ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের স্মৃতিবিজড়িত বইপত্র, ডায়েরি ও ব্যক্তিগত মূল্যবান সামগ্রী সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়েছে তাঁর নামে গঠিত ফাউন্ডেশন। ৯৬ বছরের দীর্ঘ জীবনে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রসারে নিভৃতে কাজ করে যাওয়া এই গুণী মানুষের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানাভাব ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে তা থমকে আছে। বর্তমানে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কার্যালয়ের ছোট একটি কক্ষে কোনোমতে এসব অমূল্য সম্পদ আগলে রাখা হয়েছে।
ভাষা আন্দোলনের অন্যতম এই সংগঠকের শিক্ষাজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার কারণে। তৎকালীন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আহমদ রফিককে দুই বছর ফেরারি জীবন কাটাতে হয়েছিল। পরবর্তীতে পড়াশোনায় ফিরে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেও তৎকালীন প্রশাসন তাঁকে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ দেয়নি। ফলে চিকিৎসাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। এরপর চাকরি ও উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত লেখালেখির কঠিন পথকেই বেছে নেন এবং শতাধিক মননশীল গ্রন্থ রচনা করেন।
ব্যক্তিজীবনে সম্পদের ব্যক্তিমালিকানায় বিশ্বাসী ছিলেন না আহমদ রফিক। ফলে তিনি কোনো অর্থ সঞ্চয় করেননি। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন রবীন্দ্র চর্চাকেন্দ্র ট্রাস্ট এবং দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছিলেন। এমনকি মৃত্যুর পর চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য নিজের মরদেহটিও দান করে গেছেন। শেষ জীবনে 'পরিবারহীন, স্বজনহীন ও সম্পদহীন' এই মানুষটির চিকিৎসায় রাষ্ট্র কিছুটা পাশে দাঁড়ালেও ততক্ষণে তিনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় চলে গিয়েছিলেন।
তাঁর স্মৃতি ও কাজকে বাঁচিয়ে রাখতে ২০১৮ সালে তাঁরই সম্মতিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন’। আহমদ রফিকের প্রয়াণের পর তাঁর প্রকাশিত-অপ্রকাশিত বইপত্র, ডায়েরি, চিঠিপত্র, ব্যবহার্য জিনিস ও বিভিন্ন স্মারক দেখভালের দায়িত্ব পায় এই ফাউন্ডেশন। বর্তমানে প্রায় দুই হাজারের বেশি বই ও বিভিন্ন মূল্যবান দলিল গোছানোর কাজ চলছে। কিন্তু নিজস্ব কোনো জায়গা না থাকায় একটি এনজিওর দেওয়া ছোট কক্ষে এসব সামগ্রী রাখা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইসমাইল সাদী জানান, তাঁরা আহমদ রফিকের স্মৃতিবিজড়িত জিনিসপত্র নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতি জাদুঘর গড়ে তুলতে চান, যেখানে নতুন প্রজন্ম তাঁর আত্মত্যাগ ও জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তাঁর সংগৃহীত বইপত্র নিয়ে গবেষণা করতে পারবে। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজন। জীবদ্দশায় রাষ্ট্র আহমদ রফিকের প্রতি যথাযথ মূল্যায়ন করতে না পারলেও এখন তাঁর রেখে যাওয়া এসব অমূল্য সম্পদের সুরক্ষায় এগিয়ে আসবে এবং ফাউন্ডেশনের পাশে দাঁড়াবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর শুভানুধ্যায়ীদের।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী বাজারে অনিয়মের অভিযোগে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ…
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহীকে…
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করছেন না ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন…
সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী প্রবণতায় থাকলেও তা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার বেশি হওয়ায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে…
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করতে বিদেশি ট্রেডিং পার্টনার ব্যাংকের নামে প্রারম্ভিক জমা ছাড়াই টাকা ভস্ট্র অ্যাকাউন্ট…
পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সীমান্ত চুক্তিকে আইনি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। বিতর্কিত…
This website uses cookies.