Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

নারায়ণগঞ্জে বন্দুক হাতে দুই তরুণের ভিডিও ভাইরাল, নেপথ্যে কী?

নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কে কালো রঙের বড় দুটি বন্দুক হাতে দুই তরুণের ঘুরে বেড়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রিকশাচালক, পথচারী থেকে শুরু করে শিশুদের দিকে হঠাৎ বন্দুক তাক করে তাঁদের আতঙ্কিত করার এই ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওটি নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। তবে ভিডিওর নির্মাতাদের দাবি, এটি কোনো বাস্তব অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নয়, বরং মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করতে পরিকল্পিতভাবে তৈরি একটি ‘ফানি ভিডিও’।

ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জের সাবেক শেখ রাসেল নহর পার্ক (বর্তমান সিটি পার্ক) এলাকায় ধারণ করা হয়েছে। এর নির্মাতা বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা এবং তাঁর সহযোগী ইয়াসিন, যিনি মূলত ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করেন। ভিডিওটি প্রথমে টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে আপলোড করা হয়। পরে এটি লিমনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ এবং ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ‘ওয়াফি লিমন’-এ শেয়ার করা হয়।

এ বিষয়ে লিমন তোহা জানান, টিকটকের বিভিন্ন ট্রেন্ড দেখে এবং পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাটক-সিনেমার দৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই ভিডিওটি বানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি মূলত ফানি ভিডিও হিসেবে বানানো। বন্দুক দেখে শুরুতে মানুষ ভয় পেলেও পরে খেলনা বুঝতে পেরে মজা পেয়েছেন। আমরা মানুষের ভয় পাওয়ার অংশটুকু প্রকাশ করেছি, কিন্তু পরে তাঁরা যে মজা করেছেন, সেই অংশটি প্রকাশ করিনি।” লিমনের দাবি, ভিডিও ধারণের সময় পুলিশ সদস্যরাও বিষয়টি দেখেছিলেন এবং খেলনা বন্দুক বুঝতে পেরে তাঁরা কোনো সমস্যা করেননি। পুলিশের প্রতিক্রিয়াও তাঁরা ক্যামেরায় ধারণ করেছিলেন, তবে মান ভালো না থাকায় তা প্রকাশ করা হয়নি।

যদিও ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অধীনে পড়েছে, তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো ভিডিওর বিষয়ে তাঁরা অবগত নন। তিনি বলেন, “আমাদের কেউ এ বিষয়ে জানায়নি বা কোনো অভিযোগও দেয়নি। সিটি পার্ক এলাকায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু তাঁরা বা পার্ক কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছু বলেনি। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব এবং সংশ্লিষ্টতা থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।”

এদিকে বিনোদনের নামে তৈরি করা এই ভিডিওটিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, খেলনা অস্ত্র দিয়ে হোক বা ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্যে হোক, কাউকে ভয়ভীতি দেখানো এবং জনমনে আতঙ্ক তৈরি করা সম্পূর্ণ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া এই প্যানিক তৈরির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে মানুষের মানহানি করা হচ্ছে, যা সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় পড়ে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

‘রাস্তায় খুন’ গান পোস্টের দুই ঘণ্টা পরই গুলিতে নিহত গায়ক অঙ্কিত

ইনস্টাগ্রামে ‘রাস্তায় হত্যা করো’ কথার একটি গান পোস্ট করার মাত্র দুই ঘণ্টার মাথায় উত্তর প্রদেশে…

5 minutes ago

প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা বন্ধের আইনি নোটিশে বিনোদন অঙ্গনের প্রতিবাদ

প্রেমভিত্তিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে আইনি নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ…

7 minutes ago

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় পাশে থাকার আশ্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, নেপালের…

11 minutes ago

ইরানকে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্লেষক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখেও ইরান পিছু হটবে না এবং দেশটিকে বহির্বিশ্ব থেকে…

11 minutes ago

আজ রাতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৯৫ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ শুক্রবার দিনের বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিংয়ের হার বাড়বে…

17 minutes ago

দিনাজপুরে আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা, লক্ষ্য ভালো দাম

শীতের মূল মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে সবজি সরবরাহ করে বাড়তি লাভের আশায় আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম…

19 minutes ago

This website uses cookies.