কুমিল্লায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ছয়জন প্রার্থী। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, বিভিন্ন গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে বাদ পড়া প্রার্থীদের দাবি, নিয়োগের সব শর্ত পূরণ করার পরও শেষ মুহূর্তে তাদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগে মোট ৫০৮ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৪৭৭ জন প্রার্থী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও বাকি ছয়জনের নিয়োগ আটকে যায়।
নিয়োগ না পাওয়া এই ছয় প্রার্থী হলেন—লাকসাম উপজেলার ওমর ফারুক, সদর দক্ষিণ উপজেলার ওমর ফারুক, বুড়িচং উপজেলার সাইদুল ইসলাম, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার তাহমিনা আক্তার রিতা, মুরাদনগর উপজেলার আহসান হাবীব এবং তিতাস উপজেলার মাইন উদ্দিন।
বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে লাকসাম উপজেলার ওমর ফারুক একজন গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। ওমর ফারুক নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাইনি। উপজেলার অন্যদের নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কাজ বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমি কোনো রাজনৈতিক নেতাও নই। আমার স্থায়ী ঠিকানা, স্বাস্থ্য সনদ ও ডোপ টেস্টের রিপোর্টও ঠিক আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক করেছেন। আমার অসুস্থ মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান এই চাকরির আশায় অপেক্ষা করছে। আমার বাবা-মা খুবই উদ্বিগ্ন। সরকারের কাছে আমার আবেদন, বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে আমাকে নিয়োগপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাদ পড়া আরেকজন প্রার্থী বলেন, ৪৭১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও আমাদের ছয়জনকে কেন বাদ দেওয়া হলো, সে বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে পরিষ্কার কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না।
নিয়োগের সময়সীমা উল্লেখ করে জানা যায়, ২০২৫ সালে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২১ জানুয়ারি মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্তভাবে প্রার্থীদের সুপারিশ করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনসুর আলী চৌধুরী জানান, কুমিল্লা থেকে ৫০৮ জনকে সুপারিশ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৪৭৭ জন কাগজপত্র জমা দেন। ৪৭১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও বাকি ছয়জনের নিয়োগ বিভিন্ন সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে বাতিল হয়েছে। তিনি আরও জানান, তাদের কারও নামে মামলা থাকতে পারে কিংবা অন্য কোনো কারণে প্রতিবেদন বিপক্ষে আসতে পারে।
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ২৫আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ২৬
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত ৪১ চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গত…
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় সক্রিয় হচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের…
পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের পঞ্চগড় জেলা শাখার সহ-সভাপতি নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তাকে…
সৌদি আরবের আসির প্রদেশে জাহেদুল ইসলাম শুভ (২৭) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার…
বাংলা বা ওয়েস্ট বেঙ্গল নয়, এবার বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার…
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২১ বছরের যাত্রায় আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠ বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের সঙ্গে…
This website uses cookies.