Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

বালু লুট ঠেকাতে সুনামগঞ্জে নদীতে সিসি ক্যামেরা বসাল পুলিশ

সুনামগঞ্জের ধোপাজান চলতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু লুটপাট বন্ধ করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ। ২০২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর (প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৩৭; 13 September 2026) প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বালু উত্তোলনের ওপর নজরদারি বাড়াতে নদীটিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলো সরাসরি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মোবাইল ফোনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় রাতের আঁধারেও ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার ঘটনা ধরা পড়ছে। পুলিশের এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কারণে বালু চোরদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত ধোপাজান চলতি নদীটি দেশের অন্যতম বৃহৎ বালু ও পাথর মহাল হিসেবে পরিচিত। তবে গত আট বছর ধরে এই মহালটি ইজারাবিহীন অবস্থায় রয়েছে। পরিবেশ বিপর্যয় রোধ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা রক্ষার স্বার্থে ২০১৮ সালে এই নদী থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ সময় ধরে ইজারা না থাকায় এখানে অবাধে বালু লুটপাট চলছিল। দিন-রাত ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার ফলে নদীপাড়ের বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, স্কুল ও মসজিদ বিলীন হয়ে গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই নদী থেকে কয়েকশ কোটি টাকার বালু লুট করা হয়। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তৎকালীন পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত বছরের অক্টোবর মাসে বিআইডব্লিউটিএ ‘লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ২১ লাখ ঘনফুট বিট বালু তোলার অনুমতি দেয়। কিন্তু সাধারণ বিট বালুর পরিবর্তে ড্রেজার বসিয়ে মূল্যবান সিলিকা বালু তোলার অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোলনে নামলে লিমপিডের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে এরপরও রাতের অন্ধকারে ড্রেজার দিয়ে বালু চুরির ঘটনা নিয়মিত রূপ নেয়।

এই পরিস্থিতিতে বালু লুট বন্ধে নতুন কৌশল অবলম্বন করেন বর্তমান পুলিশ সুপার। তাঁর নির্দেশনায় সদর থানার ওসি রতন শেখ ধোপাজান নদীর পুলিশ চৌকিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন। ওসির মোবাইল ফোনে সরাসরি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার ব্যবস্থা থাকায় তিনি কার্যালয়ে বসেই নজর রাখতে পারছেন—কে ড্রেজার চালাচ্ছে কিংবা কারা নৌকায় বালু তুলছে। ক্যামেরায় কোনো অবৈধ তৎপরতা ধরা পড়ামাত্রই পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন জানান, বালু লুটের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যাতে আসামি করা হয়েছে ৭৪১ জনকে। এর মধ্যে ৬০ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আসামিরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে জামিনে বেরিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নদীতে স্থায়ীভাবে বালু লুট বন্ধ করতে হলে সিসি ক্যামেরা নজরদারির পাশাপাশি একটি সমন্বিত টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের আবরার, পেছনে ফেললেন রশিদকে

পাকিস্তানের লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ প্রথমবারের মতো আইসিসি টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠেছেন। তিনি আফগানিস্তানের…

29 minutes ago

টানা সাত দিন কমল বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা সাত দিন ধরে জ্বালানি তেলের দাম কমছে। ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের…

35 minutes ago

মহানবী (সা.)-এর ইনসাফ: মানবজাতির জন্য অনুপম আদর্শ

মানবজাতির জন্য ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠার এক অনুপম আদর্শ হিসেবে মহানবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনকে তুলে…

39 minutes ago

মুকসুদপুরে পৃথক স্থান থেকে নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় পৃথক স্থান থেকে এক নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায়…

1 hour ago

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ৫ গুণ বাড়ালো ইসি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়িয়ে চূড়ান্ত গেজেট…

2 hours ago

মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির সময়সূচি দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী…

2 hours ago

This website uses cookies.