Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

সাইবার সুরক্ষা আইনে অপপ্রয়োগের শঙ্কা গণমাধ্যমের, বিবেচনার আশ্বাস সরকারের

সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে থাকা বিভিন্ন ধারার অপপ্রয়োগের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। তাদের মতে, বাতিল হওয়া বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু গণমাধ্যমবিরোধী বিষয়বস্তু এখানেও যুক্ত করা হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, এই আইন সংবাদপত্রের জন্য নয় এবং এর অপপ্রয়োগ রোধে প্রয়োজনীয় রক্ষাকবচ রাখা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সরকারের উদ্যোগে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনার লক্ষ্যে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনদের সঙ্গে এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং গণমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা অংশ নেন। সভায় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা আইনটি সংশোধনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আলাদা রাখা বা এর জন্য বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

সভায় ডেইলি স্টারের কনসালট্যান্ট এডিটর কামাল আহমেদ আইনের অপপ্রয়োগের ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আইনে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির মামলা করার কথা থাকলেও অনেক সময় তৃতীয় কোনো পক্ষ মামলা করছে এবং আদালত তা গ্রহণ করে আসামিদের জামিন দিচ্ছেন। আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে পুলিশের এ ধরনের মামলা নেওয়াই উচিত নয়। সাজা বাড়ানোর চেয়ে অপপ্রয়োগের পথ বন্ধ করা বেশি জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে মোবাইল কোর্টকে ক্ষমতা দেওয়া হলে অপপ্রয়োগের শঙ্কা আরও বাড়বে, কারণ সাইবার অপরাধ সাধারণ অপরাধের মতো নয়।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের ফলে সাংবাদিকদের ভুক্তভোগী হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ। সাংবাদিকদের ‘ঘরপোড়া গরু’র সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ২৫ ও ২৬ নম্বর ধারায় মানহানি, যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং, অশ্লীল বিষয়বস্তু এবং সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্যসংক্রান্ত বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। অত্যন্ত কঠিন অপরাধের সঙ্গে মানহানিকে যুক্ত করায় জটিলতা বাড়বে। ২৬ ধারায় অপতথ্যের সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও বিমূর্ত হওয়ায় সংবাদমাধ্যমকে আবারও ভুক্তভোগী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই এসব ধারা আরও সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী প্রস্তাবিত संशोधनীর ৮(২) ধারার কথা উল্লেখ করে বলেন, এখানে রাষ্ট্র অবমাননাকর বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের স্বাভাবিক বক্তব্য বা শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই আইন প্রয়োগ করা হলে তা সাংবাদিকদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। সময় টিভির সিইও জুবায়ের বাবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুরক্ষায় ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে আইনের আওতায় আনা এবং বাংলাদেশে তাদের অফিস খোলার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কথা বলেন। এছাড়া আমার দেশের যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, বাতিল হওয়া ডিজিটাল আইনের গণমাধ্যমবিরোধী ধারাগুলো সুকৌশলে এই খসড়ায় যুক্ত করা হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের এসব উদ্বেগের জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণমাধ্যম, অনলাইন মাধ্যম এবং সমাজকে কীভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়, তার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রেখেই আইনটি করা হচ্ছে। সব বিষয়ের জন্য আলাদা আইন করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান জানান, আইনটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এমনভাবে এটি করা হবে যাতে গণমাধ্যম বা অন্য কারও ওপর এর অপপ্রয়োগ না হয়। সভার সভাপতি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, সভায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সবার মতামত নিয়ে একটি ভালো আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আবার সভা ডাকা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অংশীজনদের বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাইবার অপরাধ থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই এই খসড়া করা হয়েছে। বিকল্প কোনো উপায়ে এটি করা সম্ভব হলে সরকার তা বিবেচনায় রাখবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মেটাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশে তাদের অফিস স্থাপনের পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, এটি মূলত সাইবার সুরক্ষা আইন, এখানে প্রিন্ট মিডিয়ার কিছু নেই।

পরামর্শ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক আবদুল হাই সিদ্দিক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, দ্য ডেইলি ওয়াদা-র সম্পাদক শফিকুল আলম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম প্রমুখ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন…

58 seconds ago

জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা ও দাদাগিরি যত বাড়বে, ইরানি…

4 minutes ago

ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ

ওমান উপকূলে এমভি কেপ দাও নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজে মিসাইল হামলার শিকার হয়েছে। হামলায়…

15 minutes ago

ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিন বন্ধু বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল…

36 minutes ago

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের…

49 minutes ago

নিউইয়র্কে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে জনস্বাস্থ্য ও…

60 minutes ago

This website uses cookies.