Header Premium (728×90)

মনুমেন্তাল ও মেসির ভালোবাসার গল্প: শেষবারের মতো নামছেন জাদুকর

লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২১ বছরের যাত্রায় আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠ বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অনন্য আবেগ। আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোরে রিভার প্লেটের এই মাঠে শেষবারের মতো আকাশি-সাদা জার্সিতে মাঠে নামবেন এই ফুটবল কিংবদন্তি। দেশের মাটিতে মেসির বিদায়বেলায় ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামটি যেন তাঁর এক পরম ভালোবাসার আশ্রয়স্থল।

মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের সঙ্গে মেসির ভালোবাসার বন্ধনটি অন্য সব মাঠের চেয়ে আলাদা। আর্জেন্টিনার মাটিতে এই স্টেডিয়ামেই মেসির গোলসংখ্যা সবচেয়ে বেশি (১৯টি)। জাতীয় দলের হয়ে এই মাঠে খেলা ২৮টি ম্যাচে কখনো হারের মুখ দেখেননি মেসি; যার মধ্যে রয়েছে ২২টি জয় ও ৬টি ড্র। এখানে তাঁর গোল সংখ্যা ১০ এবং ম্যাচপ্রতি গড় গোল ০.৬৭। ২১ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশের অন্যান্য স্টেডিয়ামে মেসিকে কখনো কখনো বিতর্ক বা সংকটের মুখোমুখি হতে হলেও, মনুমেন্তাল তাঁকে সবসময় দুহাত ভরে দিয়েছে সুখস্মৃতি।

মনুমেন্তালের মাটিতে মেসির পথচলা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালের ৫ অক্টোবর। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পেরুর বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের সেই ম্যাচটি ছিল এই মাঠে মেসির প্রথম ম্যাচ। তৎকালীন কোচ হোসে পেকারম্যানের অধীনে ১৮ বছর বয়সী মেসি গোল না পেলেও দুর্দান্ত খেলে একটি পেনাল্টি আদায় করেছিলেন, যা থেকে গোল করেন হোয়ান রোমান রিকেলমে। অন্য গোলটি ছিল আত্মঘাতী। এরপর ২০০৮ সালের ১১ অক্টোবর এই মাঠেই নিজের প্রথম গোলের দেখা পান মেসি। ২০১০ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উরুগুয়ের বিপক্ষে আলফি বাসিলের অধীনে খেলা সেই ম্যাচে ম্যাচের মাত্র ৫ মিনিটে হেডে গোল করেছিলেন তিনি। ম্যাচটিতে অন্য গোলটি করেছিলেন সের্হিও আগুয়েরো।

২০১২ সালের ২ জুন এই স্টেডিয়ামে প্রথমবার মেসির জাদুকরী রূপ দেখে দর্শকরা। ২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে আলেহান্দ্রো সাবেয়ার অধীনে ইকুয়েডরকে ৪-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা, যেখানে চারটি গোলেই অবদান ছিল মেসির। তিনি নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি আগুয়েরো, গঞ্জালো হিগুয়েন ও আনহেল দি মারিয়ার গোলে অবদান রাখেন। ২০১৭ সালে চিলির বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচেও মেসির পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা। এছাড়া, ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কোভিড মহামারির পর ৩০ শতাংশ দর্শক নিয়ে বলিভিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেন মেসি। এই ম্যাচেই তিনি ৭৯ গোল নিয়ে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের রেকর্ড ভেঙে দক্ষিণ আমেরিকার আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।

কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বরণ করে নেয় মনুমেন্তাল। পানামার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের সেই প্রীতি ম্যাচে ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন মেসি, যা ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর ৯৯তম ম্যাচ এবং ক্যারিয়ারের ৮০০তম গোল। এরপর ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে জেতান মেসি, যা ছিল দেশের মাটিতে তাঁর সর্বশেষ অফিশিয়াল ম্যাচ। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরেও ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে তিনি দুটি গোল করেছিলেন। বিদায়ের এই ক্ষণে ৮৫ হাজার আসনের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে মেসির শেষ ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ এখন তুঙ্গে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার সমীকরণ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রাপ্তি, প্রত্যাশা…

3 minutes ago

এলপিজির দাম সমন্বয়ে সরকার বাধ্য হয়েছে: উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

এলপিজির দাম সমন্বয়ে সরকার বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা.…

4 minutes ago

যুদ্ধাপরাধ আদালতের ক্ষমতা কমানোর উদ্যোগে কসোভোয় পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ

হেগভিত্তিক যুদ্ধাপরাধ আদালতের ক্ষমতা কমানোর উদ্যোগ নিয়ে কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক…

17 minutes ago

তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপে সাতক্ষীরার জয়জয়কার: ৩ স্বর্ণসহ ৪ পদক

রাজধানীর মিরপুরে অনুষ্ঠিত ক্লাব কাপ ওপেন তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়েছে সাতক্ষীরা তায়কোয়ানডো ক্লাব।…

21 minutes ago

সরকারি কর্মকর্তাদের ৪২ ধরনের ভাতা করমুক্ত, করযোগ্য মাত্র ৩টি আয়

সরকারি কর্মকর্তাদের ৪২ ধরনের ভাতা করমুক্ত থাকলেও মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাসের ওপর আয়কর…

23 minutes ago

পুরান ঢাকার ডিসি অফিসের ছাদে পাখিদের অভয়ারণ্য ‘আকাশনীড়’

পুরান ঢাকার জনসন রোডের ব্যস্ত এলাকায় পাখিদের জন্য এক অনন্য আশ্রয়স্থল ‘আকাশনীড়’ গড়ে তুলেছে ঢাকা…

27 minutes ago

This website uses cookies.