Header Premium (728×90)

অভাবের অন্ধকার পেরিয়ে শিলার শিক্ষিকা হওয়ার অনুপ্রেরণামূলক গল্প

ভোলা নামের এক অজপাড়া গাঁয়ে জন্ম শিলার। আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে অনেক দূরে থাকা এই গ্রামটিতে মানুষের জীবন ছিল অভাব-অনটনের। শিলার বাবা রহমত মিয়া দিনমজুরের কাজ করতেন এবং মা সারেহা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। সংসারের চরম দারিদ্র্যের কারণে শিলার শৈশব ছিল অন্যদের চেয়ে আলাদা। খেলার বয়সেই তাকে সংসারের কাজে মা-বাবাকে সাহায্য করতে হতো।

পরিবারের অভাবের কারণে শিলার স্কুলে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল না এবং বাড়িতেও কোনো বই ছিল না। কিন্তু তার ভেতরে ছিল শেখার তীব্র তৃষ্ণা। স্কুলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য শিশুদের খাতা-কলম দেখে সে ব্যথিত হতো। একদিন সে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহানা ম্যাডামের কাছে গিয়ে পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। শিলার চোখে অভাবকে জয় করার মতো অদম্য ইচ্ছা দেখে শাহানা ম্যাডাম তাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের পুরনো বই ও খাতা দিয়ে তিনি শিলার পড়াশোনার হাতেখড়ি করান।

পড়াশোনার পথটি সহজ ছিল না। দিনের বেলা ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো বলে শিলাকে রাতে পড়তে হতো। ঘরে বিদ্যুৎ না থাকায় শাহানা ম্যাডাম তাকে প্রতিমাসে এক ডজন মোমবাতি ও মাঝে মাঝে শুকনো খাবার কিনে দিতেন। মোমবাতির ক্ষীণ আলোয় সে পড়াশোনা চালিয়ে যেত। অনেক সময় ক্ষুধার্ত অবস্থায় বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে সে পড়ে থাকত। গ্রামের অনেকে তাকে উপহাস করত এবং বলত, মেয়েদের পড়াশোনা করে লাভ নেই, রান্নাঘরই তাদের শেষ জায়গা। কিন্তু শিলা পিছু হঠেনি।

ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবে শিলা মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে। এই সংবাদ পুরো গ্রামে আনন্দের জোয়ার নিয়ে আসে। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য সে শহরে কলেজে ভর্তি হয়। সেখানেও টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছে। তার লক্ষ্য ছিল শুধু নিজের উন্নয়ন নয়, বরং পুরো গ্রামকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করা।

পড়াশোনা শেষ করে শিলা শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে। শহরে চাকরির সুযোগ থাকলেও সে নিজের গ্রামে ফিরে আসে এবং ভাঙাচোরা স্কুলটিকে নতুন করে গড়ে তোলে। গ্রামের শিশুদের হাতে বই তুলে দিয়ে সে তাদের শিক্ষার আলোয় উদ্বুদ্ধ করে। শিলার প্রচেষ্টায় ভোলা গ্রামের চিত্র বদলে যেতে শুরু করে; অভিভাবকরা শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে পারে এবং মেয়েরা স্কুলে যেতে শুরু করে। আজ শিলা ভোলা গ্রামের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাহানাজ শিউলী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের আড়পাড়া থেকে এই প্রতিবেদনটি লিখেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

Recent Posts

এআই-এর যুগেও নিজের অবস্থানে অনড় ‘লিপস্টিক কিং’ লি জিয়াকি

চীনের লাইভস্ট্রিম শপিং খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন সুপারস্টার লি…

24 minutes ago

টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের শুনানি আজ

কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ…

35 minutes ago

যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা, আলোচনায় বাণিজ্যসহ নানা ইস্যু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। ঐতিহাসিক এই সফরে…

40 minutes ago

টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের আবরার, পেছনে ফেললেন রশিদকে

পাকিস্তানের লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ প্রথমবারের মতো আইসিসি টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠেছেন। তিনি আফগানিস্তানের…

1 hour ago

টানা সাত দিন কমল বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা সাত দিন ধরে জ্বালানি তেলের দাম কমছে। ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের…

1 hour ago

মহানবী (সা.)-এর ইনসাফ: মানবজাতির জন্য অনুপম আদর্শ

মানবজাতির জন্য ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠার এক অনুপম আদর্শ হিসেবে মহানবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনকে তুলে…

1 hour ago

This website uses cookies.