নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় অভিনব কৌশলে একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে ৯৩টি জাল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির অভিযোগে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে মোক্তারপাড়া এলাকার দত্ত মার্কেটের সিদ্দিক কর্নার ভ্যারাইটিজ স্টোরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া তরুণের নাম রবিউল ইসলাম ওরফে রনি (২১)। তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গাংগাইর গ্রামের বাসিন্দা এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। নেত্রকোনায় তিনি মূলত তার স্ত্রীর কাছে এসেছিলেন। গতকাল বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে রবিউলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রবিউল ইসলাম ভুয়া এনআইডি প্রিন্ট করার উদ্দেশ্যে দত্ত মার্কেটের ওই দোকানে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ডিবির সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক দেবাংশু কুমার দেব জানান, রবিউলের কাছ থেকে উদ্ধার করা সাতটি প্রিন্ট করা এনআইডিতে ভিন্ন ভিন্ন নাম, বাবার নাম, জন্মতারিখ ও পরিচয় নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সব কটি এনআইডিতে একই ব্যক্তির ছবি রয়েছে, যেখানে শুধু শার্টের রঙ ভিন্ন দেখা যায়। এছাড়া কাগজের ওপর প্রিন্ট করা আরও ছয়টি এনআইডির পেছনের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোতে একই ছবি ব্যবহার করে আলাদা আলাদা ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। পরে রবিউলের মুঠোফোন জব্দ করে পরীক্ষা করা হলে সেখানে আরও ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি পাওয়া যায়। সেগুলোতেও ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী রানাকে।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন জানান, একজনের একাধিক এনআইডি করার কোনো সুযোগ নেই। ডাবল এন্ট্রি হলেই তা নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধরা পড়ে এবং তখন কমিশনের পক্ষ থেকে জালিয়াতির মামলা করা হয়। তিনি আরও বলেন, ওই তরুণ যে কাজটি করেছেন, সেজন্য তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হতে পারে। অন্যের তথ্য বা ছবি বিকৃত করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। কমিশনে কর্মরত কেউ এই অপরাধ করলে তার জন্য এক ধরনের শাস্তি, আর সাধারণ ব্যক্তি হিসেবে করলে তার শাস্তি ভিন্নতর। যে ধারায় মামলাটি হয়েছে, তাতে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
তাঁর কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ৭টি জাল এনআইডি, ৬টি এনআইডির পেছনের অংশ এবং মুঠোফোনে থাকা ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ৫ কেজি গাঁজাসহ মো. আরিফ হোসেন নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে…
হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্ট পুনঃ ইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এখন…
দেশের মানুষ যখন নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে, তখন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যদের…
নারী রেফারিকে অশালীন মন্তব্য ও শারীরিক হেনস্তার দায়ে কলম্বাস ক্রু ২-এর কোচ ফেদেরিকো হিগুয়েইনকে বরখাস্ত…
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, যোগ্য জনশক্তি গড়ে তুলতে নিয়মিত…
ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য ছিল, বিএনপির কর্মকাণ্ডে তাতে ফাটল ধরেছে বলে মন্তব্য করেছেন…
This website uses cookies.