‘আত্মহত্যা সম্পর্কিত ধারণার পরিবর্তন’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। দিবসটির মূল আহ্বান হলো আত্মহত্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের নীরবতা ও কলঙ্ক ভেঙে এ বিষয়ে খোলামেলা কথোপকথন শুরু করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৭ লাখ ২৭ হাজার মানুষ আত্মহত্যায় প্রাণ হারান। বিশেষ করে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে এটি মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ, যার প্রায় ৭৩ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে থাকে।
দিবসটি সামনে রেখে গতকাল রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নীরবতা থেকে পদক্ষেপ : তরুণদের আত্মহত্যা বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ শীর্ষক এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টাকে আইনের মাধ্যমে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার যে বিধান রয়েছে, তা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক স্টিগমা বা কলঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলছে। তিনি আত্মহত্যার চেষ্টাকারী ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে না দেখে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং এ বিষয়ে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতালের আধুনিকায়ন, ঢাকার মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীকরণ এবং কমিউনিটিভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছাতে টেলি-কাউন্সেলিং ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাড়ানোর পাশাপাশি ‘ইটস গুড টু টক’ নামে একটি প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার বলেন, আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে এমন ব্যক্তিকে দূরে সরিয়ে না দিয়ে তার পাশে দাঁড়াতে হবে। সংকটের সময়ে তাকে একা না রেখে সহায়তা করা জরুরি। ডব্লিউএইচও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহাম্মদ বলেন, ঝুঁকি কমানো, সামাজিক সহায়তা জোরদার এবং সংকটে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন খাত ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চিকিৎসা নিতে গিয়ে যেন কেউ বাধার মুখে না পড়েন, সে জন্য বর্তমান আইন পরিবর্তনের বিষয়টি ভাবার সময় এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সাল থেকে প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থার সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্য ফেডারেশন যৌথভাবে দিবসটি পালন করে আসছে। বিশেষজ্ঞরা তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সমাজে বিদ্যমান নেতিবাচক ধারণা দূরীকরণ এবং ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে জনস্বাস্থ্য ও…
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী বাজারে অনিয়মের অভিযোগে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ…
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহীকে…
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করছেন না ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন…
সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী প্রবণতায় থাকলেও তা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার বেশি হওয়ায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে…
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করতে বিদেশি ট্রেডিং পার্টনার ব্যাংকের নামে প্রারম্ভিক জমা ছাড়াই টাকা ভস্ট্র অ্যাকাউন্ট…
This website uses cookies.