মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ঘোষণা দিয়েছিলেন, উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসের ‘আমেরিকাবিরোধী নীতি’র সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই ঘোষণার পর থেকে ব্রাজিল, ভারত ও চীনের মতো সদস্য দেশগুলোর ওপর একের পর এক আগ্রাসী শুল্কারোপ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এই বার্তার মূল উদ্দেশ্য হলো, যারা মার্কিন অর্থনৈতিক মোড়লপনাকে চ্যালেঞ্জ জানাবে, তাদের চড়া খেসারত দিতে হবে। তবে ট্রাম্পের এই চাপ এখন ব্রিকস জোটের আবেদন বাড়ানোর রসদ হিসেবে কাজ করছে। ওয়াশিংটন যত বেশি নিজ দেশের বাজার, আর্থিক ব্যবস্থা এবং ডলারকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাবে, বাকি বিশ্ব এসবের ওপর থেকে নির্ভরতা কমানোর তাগিদ তত বেশি অনুভব করবে।
ব্রিকস ১১ সদস্যের (ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) একটি বৈচিত্র্যময় পরিবার। যদিও এই দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান এক নয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, সৌদি আরব ও ইউএই-এর মতো দেশগুলোর মধ্যে মতভেদও প্রকাশ্যে এসেছে, তবুও তারা মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ থেকে সুরক্ষার প্রশ্নে এক বিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনের বড় অংশ মার্কিন এখতিয়ারের অধীন হওয়ায় যেকোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার আটকে দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।
আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বৈশ্বিক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ৫৭ দশমিক ১ শতাংশই ডলারে ছিল, যেখানে ইউয়ানের অবস্থান মাত্র ২ শতাংশ। ডলারের আধিপত্য এখনো সুদৃঢ় হলেও ব্রিকস দেশগুলো এর ওপর ‘নির্ভরতা কমানোর’ পথে হাঁটছে। দক্ষিণ আফ্রিকা চীনের ‘ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেমে’ যুক্ত হয়ে ইউয়ানে লেনদেন করছে। ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত রুপি ও দিরহামে, আর রাশিয়া ও চীন তাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সিংহভাগ জাতীয় মুদ্রায় সম্পন্ন করছে।
ব্রিকস জোট এখন একটি নিজস্ব আর্থিক সংযোগ তৈরির দিকে এগোচ্ছে। আগস্ট মাসে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা নিশ্চিত করেছেন যে ব্রিকস দেশগুলো তাদের ফাস্ট-পেমেন্ট নেটওয়ার্ক ও সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। এছাড়া ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’ (এনডিবি) নিজস্ব মুদ্রায় ঋণ দেওয়াকে প্রাধান্য দিচ্ছে, যা ঋণগ্রহীতা দেশগুলোকে ডলারের ওঠানামার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে।
ট্রাম্পের নীতি এই প্রক্রিয়াটিকে আরও দ্রুততর করছে। উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিলের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং তাদের জনপ্রিয় লেনদেন মাধ্যম ‘পিক্স’-এর ওপর মার্কিন নজরদারি বাড়ানো দেশটিকে বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একইভাবে রাশিয়া ও ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে তারা বাধ্য হয়ে বিকল্প বাণিজ্যিক কাঠামোর দিকে ঝুঁকছে। কোনো পরাশক্তির দাসত্ব মেনে নেওয়া ব্রিকস দেশগুলোর লক্ষ্য নয়, বরং তারা বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রেখে নিজেদের দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে। পরিশেষে, ট্রাম্প মার্কিন শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানো ব্যয়বহুল করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি হয়তো মার্কিন শক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকাটাকেই দেশগুলোর জন্য আরও বেশি ব্যয়বহুল করে তুলছেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিন বন্ধু বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের…
নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে জনস্বাস্থ্য ও…
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী বাজারে অনিয়মের অভিযোগে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ…
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহীকে…
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করছেন না ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন…
This website uses cookies.