ঢাকার নবাবগঞ্জে দুই বছরেরও বেশি সময় আগে নিখোঁজ হওয়া অটোরিকশাচালক রাহুল (১৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ইয়াবা বিক্রির তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার আশঙ্কায় পূর্বপরিচিতরাই রাহুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. সবুজ মিয়া (২৮), মো. লালন মোল্লা (৪৩), মো. সমেজ (৩২), খবির ওরফে গোবিন্দ (২৮) এবং মো. হাবিব ওরফে সজল (৩৬)। এদের মধ্যে সবুজ ও লালন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
নিহত রাহুল নবাবগঞ্জ থানার চক সিংহড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ভাড়ায় অটোরিকশা চালাতেন এবং গাড়িটি একই এলাকার ওমর ফারুকের ওয়ার্কশপে রাখতেন। রাতে ওই ওয়ার্কশপেই ঘুমাতেন তিনি। ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে রাহুল নিজের বাসা থেকে রাতের খাবার খেয়ে ওয়ার্কশপে ঘুমানোর জন্য যান। পরদিন তিনি আর বাড়ি না ফেরায় এবং তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ওই ওয়ার্কশপের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি ভুট্টা ঘাসের জমির আইলের ঝোপ থেকে রাহুলের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় ওই দিনই নিহতের বাবা মো. আবদুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে নবাবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে থানা-পুলিশ মামলাটির তদন্ত করলেও পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে তা পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রহিম মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এ হত্যাকাণ্ডে গত মার্চ মাসে প্রথমে নবাবগঞ্জের পাতিলঝাপ এলাকা থেকে মো. সমেজকে গ্রেপ্তার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। সবুজ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সবুজের জবানবন্দির সূত্র ধরে পরে খবির ওরফে গোবিন্দ, মো. হাবিব ওরফে সজল এবং মো. লালন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে লালন মোল্লাও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
আজ উত্তরায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ও পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সফল এম এন মোর্শেদ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাহুল ও গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা একে অপরের পূর্বপরিচিত ছিলেন। লালন মোল্লা এলাকায় ইয়াবার কারবার করতেন এবং রাহুলসহ অন্য আসামিরা তাঁর কাছ থেকে ইয়াবা কিনে একসঙ্গে সেবন করতেন। একপর্যায়ে লালন সবুজের কাছে জানতে পারেন যে, তাঁর ইয়াবা বিক্রির তথ্য রাহুল বাইরে বিভিন্ন জায়গায় জানিয়ে দেবেন বলে সবুজকে বলেছেন। এই আশঙ্কায় আসামিরা রাহুলকে হত্যা করে তাঁর অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে লালন সবুজের মাধ্যমে রাহুলকে তাঁর অটোরিকশাসহ নবাবগঞ্জের তমসেল মাদবরের খোলা মাঠে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকেই লালন, সজল, সমেজ ও গোবিন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে তাঁরা রাহুলকে ইয়াবা সেবন করান। এরপর সুযোগ বুঝে লালন লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে রাহুলের মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা ফেটে রক্ত বের হলে আসামিরা ব্লেড দিয়ে তাঁর কান ও মুখে আঘাত করেন। এছাড়া রাহুলের অটোরিকশার ব্যাটারি দিয়েও তাঁর মুখে আঘাত করা হয়। শেষে শ্বাসরোধ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
মৃত্যুর পর রাহুলের লাশ অটোরিকশায় বসিয়ে আসামিরা সজলের গরুর খামারে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন লাশটি লুকিয়ে রাখা হয় এবং অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১টার পর লাশটি ওমর ফারুকের ওয়ার্কশপের পাশে ফেলে রেখে যায় আসামিরা, যেখান থেকে পরে পুলিশ অর্ধগলিত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে।
চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম সাত দিনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য…
বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানী ও গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি)…
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিমানবন্দরে প্রবাসীদের প্রতি অবহেলা বা হয়রানি…
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি সিদ্ধার্থ…
বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নগদ ডলার কেনার সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ভ্রমণ কোটার…
চুয়াডাঙ্গার দীননাথপুর ও গাইদঘাটসহ কয়েকটি গ্রামে আকস্মিক ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে…
This website uses cookies.