Header Premium (728×90)

Categories: মতামত

দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদের ভূত যেভাবে মোদি সরকারকে তাড়া করছে

১০ অক্টোবরের দিল্লির রাজপথের দৃশ্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকারকে দেশের জনগণ আর এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তিতে থাকতে দেবে না। সরকারের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে এবং তারা চারদিকে কেবল প্রতিপক্ষ দেখছে। ভিন্নমতের ভূত এখন যেন তাদের তাড়া করে ফিরছে।

দিল্লির রাস্তার প্রবেশমুখগুলোতে ভারী ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং শত শত পুলিশ সজাগ দৃষ্টি রাখছে। সাধারণ পথচারীদের জন্য এই জিজ্ঞাসাবাদ এড়িয়ে পার হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সামান্য সন্দেহের ভিত্তিতেই পুলিশ অনেককে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মিন্টো ব্রিজের কাছ থেকে তুলে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে, এমনকি পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করা এক তরুণকেও পুলিশ টেনেহিঁচড়ে বের করে নিয়ে গেছে।

পুরো দিল্লিকে যেন এক সেনাছাউনিতে পরিণত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, জম্মু-কাশ্মীর ও ছত্তিশগড় থেকে রিজার্ভ পুলিশ আনা হয়েছে। আগে থেকেই মোতায়েন ২০ হাজার আধা সামরিক জওয়ানের সঙ্গে আরও ১২ হাজার যুক্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২২১টি কোম্পানি দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আটককৃতদের রাখার জন্য ১০টি আটককেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। ওলা ও উবারের মতো ক্যাব কোম্পানিগুলোকে গাড়ি না নামাতে বলা হয়েছে এবং হোটেলগুলোকে অতিথি তুলতে বারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৫৭টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বড় এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসগুলো অনলাইনে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, কারণ সরকার ভয় পাচ্ছিল ক্যাম্পাসগুলো প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ের বাইরেও ভারী পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। অনেক ইউটিউবার অভিযোগ করেছেন যে, সরকারের পক্ষে ভিডিও তৈরি করার জন্য তাঁদের অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, যারা যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, পুলিশ তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলে আনছে। অথচ যারা প্রকাশ্যে সহিংসতার হুমকি দিচ্ছে, তাদের পুলিশ ছাড় দিচ্ছে।

আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করেই পুলিশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি আদালতও এই পরিস্থিতির বিপরীতে কোনো জোরালো অবস্থান নিচ্ছে না। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট হেবিয়াস করপাস পিটিশন সরিয়ে দিয়ে পুলিশকে তরুণদের মা-বাবার কাছে ফেরত পাঠানোর কথা বলেছে। সুপ্রিম কোর্টও পুরো দিল্লিকে অবরুদ্ধ করে রাখাটাকে যৌক্তিক বলে মনে করছেন এবং নাগরিকের চলাফেরার স্বাধীনতার চেয়ে সরকারের টিকে থাকার অধিকারকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এত কঠোরতার মধ্যেও প্রতিবাদ থেমে নেই। কস্তুরবা গান্ধী মার্গের কাছে প্রেসক্লাবে পৌঁছানোর পথে তিনবার পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছে। নেহা বোরা ও যোগেন্দ্র যাদবকে আটক করা হয়েছে এবং দীপঙ্কর ভট্টাচার্য গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। গাড়িতে ট্রাফিক জ্যামে আটকে থেকেও প্রতিবাদী মানুষের প্রাণবন্ত উপস্থিতি দেখা গেছে। সরকার হয়তো যন্তর মন্তরকে নীরব করতে পেরেছে, কিন্তু সেই নীরবতার গর্জন সরকার ঠিকই শুনতে পাচ্ছে এবং তা দেখে আতঙ্কিত হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

দুর্যোগ মোকাবিলায় তালতলীতে ৬০ স্বেচ্ছাসেবককে বিশেষ প্রশিক্ষণ

বরগুনার তালতলীতে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় ৬০ স্বেচ্ছাসেবককে তিন দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ…

26 minutes ago

বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পেতে আলোচনা চলছে

বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণসহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী…

45 minutes ago

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএমএলে ১২টি ভাষা শেখার সুযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে (আইএমএল) এক বছরের এলিমেন্টারি সার্টিফিকেট কোর্সে ভর্তির আবেদন গ্রহণ করা…

48 minutes ago

৩৬ বছর বয়সে না ফেরার দেশে জিম্বাবুয়ের আম্পায়ার সারাহ

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়া জিম্বাবুয়ের সাবেক পেসার ও আম্পায়ার সারাহ ডামবানেভানা ৩৬ বছর বয়সে হারারেতে মৃত্যুবরণ…

1 hour ago

বিএনপিকেও শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে: মামুনুল হক

লক্ষ্মীপুরে খেলাফত মজলিশের আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে আল্লামা মাওলানা মামুনুল হক বলেন, শেখ হাসিনাকে যে…

1 hour ago

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স নিয়ে শঙ্কা

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স প্রবাহ…

2 hours ago

This website uses cookies.