Header Premium (728×90)

Categories: মতামত

কঠোর হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নিয়ম: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের করণীয় কী?

অস্ট্রেলিয়ায় আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয় বৃদ্ধির জেরে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের সংস্কার ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এই নতুন নীতিমালার রূপরেখা প্রকাশ করেন। মূলত আসন্ন ফেডারেল নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমত ধরে রাখতে এবং দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই ক্ষমতাসীন লেবার সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এই নতুন নিয়মগুলোর কারণে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়া এবং স্থায়ী হতে চাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে বাংলাদেশিদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে যাচ্ছে।

নতুন নীতিমালায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী অভিবাসীদের জন্য বেশ কিছু সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে নতুন আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এবং গ্র্যাজুয়েট ভিসাধারীরা তাদের সঙ্গে স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানদের নিয়ে যেতে পারবেন না। কেবল ডক্টরেট বা পিএইচডি পর্যায়ের গবেষকেরা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন। তবে যাঁরা ইতিমধ্যে পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন, তাঁদের পরিবার বিচ্ছিন্ন করা হবে না। এছাড়া, পড়াশোনা শেষ করে ভিসা টিকিয়ে রাখার জন্য অপেক্ষাকৃত কম মানের কারিগরি বা ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ বা ‘ভিসা হপিং’ পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে। নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের কেবল উচ্চতর স্তরের যোগ্যতার কোর্সেই ভর্তি হতে হবে।

ভ্রমণ বা ভিজিটর ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় এসে অনশোরে শিক্ষার্থী বা অন্য কোনো ভিসায় আবেদন করার চোরাগলিও বন্ধ করা হচ্ছে। এখন থেকে ভ্রমণ ভিসায় বাধ্যতামূলকভাবে ‘অতিরিক্ত অবস্থানের সুযোগ নেই’ (নো ফারদার স্টে) শর্ত যুক্ত থাকবে। পাশাপাশি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করা প্রায় ৭৭ হাজার ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে দ্রুত দেশত্যাগে বাধ্য করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এজন্য দেশটির সীমান্ত রক্ষা বাহিনীতে নতুন ১০০ জন কর্মকর্তা নিয়োগ এবং মেলবোর্নের একটি পুরোনো কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, দক্ষ অভিবাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তীব্র আবাসন সংকট মোকাবিলায় নির্মাণ খাতের কারিগরি দক্ষতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রির সমান পয়েন্ট দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষকতা ও কৃষিশ্রমের মতো ঘাটতি থাকা খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে সরকার মোট অভিবাসীর সংখ্যায় সরাসরি কোনো বড় কাটছাঁট করেনি। মে মাসের বাজেটে ঘোষিত প্রাক্কলন অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ৪৫ হাজার এবং পরবর্তী বছরে ২ লাখ ২৫ হাজার অভিবাসী নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা কঠোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রূপ দেওয়া হয়েছে। দেশটির ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত এবং নির্মাণ ও স্বাস্থ্য খাতের অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করেই এই ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার কর্মক্ষম জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশই অস্থায়ী অভিবাসী, যার সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ।

এই কঠোর সিদ্ধান্তগুলোর কারণে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানো হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ওপর বড় ধাক্কা আসতে চলেছে। অনেক বাংলাদেশি পরিবার জমিজমা বিক্রি করে বা সঞ্চয় ভেঙে সন্তানদের অস্ট্রেলিয়ায় পাঠান এই আশায় যে, সেখানে গিয়ে স্বামী বা স্ত্রী কাজ করে পড়াশোনার খরচ জোগাবেন। নতুন নিয়মে পরিবার নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হওয়ায় বিবাহিত শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যাবে। একা একটি দেশে এসে আকাশছোঁয়া টিউশন ফি ও থাকার খরচ জোগাড় করা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে উঠবে। এছাড়া, ভ্রমণ ভিসায় গিয়ে শিক্ষার্থী হওয়া বা সস্তা প্রাইভেট কলেজে ভর্তি হয়ে ভিসা নবায়নের যে চটকদার প্রচারণা বাংলাদেশের কিছু মধ্যস্বত্বভোগী এজেন্সি চালাত, তা এখন পুরোপুরি বন্ধ।

এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বাস্তবসম্মত ও ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, ঢাকার বিভিন্ন এজেন্সির প্রলোভনে পড়ে ‘যেকোনো উপায়ে আগে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছানোর’ আত্মঘাতী চিন্তা পরিহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যাদের ভালো একাডেমিক রেকর্ড, ইংরেজি দক্ষতা এবং বাস্তব আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, কেবল তাদেরই উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করা উচিত। তৃতীয়ত, যারা স্থায়ী হতে চান, তাদের সাধারণ কোনো কোর্সে না গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা নির্মাণ প্রকৌশল, নার্সিং, স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষায়িত শিক্ষকতা ও প্রযুক্তিগত পেশাভিত্তিক বিষয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। চতুর্থত, যারা ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় আছেন, তাদের উচিত হবে কোনো সস্তা কোর্সের ফাঁদে না পড়ে মূলধারার পড়াশোনা শেষ করে দ্রুত বৈধ উপায়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করা। ক্যানবেরার এই কঠোর বার্তার পর ফাঁকফোকর খুঁজে টিকে থাকার দিন যে শেষ, তা নিয়ে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

বনশ্রীতে কুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে তরুণীকে মারধর, থানায় অভিযোগ

রাজধানীর বনশ্রীতে পথকুকুরকে খাবার দিতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন এক তরুণী। গত মঙ্গলবার রাতে…

2 minutes ago

ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট

পাবনার ঈশ্বরদীতে ক্রেতার পরিচয়ে দোকানে ঢুকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের দুই ভরি স্বর্ণের মালা…

28 minutes ago

গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে দুই লাখ টাকার অনুদানের…

37 minutes ago

ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত

অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন অনুষদ থেকে ১৯…

49 minutes ago

নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা…

1 hour ago

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এই আলোচনার পর…

1 hour ago

This website uses cookies.