Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

৮৫ বছরে পা দিলেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার

নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার ৮৫ বছর পূর্ণ করেছেন। সম্প্রতি ঢাকার বেঙ্গল শিল্পালয়ে তাঁকে ঘিরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর দীর্ঘ কর্মময় ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা। সাংবাদিক কুর্‌রাতুল-আইন-তাহ্‌মিনা এই অনুষ্ঠানে তাঁর ‘রামেন্দু কাকা’র জীবনের ঘরোয়া মানুষটির কথা তুলে ধরেন।

রামেন্দু মজুমদারের সঙ্গে তাহ্‌মিনার আত্মীয়তার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৭০ সালে তাহ্‌মিনার খালার সঙ্গে তাঁর বিয়ের আগে থেকেই তিনি তাঁদের সেন্ট্রাল রোডের নানুবাসায় যাতায়াত করতেন। তৎকালীন সময়ে তাঁদের পরিবারে তিনি ‘কাকা’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন এবং সেই সম্বোধনই আজীবন রয়ে গেছে। হাতিরপুল পুকুরপাড়ের বাসায় থাকাকালীন সময়েও তিনি ছিলেন পরিবারের একজন ঘনিষ্ঠ মানুষ। ছোটবেলায় কাজিনদের সঙ্গে আলাপচারিতায় রামেন্দু মজুমদারের প্রেমের ধরন নিয়ে তাহ্‌মিনাদের অকালপক্ব আলোচনার স্মৃতি আজও উজ্জ্বল।

স্মৃতিচারণায় উঠে আসে রামেন্দু মজুমদার ও তাঁর স্ত্রী ফেরদৌসী মজুমদারের (যাঁকে তাহ্‌মিনা ‘পিচ্চি’ বলে ডাকেন) নাট্যচর্চার দিনগুলোর কথা। ইন্দিরা রোডের বাসায় সন্ধ্যায় খাবার টেবিলে তাঁদের নাটকের সংলাপ চর্চার দৃশ্য তাহ্‌মিনাকে মুগ্ধ করত। রামেন্দু মজুমদার স্বভাবগতভাবেই কম কথা বলেন, তবে ছোটদের প্রতি তাঁর নীরব স্নেহ ও ভরসার জায়গাটা ছিল অকৃত্রিম। ঈদের দিনে নানুবাসায় দেখা হলে তিনি নিয়মিত ঈদি হিসেবে টাকা দিতেন, যা ছোটদের কাছে দারুণ আনন্দের ছিল। এছাড়া মাসের শুরুতে সংসারের খরচের হিসেব রাখা বা বিটপী বিজ্ঞাপনী সংস্থার অফিসে তাঁর কর্মব্যস্ততা—সবকিছুই পরিবারের অংশ হয়ে উঠেছিল।

রামেন্দু মজুমদারের রসবোধ সম্পর্কে তাহ্‌মিনা জানান, তাঁর হিউমার ছিল ড্রাই হিউমার ঘরানার—মন্তব্যগুলো ছোট কিন্তু মোক্ষম। এমএ পরীক্ষায় ভালো ফলের পর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সেই সময়’ উপহার দেওয়া কিংবা তাহ্‌মিনার শিক্ষকতায় যোগ দেওয়া ও পরবর্তীতে তা ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় তাঁর আনন্দ ও দুঃখের বহিঃপ্রকাশ ছিল স্পষ্ট। পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আপনজন। তাঁর স্নেহ আর যত্ন নেওয়ার প্রবণতা ছিল সহজাত। এমনকি অনেক বছর আগে তাহ্‌মিনার বাসায় বিদায় নেওয়ার সময় সিঁড়িতে তাঁর নাচ দেখার যে স্মৃতি, তা আজও তাহ্‌মিনাকে আবেগাপ্লুত করে। ৮৫তম জন্মদিনে এই নাট্যব্যক্তিত্বের প্রতি রইল অশেষ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

তো ’৬৯-৭০ সালের কোনো একদিনে আমরা তিন-চারজন কাজিন নানুবাসার দোতলায় বাইরের দিকের ছোট ছাদে প্রেম বিষয়ে আলাপ করছিলাম।

রামেন্দু কাকা মাসের শুরুতে খাত ধরে খামে টাকা ভাগ করে দিতেন।আমার বড় হওয়ার কালে ৩৫ তোপখানা রোডে বিটপী বিজ্ঞাপনী সংস্থার অফিসটা আমাদের কাছে পরিবারের মতোই ছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

রপ্তানি খাতের গতি বাড়াতে ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা ছাড়

দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের গতিশীলতা ফেরাতে ও বকেয়া নগদ সহায়তা দ্রুত বিতরণের জন্য ৫০০ কোটি…

3 minutes ago

নরসিংদীতে মানব পাচার প্রতিরোধ ও সারভাইভারদের পুনর্বাসনে কর্মশালা

নরসিংদীতে মানব পাচার প্রতিরোধ, উদ্ধারপ্রাপ্ত সারভাইভারদের পুনর্বাসন এবং তাদের জন্য সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি…

8 minutes ago

দুই মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৩৮২ কোটি ডলার

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ শতাংশ…

23 minutes ago

দিল্লির রাজপথে অস্থিরতা ও একচিলতে আশার আলো

দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা এবং পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে এই…

38 minutes ago

কিডনি বিক্রি করেও কাটল না অভাব, চুরির মামলায় গ্রেপ্তার যুবক

অভাবের তাড়নায় এক মাস আগে কিডনি বিক্রি করেও অভাব কাটেনি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ছামছুল ইসলামের।…

1 hour ago

চকরিয়ায় সড়ক দখলমুক্ত করতে দুই শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরে সড়ক দখল করে গড়ে তোলা দুই শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেছে উপজেলা…

1 hour ago

This website uses cookies.