কুমিল্লা নগরের অন্যতম আতঙ্কের নাম কিশোর গ্যাং ‘আর স্কোয়াড’ বা ‘রতন গ্রুপ’-এর প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনকে (২৫) তাঁর প্রধান সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কক্সবাজার থেকে রতনের পাশাপাশি তাঁর ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত সাইফুল ইসলামকেও (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাং প্রধান রতনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৯টি এবং সাইফুলের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে।
শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কিশোর গ্যাংবিরোধী পঞ্চম দফার বিশেষ অভিযানে মোট ৩৭০ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ২৭৯ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি ৯১ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই অভিযানে ‘ক্রাইম সেটআপ’ নামের আরেকটি কিশোর গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতা মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) ও তাঁর সহযোগী রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪) গ্রেপ্তার হন।
কুমিল্লা নগরে ২০১৫ সালের পর থেকে ‘গ্যাং কালচার’ বা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ছড়িয়ে পড়ে। শুরুর দিকে আতঙ্ক সৃষ্টি করা গ্রুপগুলোর অন্যতম ছিল এই ‘আর স্কোয়াড’, যা অনেকের কাছে ‘র (Raw) স্কোয়াড’ নামেও পরিচিত। ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট কুমিল্লা নগর উদ্যানের সামনের সড়কে আওয়ার লেডি অব ফাতিমা স্কুলের সামনে ১৭ বছর বয়সী কিশোর শাহাদাত হোসেনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করার পর রতন গ্রুপের নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। র্যাব সে সময় জানিয়েছিল, রতন গ্রুপ ও ইগল গ্রুপের আধিপত্যের দ্বন্দ্বের জেরে শাহাদাতকে হত্যা করা হয়। ওই মামলায় রতনকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে পুলিশ, র্যাব ও ডিবির অভিযানে মোট ১৭ জন গ্রেপ্তার হন।
এরপর ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল নগরের ধর্মসাগরপাড়ের রানীর কুঠি এলাকায় নাফিজ অময় নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে, যেখানে তাঁর একটি হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই ঘটনায় করা মামলায় রতন ও সাইফুলসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রতন ও সাইফুলের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল নাফিজের ওপর হামলা চালিয়েছিল। এর জের ধরে ২৫ এপ্রিল নগরের রানীর দিঘির পাড়, তালপুকুরপাড় ও আদালতপাড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে অস্ত্রের মহড়া চলে। পরদিন ২৬ এপ্রিল রাতে র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে রতনসহ ১৮ জনকে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তবে জামিনে বের হয়ে রতন পুনরায় এলাকায় সক্রিয় হন এবং পুলিশি অভিযানের মুখে আত্মগোপনে চলে যান।
সচেতন নাগরিকদের মতে, বারবার গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও এই কিশোর গ্যাংয়ের নেটওয়ার্ক কীভাবে টিকে থাকে, তা একটি বড় প্রশ্ন। রতন আত্মগোপনে থাকলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাইফুলের মাধ্যমে গ্রুপের কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। সম্প্রতি রতনের সঙ্গে এক ছাত্রদল নেতার ফোনালাপও প্রকাশ্যে এসেছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান জানান, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি নিজেদের পেশিশক্তি বাড়াতে এসব কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন, যা অতীতেও দেখা গেছে এবং বর্তমানেও চলছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে রাজনৈতিক বা যেকোনো প্রভাবশালী ‘বড় ভাই’ যদি এদের পেছনে থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব…
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৪৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা…
খুলনার কয়রা উপজেলার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনে প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের একটি মাস্টার প্ল্যান…
সারা দেশে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে দুই কোটি শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী…
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র…
পাবনার ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের নৈশ প্রহরী পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১ লাখ ২০…
This website uses cookies.