Header Premium (728×90)

গণপূর্তের প্রকৌশলী শফিউলের বিরুদ্ধে টেন্ডার কারসাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সম্পদ বিভাগে টেন্ডার কারসাজি, কমিশন বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গণপূর্তের সম্পদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. শফিউল ইসলাম। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এলেনবাড়িতে অবস্থিত এই কার্যালয়টিতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তেজগাঁওয়ের ৭ নং ওয়ার্ড তেজকুনিপাড়া ও তেজগাঁও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ‘মা এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার জামাল হোসেনের সাথে নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল ইসলামের ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র ছিল। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে নির্বাহী প্রকৌশলী এবং তার কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী ও স্টাফ অফিসার শরিফুল ইসলাম মরিয়া হয়ে কাজ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও এই কার্যালয়ে কোনো গুণগত পরিবর্তন আসেনি। পাবনা জেলার বাসিন্দা শফিউল ইসলাম বিগত সময়ে রাষ্ট্রপতির প্রভাব খাটিয়ে দাপট দেখালেও বর্তমানে নিজেকে বিএনপি-পন্থী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার নাম ভাঙিয়ে তিনি ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ ঠিকাদাররা মনে করছেন, এই রাজনৈতিক পরিচয় কেবলই তার দুর্নীতি ও অনৈতিক বাণিজ্য আড়াল করার ঢাল। এই অবৈধ আয়ের মাধ্যমে তিনি ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকায় কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করে পরিবারসহ বসবাস করছেন। এই সিন্ডিকেটের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুশান্ত দত্ত কাজ করছেন। এই ত্রিমুখী চক্রের কাছে সাধারণ ও তালিকাভুক্ত ঠিকাদাররা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

এলেনবাড়ি সম্পদ বিভাগে যখনই কোনো কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়, তখনই ঠিকাদার জামাল হোসেনের প্রতিষ্ঠানের সাথে গোপন আঁতাত করে ত্রুটিপূর্ণ শর্ত যুক্ত করে প্রাক্কলন বা ইস্টিমেট তৈরি করা হয়। এতে সাধারণ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন না এবং দরপত্র প্রক্রিয়া থেকে ছিটকে পড়েন, যা তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সরকারি নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেট থেকে প্রায় ৮ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি বাসভবন ও ভিআইপি কোয়ার্টার মেরামত ও আধুনিকায়নের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি। উল্টো ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ অর্থ উত্তোলনপূর্বক তা সিন্ডিকেটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসে দুটি বড় টেন্ডার নিয়েও ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বঞ্চিত ঠিকাদারদের দাবি, সুইমিংপুলের মেরামত ও আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত টেন্ডারগুলোতে প্রাক-যোগ্যতার শর্ত এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা কেবল একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার জন্য তৈরি। এর ফলে প্রায় ২৫ জন যোগ্য ঠিকাদার দরপত্র প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছেন। গত ৪ মে প্রকাশিত সুইমিংপুলের কাজ এবং পরবর্তীতে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন ভবন ১ ও ২-এর সংস্কার কাজের নামে প্রায় ৬০ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। ১ নং ভবনে বসবাসরত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত দুই বছরে তাদের বহুতল ভবনে কোনো ধরনের সংস্কার, রং বা মেরামতের কাজ করা হয়নি, অথচ নথিপত্রে সম্পূর্ণ অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১২ মে প্রকাশিত আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের দরপত্র প্রক্রিয়াটিও একটি এজেন্সির অনুকূলে দেওয়ার জন্য সিন্ডিকেট ব্যাকডোর ডিল সম্পন্ন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে পিপিআর অনুসরণের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও গণপূর্তের এই শাখায় তা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে পুঁজি করে সরকারি কর্মকর্তারা যখনই তাদের ভোল পাল্টে কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতি সচল রাখেন, তখন তা সুশাসনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরি বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এলেনবাড়ি সম্পদ বিভাগের ফাইলপত্র ও টেন্ডার প্রক্রিয়া মূল্যায়ন করতে দ্রুত একটি তদন্ত দল পাঠানো হবে। এদিকে সকল অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিউল ইসলামের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং তার কার্যালয়ে গিয়েও সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

Recent Posts

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

আমেরিকান গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদের ক্ষেত্রে কানাডা বৈষম্যমূলক আচরণ করছে—এমন অভিযোগ তুলে কানাডার বিভিন্ন…

2 minutes ago

পুলিশের ১৪ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার রদবদল

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে পুলিশের ১৪ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।…

8 minutes ago

গাজী নজরুলের বিষয়ে সাংগঠনিক পদক্ষেপের কথা জানালো জামায়াত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও নিয়ে চলমান বিতর্কের…

9 minutes ago

মোদি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, পদত্যাগের দাবি

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন…

23 minutes ago

বাংলা কিউআর ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে রূপালী ব্যাংকের প্রচারণা

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত বাংলা কিউআর-এর ব্যবহার বাড়াতে ও সাধারণ মানুষকে ক্যাশলেস লেনদেনে উৎসাহিত করতে বিশেষ…

36 minutes ago

অবসরের ইঙ্গিত দিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর দলের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে…

38 minutes ago

This website uses cookies.