Header Premium (728×90)

জেলা/স্থানীয়

নবীনগরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬ টি ঘর বিক্রির অভিযোগ

আবু হাসান আপন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের নূরজাহানপুর গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৯৫টি ঘরের মধ্যে ৬টি ঘর অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে বরাদ্দপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীরা। কিনে নেওয়া ব্যক্তিরা এখন ওইসব ঘরে বসবাস করছে। ঘর বরাদ্দের তালিকা প্রণয়নে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তবে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা তা অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, জনপ্রতি ২শতক জমি ও প্রতিটি ঘর নির্মাণে সরকার ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আর বরাদ্দপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীরা এ ঘর বিক্রি করেছে মাত্র ২৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকায়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘর বরাদ্দের তালিকা প্রণয়নে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। ফলে বরাদ্দপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীরা এ ঘর বিক্রি করে দিয়েছে। আর এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ৯৫টি ঘরের মধ্যে ৩০টি ঘর তালাবদ্ধ রয়েছে।

শুক্রবার (২৭)জানুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, নূরজাহানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২ নং গলির ৩ নং ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন মৃত আফছর উদ্দিনের স্ত্রী সাধনের নেছা ও তার রুবেল। কিন্তু স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ওই ঘরটি ২৫ হাজার টাকায় কিনে সেখানে বসবাস করছেন সোহেল মিয়া তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম। একই গলির ২ নং ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন গাজী মদন ও স্ত্রী জুলেখা বেগম। কিন্তু এ ঘর ৩৫ হাজার টাকায় কিনে সেখানে বসবাস করছেন রহিমা বেগম ও তার স্বামী ইমন মিয়া। ২ নং গলির ডান পাশের ৯ নং ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন মৃত ফজলুল মিয়ার স্ত্রী হেনা বেগম। তবে হেনা বেগম থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ক্রয় করে ওই ঘরে বসবাস করছেন মৃত হামিদ মিয়া স্ত্রী নাজমা বেগম। একই গলির ডান পাশের ১৭নং ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন ধরাভাঙা গ্রামের হাবিব মিয়া। কিন্তু এ ঘর ২২ হাজার টাকায় কিনে সেখানে বসবাস করছেন থোল্লাকান্দি গ্রামের এক ভিক্ষুক নার্গিস বেগম। বড়িকান্দি গ্রামের ইকবাল হোসেন প্রথম গলির ৯নং ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। কিন্তু ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সেখানে বসবাস করছেন বড়িকান্দি গ্রামের কালন মিয়ার ছেলে মোঃ মোক্তার হোসেন ও তার পরিবার। ২ নং গলির বাম পাশের ৯নং ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন কাসেম স্ত্রী জমেলা বেগম। এ ঘর ৩০ হাজার টাকায় কিনে এখানে বসবাস করছে হক সাহেব ও তার পরিবার। বসবাসকারী ব্যক্তিরা টাকা দিয়ে ঘর কেনার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের কোনো বাড়িঘর নেই। আবেদন করেও ঘর বরাদ্দ পাইনি। তাই নিরুপায় হয়ে বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তির কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ঘর কিনে বসবাস করছি।

এবিষয়ে নবীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, এইটা তো আমার কাজ না, এইটা ইউএনও এসিল্যান্ড এর কাজ। এ বিষয়ে ওনারাই ভালো জানেন। আমি শুধু তালিকা অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছি।

এবিষয়ে নবীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাহমুদা জাহান বলেন, আমি তো নতুন কিছুদিন হয় নবীনগরে এসেছি। ইউএনও স্যারকে অবগত করে অবশ্যই তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া গেলে ঘর বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

selim

Recent Posts

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুরে সাহাবীর হত্যা মামলায় বাবা-ছেলে কারাগারে

মোঃ ওবাইদুল হক স্টাফ রিপোর্টার যশোর। বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুরে সাহাবীর হত্যা মামলায় আত্মসমর্পণকারী বাবা-ছেলেকে কারাগারে…

3 days ago

নারায়ণগঞ্জে জুলাই বিপ্লব বার্ষিকীর মাসব্যাপী কর্মসূচি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন ও কর্মসূচি ঘোষণা। মোঃ ইসমাইল হোসেন,

স্টাফ রিপোর্টার : জুলাই বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ…

3 days ago

ছাগলনাইয়াতে ট্রাক্টর ও সিএনজির সংঘর্ষে নিহত-১

ফখরুল আলম সাজু ফেনী জেলা ছাগলনাইয়া উপজেলার উত্তর যশপুর রৌশন ফকির মাজার সংলগ্ন এলাকায় ট্রাক্টর…

5 days ago

ঢাকার ১৯ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআই ক্যামেরা চালু, দেড় হাজার মামলা রেকর্ড

ফখরুল আলম সাজু রাজধানী ঢাকাতে বর্তমানে ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা চালু রয়েছে বলে…

5 days ago

সোনাগাজীতে ময়লার স্তূপে কারণে অতিষ্ঠ জনজীবন মানুষের মধ্যে ক্ষোভ

তিমির চন্দ্র দাস, ক্রাইম রিপোর্টার ফেনী: ফেনী জেলা সোনাগাজী উপজেলা মতিগঞ্জে ময়লার স্তূপে কারণে অতিষ্ঠ…

5 days ago

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খুনি গ্রেফতার, রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার

মোঃ পলাশ সালমান ​কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ জেলা কটিয়াদী উপজেলাতে শফিকুল ইসলাম ওরফে কালা মিয়া…

5 days ago

This website uses cookies.