Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

১২ কোটি মানুষ রক্তদানে সক্ষম, তবুও কেন দেশে রক্তের সংকট?

দেশে রক্তদানের উপযুক্ত মানুষের সংখ্যা বিপুল। রক্ত সঞ্চালন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, প্রচলিত বয়সসীমা ও জনসংখ্যার কাঠামো বিবেচনায় প্রায় ১২ কোটি মানুষ রক্তদানের সক্ষম বয়সে রয়েছেন। তাঁদের সামান্য একটি অংশও নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্ত দিলে দেশের রক্তের চাহিদার বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব। অথচ অস্ত্রোপচার, দুর্ঘটনা, প্রসবজনিত রক্তক্ষরণ কিংবা থ্যালাসেমিয়ার মতো রোগে রক্তের প্রয়োজন হলেই দাতা খুঁজতে হিমশিম খেতে হয় রোগীর স্বজনদের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশবিষয়ক তথ্যে দেশে বছরে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ ইউনিট রক্তের প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সংগৃহীত রক্তের তুলনামূলক ছোট একটি অংশ আসে স্বেচ্ছায় ও বিনা পারিশ্রমিকে রক্তদানকারীদের কাছ থেকে। বাকি রক্তের বড় অংশের জন্য নির্ভর করতে হয় রোগীর স্বজন বা বিকল্প দাতাদের ওপর। দেশের সংকট শুধু রক্তের পরিমাণে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রক্ত সংগ্রহ, পরীক্ষা, সংরক্ষণ, বণ্টন এবং নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা তৈরির দুর্বলতা। এর সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে রোগী ও তাঁদের পরিবারের ওপর। রক্তদানের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি, সুযোগের অভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ভুল ধারণা, দাতাদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ এবং রক্ত ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

২০১৫ সালে দেশে প্রায় ৬ লাখ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল, যেখানে বার্ষিক চাহিদা ছিল ৮ লাখ ইউনিটের বেশি। সে সময় সংগৃহীত রক্তের মাত্র প্রায় ৩০ শতাংশ এসেছিল স্বেচ্ছা দাতাদের কাছ থেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে জাতীয় নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচির তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে বাংলাদেশে মোট ৯ লাখ ৬০ হাজার ৯৮১ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে সরকারি খাতে ৭ লাখ ৫৫ হাজার ৩৩৯ ইউনিট এবং বেসরকারি খাতে ২ লাখ ৫ হাজার ৬২৪ ইউনিট সংগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছর সংগৃহীত রক্তের ৭৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ এসেছিল আত্মীয় বা বিকল্প দাতাদের কাছ থেকে। স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের অবদান ছিল ২৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ রক্ত সংগ্রহের পরিমাণ বাড়লেও নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদাতার ওপর নির্ভরতা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দেশে স্বেচ্ছা রক্তদাতা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার জন্য একক জাতীয় প্রতিষ্ঠানের অভাবও রয়েছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট, সন্ধানী, বাঁধন ও কোয়ান্টামসহ বিভিন্ন সংগঠন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সামগ্রিক ব্যবস্থাটি এখনো বিকেন্দ্রীভূত। রিদম ব্লাড ব্যাংকের পরিচালক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশে রক্তদাতার অভাবের চেয়ে বড় সমস্যা হলো, সক্ষম মানুষের একটি বড় অংশ নিয়মিত রক্তদানের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর মতে, মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ মানুষ নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্ত দিলে রক্তের সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

রক্তদানের উপকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। তবে নিয়মিত রক্তদান করলেই হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার বা অন্য কোনো রোগের ঝুঁকি নিশ্চিতভাবে কমে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে গবেষণার সীমাবদ্ধতা ও চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক প্রমাণ বিবেচনা করা জরুরি। রক্তদানের আগে সাধারণত দাতার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য, রক্তচাপ, পালস ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা যাচাই করা হয়। সংগৃহীত রক্তে এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি, সিফিলিসসহ নির্দিষ্ট সংক্রমণের পরীক্ষা করা হয়। তবে এসব পরীক্ষা মূলত রক্তগ্রহীতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য; এগুলোকে দাতার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। ট্রান্সফিউশন মেডিসিন ও ইমিউনোহেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মানবদেহের লোহিত রক্তকণিকার স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল প্রায় ১২০ দিন। রক্তদানের পর শরীর ধীরে ধীরে হারানো রক্তকণিকা তৈরি করে এবং রক্তের তরল অংশের ঘাটতি তুলনামূলক দ্রুত পূরণ হয়। তবে রক্তদানের উপযোগিতা নির্ভর করে দাতার বয়স, হিমোগ্লোবিন, শারীরিক অবস্থা এবং নির্ধারিত বিরতি মেনে চলার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ও যোগ্য ব্যক্তির নিয়ম মেনে রক্তদান সাধারণত নিরাপদ। তবে রক্তস্বল্পতা বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে রক্ত দেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

রক্তের চাহিদা ও সরবরাহের হিসাব করতে শুধু কত ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ হয়েছে, তা দেখলেই পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। কারণ, সংগৃহীত পূর্ণ রক্ত প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন উপাদানে ভাগ করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৫০টি কেন্দ্রে রক্তের বিভিন্ন উপাদান প্রস্তুত করা হয়। এসব কেন্দ্রে লোহিত রক্তকণিকা, প্লাটিলেটসমৃদ্ধ প্লাজমা, প্লাটিলেট, তাজা ও হিমায়িত প্লাজমা এবং ক্রায়োপ্রেসিপিটেটসহ বিভিন্ন উপাদান তৈরি করা হয়। সরকারি খাতের ১৪টি কেন্দ্রে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্লাটিলেট সংগ্রহের ব্যবস্থাও রয়েছে। রোগীর অবস্থাভেদে রক্তের উপাদানের প্রয়োজন আলাদা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বেশি রক্ত সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়; সংগৃহীত রক্তের নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে উপাদান পৃথকীকরণ, সংরক্ষণ এবং বিতরণের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

রক্ত না দেওয়ার জন্য সাধারণত মানুষের অনীহা ও অসচেতনতাকে দায়ী করা হয়। জামালপুরে ৫১২ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৯২ শতাংশ কখনো রক্ত দেননি। তবে ৪২ শতাংশের বেশি নিয়মিত রক্তদাতা হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। রক্ত না দেওয়ার কারণ হিসেবে ৪০ শতাংশ জ্ঞানের ঘাটতি, ২০ শতাংশ সুযোগের অভাব, ২১ শতাংশ স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা এবং ১৬ শতাংশ সুইভীতির কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া ৬১ শতাংশ কোনো রক্তদান কর্মসূচির কথা শুনেছেন বলে মনে করতে পারেননি। ২০২২ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩৯ শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত আরেক গবেষণায় দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের রক্তদানের সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৪ গুণ বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রক্তদানবিষয়ক প্রচার বা কর্মসূচি দেখেছেন, এমন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৭ গুণ। ২০২৪ সালে খুলনা শহরের ৬৯৭ জনের ওপর পরিচালিত গবেষণাতেও রক্তদানের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের পাশাপাশি নিয়মিত রক্তদানের চর্চা ও জ্ঞানের ঘাটতি উঠে আসে। গবেষকেরা সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর সুপারিশ করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল সেবা ব্যবস্থাপনা বিভাগের লাইন পরিচালক ডা. মো. জয়নাল আবেদীন টিটো বলেন, দেশে রক্তের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এ চাহিদা পূরণে নিয়মিত ও স্বেচ্ছায় রক্তদানের সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।

রক্তদানে আগ্রহী মানুষকে নিয়মিত দাতায় পরিণত করতে রক্তদানকেন্দ্রের পরিবেশ ও সেবার মানও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে রক্তদাতাদের নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় প্রায় ৬৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী কেন্দ্রের কর্মীদের দুর্বল বা অসহযোগিতামূলক আচরণকে রক্তদানের পথে বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রায় ৫৫ শতাংশ দাতা ব্যক্তিগত তথ্য ও পরীক্ষার ফলের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। অর্ধেকের বেশি দাতার মধ্যে আশঙ্কা ছিল, তাঁদের স্বেচ্ছায় দেওয়া রক্ত বিক্রি হয়ে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালের বাংলাদেশবিষয়ক মূল্যায়নেও স্বেচ্ছা রক্তদাতার স্বল্পতা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামো ও জনবলের সীমাবদ্ধতা, রক্ত সঞ্চালনকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতার অসমতা এবং নিয়মিত তদারকি ও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।

রক্ত ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সবচেয়ে বড় চাপের মুখে পড়েন নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়—এমন রোগীরা। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই সংকট আরও প্রকট। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের হাসপাতালে প্রায় ৭ হাজার ৮০০ রোগী নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের অনেকের প্রতি মাসে এক থেকে দুই ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। ফাউন্ডেশনের হিসাবে, চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১২০ ব্যাগ রক্ত দরকার। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের অভিভাবকদের নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবার নিয়মিত রক্তদাতা সংগ্রহে সমস্যার কথা জানিয়েছে। একই গবেষণায় প্রায় ৮১ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, তারা কোনো সংগঠিত রক্তদাতা সংগঠনের সহায়তা পায়নি। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দা মাসুমা রহমান বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। তাই তাঁদের জন্য নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রক্তের সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

রক্তের সংকট বলতে শুধু পর্যাপ্ত রক্ত না থাকাকে বোঝায় না; সংগৃহীত রক্ত নিরাপদ কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মে পর্যন্ত সংগৃহীত ২৬৯ ব্যাগ রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছিল। একই সময়ে কক্সবাজারের সাতটি উপজেলায় ২ হাজার ৩৭১টি রক্ত সঞ্চালনের মধ্যে ৫৮০টি থ্যালাসেমিয়া রোগীর চিকিৎসায়, ৫৩৮টি রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় এবং ৩৮৯টি প্রসূতিসংক্রান্ত চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, তা দিয়ে নিরাপদ রক্ত নিশ্চিত হয়েছে বলা যায় না। পরীক্ষার মান, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা, কিটের গুণগত মান, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং ফলাফল সংরক্ষণের পুরো ব্যবস্থাই মানসম্মত হতে হবে। রিদম ব্লাড ব্যাংকের পরিচালক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিটি রক্তকেন্দ্রে একই মানদণ্ডে রক্ত পরীক্ষা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ের রোগী নিরাপত্তা ও রক্তের নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মকর্তা ডা. মুরাদ সুলতান বলেন, সব রক্তকেন্দ্রে একই মানের পরীক্ষা হচ্ছে কি না, পরীক্ষার ফলের গুণগত মান কীভাবে যাচাই করা হচ্ছে, সংরক্ষণ ও পরিবহনে নির্ধারিত মান বজায় থাকছে কি না এবং রক্ত সঞ্চালনের পর বিরূপ প্রতিক্রিয়া শনাক্তের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—এসব বিষয়ও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

রক্তের সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি। দেশের সব রক্তকেন্দ্র, হাসপাতাল ও স্বেচ্ছা রক্তদাতা সংগঠনকে অভিন্ন তথ্যব্যবস্থার আওতায় আনা গেলে কোন এলাকায় কখন কোন রক্তের গ্রুপ ও উপাদানের চাহিদা রয়েছে, তা নিয়মিত হালনাগাদ রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রক্ত সংগ্রহ, পরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং রক্তের উপাদান পৃথকীকরণের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সারা বছর রক্তদান কর্মসূচি পরিচালনা করা প্রয়োজন। অধ্যাপক ডা. সৈয়দা মাসুমা রহমানের মতে, স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। পেশাদার দাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে কার্যকর নজরদারি ও আইন প্রয়োগও প্রয়োজন। ডা. মো. জয়নাল আবেদীন টিটো বলেন, প্রতিটি রক্তকেন্দ্রে একই মানদণ্ডে রক্তবাহিত সংক্রমণের পরীক্ষা, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক সংরক্ষণ ও পরিবহন নিশ্চিত করতে হবে। রক্ত সংগ্রহ থেকে রোগীর শরীরে প্রয়োগ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের তথ্য সংরক্ষণ ও নিয়মিত প্রকাশ করাও জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

Recent Posts

দশমিনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে মা ইলিশ নিধন

পটুয়াখালীর দশমিনায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তেঁতুলিয়া ও বুড়া গৌরাঙ্গ নদীতে চলছে মা…

2 minutes ago

হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের দুটি জাহাজে হামলা, একটি ডুবেছে

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী দুটি কন্টেইনার জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। হামলায়…

40 minutes ago

ভারতকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতকে ২৪ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-২ সমতা আনল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।…

40 minutes ago

সাজেক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা: ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন

সাজেক সড়কে প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন করেছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।…

50 minutes ago

জাজিরায় জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়ম ও পোকা পাওয়ার অভিযোগ

শরীয়তপুরের জাজিরায় জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়া ও চালের মধ্যে পোকা…

1 hour ago

বাজারে বিক্রি হওয়া সব সয়াবিন তেল বিশুদ্ধ: শিল্পমন্ত্রী

সয়াবিন তেলে বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দাবি করেছেন,…

1 hour ago

This website uses cookies.