বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয় এবং 'জাতির পিতা'র মতো ধারণাকে কেন্দ্র করে গত ৫৫ বছর ধরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিভাজন চলছে, তার মূলে রয়েছে জাতীয়তাবাদের জটিল বিবর্তন। ইউরোপে ফরাসি বিপ্লব ও নেপোলিয়ন যুগে জাতীয়তাবাদের যে উত্থান ঘটেছিল, তা যেমন রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রেখেছে, তেমনি বাংলাদেশেও এটি স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ভিত্তি ছিল। তবে এ দেশের জাতীয়তাবাদী ভাবনার বিকাশ ও রাজনৈতিক রূপান্তরের ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময় ও দ্বান্দ্বিক।
বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার সূচনা হয়েছিল মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যে দেশকে 'মা' হিসেবে কল্পনা করে দেশমাতৃকার প্রতি ভক্তি ও ত্যাগের মেলবন্ধন ঘটানো হয়। তাঁর 'আনন্দমঠ' উপন্যাস ও 'বন্দে মাতরম' গান ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে আধ্যাত্মিক ভিত্তি দিলেও অনেকে একে হিন্দু জাতীয়তাবাদ হিসেবে গণ্য করেন। অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাতীয়তাবাদকে সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রেখে সর্বজনীন মানবতার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। তিনি মনে করতেন, উগ্র জাতীয়তাবাদ মানুষের স্বাধীন চিন্তাকে রুদ্ধ করে এবং অন্য জাতির প্রতি ঘৃণা ছড়ায়।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর মুসলিম জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মূলত পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের বৈষম্য ও ক্ষোভ থেকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের নতুন রূপ তৈরি হয়। ১৯৪৮-৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের সশস্ত্র সংগ্রাম পর্যন্ত তিনটি প্রধান স্লোগান এ অঞ্চলের মানুষকে উজ্জীবিত করেছিল। 'তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা', 'তুমি কে আমি কে, বাঙালি বাঙালি' এবং 'জয় বাংলা'—এই স্লোগানগুলোর মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় এবং অবাঙালিদের একটি বড় অংশ জেনেভা ক্যাম্পে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সালের সংবিধানে জাতীয় পরিচয় হিসেবে 'বাঙালি' নির্ধারণ করা হয়। তবে ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও কোটি কোটি বাংলাভাষী মানুষ অন্য দেশের নাগরিক হওয়ায় এই পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এমনকি পাসপোর্টে জাতীয়তার স্থানে 'সিটিজেন অব বাংলাদেশ' লেখার মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, রাষ্ট্রীয় পরিচয়ই এখানে প্রধান। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভাষাভিত্তিক 'বাঙালি জাতীয়তাবাদ'-এর বিপরীতে রাষ্ট্রভিত্তিক নাগরিক পরিচয়কে গুরুত্ব দিয়ে 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ'-এর জন্ম হয়।
বর্তমানে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল এই দুই ভিন্ন আদর্শ ধারণ করে। আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতীয়তাবাদকে এবং বিএনপি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে তাদের রাজনীতির ভিত্তি করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক বিভাজনের অন্যতম প্রধান কারণ। এই বিভাজনের আরেকটি বড় জায়গা হলো 'জাতির পিতা'র ধারণা। আওয়ামী লীগ শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মনে করলেও প্রশ্ন ওঠে, হাজার বছরের ইতিহাস সমৃদ্ধ বাঙালি জাতির পিতা কীভাবে ১৯৭১ সালে উদয় হতে পারেন? যদিও তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি এবং তাঁর নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। পাকিস্তানের যেমন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছিলেন, বাংলাদেশ জিন্নাহর জায়গায় মুজিবকে স্থলাভিষিক্ত করেছে। এই আবেগতাড়িত ও পিতৃতান্ত্রিক ধারণাটি নিয়ে গত সাড়ে পাঁচ দশক ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলেই যাচ্ছে।
শীতের মূল মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে সবজি সরবরাহ করে বাড়তি লাভের আশায় আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম…
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করেছে দেশের ৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ…
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া পর্যটক ইব্রাহিম খানের মরদেহ মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপ থেকে…
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও শত শত মানুষ।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুল ব্যবহৃত দুটি শব্দ 'দলবাজ' ও 'দলদাস'। আপাতদৃষ্টিতে এক মনে হলেও এদের মধ্যে…
২০২৬ সালের ৪ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে বসছে ৫৩তম টেলুরাইড চলচ্চিত্র উৎসব। কোন সিনেমা…
This website uses cookies.