রাজধানীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ জামতলা এলাকায় নিজ বাসায় দন্তচিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তার স্বামী মো. সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে গ্রিল কেটে ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ড বলে সাজানোর চেষ্টা করা হলেও সিআইডির উদ্ধার করা একটি জুতার ছাপের সূত্র ধরে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবারের এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বোন সারাহ সুলতানা পলি বাদী হয়ে শুক্রবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা করেন। এরপর তদন্তে নেমে সন্দেহভাজন হিসেবে পিনুর স্বামী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই হাবিবুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাৎ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে আগামী সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকাল ১১টা ২০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে যেকোনো সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে ওই নারীকে হত্যা করে এবং প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। তবে সিআইডি সদস্যরা তদন্তের সময় জানালার ভেতরের অংশের বারান্দায় একটি জুতার ছাপ খুঁজে পান। পরবর্তীতে বাসায় থাকা সোহেল রানার একজোড়া জুতার ছাপের সঙ্গে সিআইডির পাওয়া ছাপের মিল মেলে। এরপরই পুলিশ সোহেল রানাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান জানান, যে জানালার গ্রিল কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেটি অন্য একটি বাড়ির প্রশস্ত ও খোলা ছাদের সঙ্গে লাগানো। দিনের আলোতে ওই ছাদ দিয়ে এসে কেউ গ্রিল কাটলে তা প্রতিবেশীদের চোখে পড়ার কথা। কিন্তু আশপাশের বাড়ির কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই সময় গ্রিল কাটার কোনো শব্দ বা কাউকে সেখানে ঘোরাঘুরি করতে দেখার তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা তার স্ত্রীর প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নিহত পিনুর ১০ বছর বয়সী মেয়ে হাসিন ওয়ামী পুলিশকে জানিয়েছে, প্রতিদিন সে স্কুলে যাওয়ার সময় তার মা বিছানা থেকে উঠে তার ইউনিফর্মের দিকে তাকাতেন এবং তারপর ভেতর থেকে দরজা আটকে আবার ঘুমাতে যেতেন। কিন্তু ঘটনার দিন তার মা বিছানা থেকে ওঠেননি। তার বাবা তাকে বলেছিলেন, মা পরে উঠে দরজা লাগিয়ে দেবেন। স্কুলে যাওয়ার আগে ওয়ামী তার মায়ের কোনো নড়াচড়া বা কথা শুনতে পায়নি। বিকেলে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে সে দরজা ভেজানো দেখতে পায় এবং ঘরে ঢুকে তার মাকে খাটের ওপর চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতে দেখে, যার মুখের ওপর বালিশ চাপা দেওয়া ছিল। মাকে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে এবং হাত-পা ঠান্ডা ও শ্বাস বন্ধ বুঝতে পেরে সে স্কুলে গিয়ে প্রিন্সিপালের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবাকে বিষয়টি জানায়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে পিনু ছিলেন সবার ছোট। পিনুর ১৬ বছর বয়সী ছেলে সালেহীন ওহি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণিতে এবং মেয়ে ওয়ামী তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। পিনুর বড় বোন পান্না জানান, সোহেল রানা উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরে একটি ডেভেলপার কোম্পানিতে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। সোহেল পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন এবং এমনকি পিনুর মেয়ের বান্ধবীর মাকেও প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে পিনু এই সংসার টিকিয়ে রেখেছিলেন। নিহতের বোন পলি সাংবাদিকদের জানান, পিনু প্রায়ই ফোনে কেঁদে বলতেন যে সোহেল তাকে মেরে ফেলবে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২: ৩০আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২: ৪৮
নিয়মিত অভিবাসনের পথ প্রশস্ত করা, অভিবাসীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং শ্রমবাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার…
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভাগভিত্তিক লংমার্চের কথা…
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার আমতলা বাজার থেকে পাঙ্গাসিয়ার পাড় পর্যন্ত দীর্ঘদিনের অবহেলিত সড়কটির সংস্কার ও নির্মাণের…
দ্বিতীয় সন্তান মিদাসের জন্মের দুই মাস পরই আর সন্তান না নেওয়ার কথা জানালেন ইনফ্লুয়েন্সার মলি-মে…
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নিজ…
মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে যুদ্ধের আশঙ্কা হ্রাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৪ শতাংশের…
This website uses cookies.