Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

লোডশেডিংয়ে নাকাল দক্ষিণের ২১ জেলা, গরমে চরম ভোগান্তি

তীব্র গরমে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) আওতাধীন এলাকায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ অনেক কম থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কলকারখানার উৎপাদনও। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালাতে গিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাড়তি জ্বালানি খরচ হচ্ছে, যার ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মূল্যবান যন্ত্রপাতিও ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ছে।

ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১০টায় ২১ জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ৬৫১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৫৩৯ মেগাওয়াট, যার ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ১১২ মেগাওয়াট। ওজোপাডিকোর খুলনা সদর দপ্তরের নির্বাহী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত জেলাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের চিত্রে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং ছিল বরিশালে ২৮ মেগাওয়াট এবং খুলনায় ২৫ মেগাওয়াট। এছাড়া রাজবাড়িতে ১২, কুষ্টিয়ায় ৯, ঝিনাইদহে ৫, মাগুরা ও গোপালগঞ্জে ৪ মেগাওয়াট করে, পটুয়াখালীতে ৩ মেগাওয়াট এবং চুয়াডাঙ্গা, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ঝালকাঠিতে ২ মেগাওয়াট করে লোডশেডিং করা হয়। পিরোজপুর ও চরফ্যাশনে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ১ মেগাওয়াট করে।

এর আগের দিন সোমবারও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ছিল নাজুক। ওজোপাডিকোর সদর দপ্তরের নির্বাহী পরিচালক জ্যোতিষ চন্দ্র রায় জানান, সেদিন খুলনাসহ ২১ জেলায় ৭১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ৫৯৬ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ১২২ মেগাওয়াট। তবে এই ঘাটতির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ তিনি জানাতে পারেননি।

এই বিদ্যুৎ সংকটের বড় প্রভাব পড়ছে স্থানীয় শিল্প খাতে। খুলনা ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্ট লিমিটেডের কমার্শিয়াল ম্যানেজার গোবিন্দ কুমার বাইতী বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। উৎপাদন সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ লিটার তেল পুড়িয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ ও উৎপাদন ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মূল্যবান যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রায় ছয় মাস ধরে তারা এই সমস্যায় ভুগলেও সম্প্রতি এর তীব্রতা অনেক বেড়েছে।

সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। খুলনা মহানগরের নিরালা এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান মুন্না জানান, দিন-রাত মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। অতিরিক্ত গরমে শিশুরা পড়াশোনা করতে পারছে না এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তীব্র গরমে যখন বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তখন এমন সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

আজকের পর্দায় বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচসহ নেশন্স লিগের ফুটবল লড়াই

আজকের টিভিতে দেখা যাবে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ। এছাড়া এশিয়ান গেমস ও নেশন্স…

13 minutes ago

কাশীয়ানীতে ১৯৮ ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জের কাশীয়ানীতে ১৯৮ পিস ইয়াবাসহ উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জুয়েল রানাকে গ্রেপ্তার…

44 minutes ago

ট্রাম্প-শি বৈঠকে সমঝোতা না হলেও যুক্তরাষ্ট্রে আসবে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় চীনা ইভি মার্কিন বাজারে প্রবেশের বিষয়ে কোনো বড়…

58 minutes ago

শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের টাকা লোপাট: পলাতক কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করে পলাতক রয়েছেন। এই ঘটনায়…

1 hour ago

ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তিতে নতুন রেকর্ড

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ২ হাজার…

1 hour ago

১০ বছরে পা দিল আব্রাম, ছেলের জন্মদিনে আবেগপ্রবণ অপু

ঢাকাই সিনেমার তারকা শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের ছেলে আব্রাম খান জয় ১০ বছরে পা…

2 hours ago

This website uses cookies.