Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

শাহজালাল বিমানবন্দরে কমছে বিমানবাহিনীর সদস্য, ফিরছে বেসামরিক কর্তৃত্ব

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বিমানবন্দরে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা হচ্ছে। প্রথম ধাপে বর্তমানে কর্মরত প্রায় ১ হাজার ৪৫০ জন বিমানবাহিনী সদস্যের অর্ধেককে প্রত্যাহার করা হবে। এরপর তিন মাস পর অবশিষ্ট সদস্যদের মধ্য থেকে আরও অর্ধেক সরিয়ে নেওয়া হবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়া শেষে বিমানবন্দরে মোতায়েন বিমানবাহিনীর সদস্যসংখ্যা বর্তমানের এক-চতুর্থাংশে নেমে আসবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) প্রথম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছর পর এই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো। বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বেবিচকের নিজস্ব এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক), এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং অন্যান্য নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়িয়ে ধীরে ধীরে অতিরিক্ত এই সামরিক উপস্থিতি কমানো হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নেতৃত্ব মূলত বেসামরিক কর্তৃপক্ষের হাতেই থাকা উচিত।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী অত্যন্ত কার্যকর। তবে দীর্ঘমেয়াদে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিচালনার দায়িত্ব বেসামরিক নিরাপত্তা সংস্থা ও বিশেষায়িত এভিয়েশন সিকিউরিটি ইউনিটের হাতেই থাকা উচিত। এতে জবাবদিহি ও কমান্ড স্ট্রাকচার স্পষ্ট থাকে। তিনি আরও যোগ করেন, একাধিক সংস্থা যদি সমান্তরালভাবে কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনায় ইউনিফায়েড কমান্ড ও স্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোনো একটি বাহিনীর উপস্থিতি অতিরিক্ত বেশি এবং অন্যটির কম—এমন ভারসাম্যহীনতা দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে নিয়ে খুব শিগগিরই আরও বৈঠক করা হবে।

সূত্রমতে, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা দূর করতেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আনসার সদস্যরা কর্মবিরতিতে গেলে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় বিমানবাহিনী। তবে এই দায়িত্ব হস্তান্তরের পর থেকেই অভ্যন্তরীণ কর্তৃত্ব নিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও বিমানবাহিনীর মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় প্রবেশ, অভিযান পরিচালনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, দাপ্তরিক কাজে বাধা ও অফিস দখলের অভিযোগ এনে এপিবিএনের পক্ষ থেকে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়, যা পরবর্তীতে আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

এরই ধারাবাহিকতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে এপিবিএনের দায়িত্ব পুনর্বহাল এবং বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবিতে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো ওই নোটিশে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিমানবাহিনী প্রধানসহ আটজনকে বিবাদী করেন। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর সরকার এখন নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন ভারসাম্য আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমানবন্দরের দৈনন্দিন নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের নেতৃত্ব থাকবে বেসামরিক সংস্থাগুলোর হাতে। তবে ভবিষ্যতে কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট বা জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে, দীর্ঘ প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষা না করেই বিমানবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করার প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নেতৃত্ব বেসামরিক সংস্থাগুলোই দেবে। তবে বড় কোনো সংকট দেখা দিলে যাতে তাৎক্ষণিকভাবে সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা নেওয়া যায়, সেজন্যই এই বিশেষ সমঝোতা স্মারকের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

Recent Posts

বকেয়া বেতনের দাবিতে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিকদের অবস্থান

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বকেয়া বেতন ও প্রফিট বোনাস পরিশোধের দাবিতে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রশাসনিক ভবনের…

12 minutes ago

অফিস সময়ে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখায় চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

সরকারি অফিস চলাকালে বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখার অপরাধে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক জুনিয়র…

16 minutes ago

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি পদে ফিরলেন নাসিম হোসাইন

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি পদে পুনরায় পুনর্বহাল করা হয়েছে জ্যেষ্ঠ নেতা নাসিম হোসাইনকে। এর মধ্য…

18 minutes ago

চ্যানেল আইতে আজ শাকিব খানের বিশেষ অনুষ্ঠান হ্যালো শাকিব খান

দেশের শীর্ষ চিত্রনায়ক শাকিব খানের ব্যক্তিজীবন ও অভিনয় জীবনের অজানা সব গল্প নিয়ে সাজানো বিশেষ…

29 minutes ago

এক মাসের মধ্যে আরও ২০০ ক্রীড়াবিদ পাচ্ছেন নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা

দেশের আরও ২০০ ক্রীড়াবিদ আগামী এক মাসের মধ্যে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতার আওতায় আসছেন। যুব ও…

30 minutes ago

সিলেটে সাবেক নৌপ্রধান মাহবুব আলীর নামে হবে বিজ্ঞান জাদুঘর

সিলেট নগরে সাবেক নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের নামে একটি আধুনিক বিজ্ঞান জাদুঘর…

33 minutes ago

This website uses cookies.