Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদান নিয়ে তুরস্কের অধ্যাপকের বিশ্লেষণ

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে একে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বলে অভিহিত করলেও বিশেষজ্ঞরা এর ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তুরস্কের হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক মুরাত আসলামের মতে, এটিকে আক্রমণাত্মক জোট হিসেবে দেখা ভুল হবে। তিনি জানান, এটি মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট, যার প্রাথমিক উদ্দেশ্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের মধ্যে সংঘাত পরিহার করা। এর বাণিজ্যিক ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নতুন দেশ যুক্ত হওয়ার সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ এই চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। তবে জোটে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গতকাল সংসদে জানিয়েছেন, বর্তমান সদস্যদের অভিপ্রায়ের ওপরই এই যোগদানের বিষয়টি নির্ভর করছে। সদস্য দেশগুলো আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তিনি একে মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এতে অন্যদের উদ্বেগের কোনো অবকাশ নেই।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজ মনে করেন, এই জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশ তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং এআই পার্টনারশিপের সুযোগ পেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে তুরস্ক থেকে বায়রাক্তার ড্রোন এবং অটোকার কোবরা ভেহিকেল আমদানি করছে, যা এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে অধ্যাপক মুরাত আসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, এটি ন্যাটো নয়, কারণ এখানে ন্যাটোর মতো কোনো কেন্দ্রীয় কমান্ড স্ট্রাকচার বা যৌথ সেনাবাহিনী নেই। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, অতীতে সৌদি আরব ইরানের হামলার শিকার হলেও পাকিস্তানকে কোনো যুদ্ধে জড়াতে হয়নি।

এই জোটের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান এই জোটের সদস্য হওয়ায় ভারত শুরু থেকেই একে সন্দেহের চোখে দেখছে। ফলে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কোনো বিরোধ তৈরি হলে এই জোটের ভূমিকা কী হবে এবং বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

রাজধানীর ছয় রুটে একক কোম্পানির বাস চালুর সিদ্ধান্ত

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যানজট কমাতে ছয়টি রুটে একক কোম্পানির অধীনে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত…

46 minutes ago

নেত্রকোনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান নিহত

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামের এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাতে…

1 hour ago

রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের ২০ হামলায় নিহত ১৭

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ অক্টোবরের পর থেকে ২০ বার হামলা…

1 hour ago

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩ শিশু ও শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের একটি প্রাথমিক স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। ঘটনায়…

2 hours ago

ফ্রান্সে মূল্যস্ফীতি ৩.১%, এক বছরে জ্বালানির দাম বেড়েছে ২১.৩ শতাংশ

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সে বার্ষিক ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগস্টে ছিল…

2 hours ago

আইএমএফের নতুন ঋণ পেতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে বাংলাদেশকে

বাংলাদেশের জন্য প্রস্তাবিত ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় রাজস্ব আহরণ…

3 hours ago

This website uses cookies.