায়িত্ব, সময়…

34 minutes ago

This website uses cookies.