খানপাড়া গ্রামে ইটের পরিবর্তে প্লাস্টিক বোতলের দৃষ্টিনন্দন বাড়ি দূরদূরান্ত থেকে মানুষ বাড়িটি দেখতে ভিড়
স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার খানপাড়া গ্রামে ইটের পরিবর্তে প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে গড়া হয়েছে এক দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। বিভিন্ন রঙের ফেলে দেওয়া খালি বোতলে বালু ও সিমেন্ট ভরে পানিতে ভিজিয়ে রেখে গাঁথুনি করা হয়েছে দেয়ালে। এরপর সবুজ টিনের চালা বসানো হয়েছে। ৩ কক্ষবিশিষ্ট এই আধা পাকা বাড়ি এখন এলাকাজুড়ে বোতলবাড়ি নামে পরিচিতি পেয়েছে।
প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ বাড়িটি দেখতে আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোচালক আবদুল হাকিম (৩২) এটি বানিয়েছেন।
আবদুল হাকিম জানান, ৩০ হাত দৈর্ঘ্যের বাড়িটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার প্লাস্টিকের বোতল। প্রতিটি বোতলের ধারণক্ষমতা ২৫০-৩০০ গ্রাম। খালি বোতল কিনতে হয়েছে কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা দরে। বালু ও সিমেন্ট কতটা লেগেছে, তা তিনি সঠিকভাবে জানাতে পারেননি। গত সাত মাসে কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখনো প্লাস্টার, জানালা, দরজা, ছাদ ও অন্যান্য কাজ বাকি। অসমাপ্ত অবস্থায় হাকিম পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন।
বাড়িটি বানাতে এখন পর্যন্ত মোট খরচ হয়েছে ১১ লাখ টাকার বেশি। হাকিমের হিসাব মতে, একই আকারের একটি ইটের বাড়ি করতে ৪-৫ লাখ টাকা খরচ হতো।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, পাকা সড়ক ঘেঁষে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। এই সড়কে যাতায়াতকারী লোকজন বাড়িটি দেখে দাঁড়াচ্ছেন। ব্যস্ততার মধ্যেও একটু দাঁড়িয়ে বাড়িটি দেখছেন। বাড়ির লোকজনের কাছে নানা কিছু জানতে চাইছেন। অনেকে দূরদূরান্ত থেকে বাড়ি দেখতে এসেছেন। তাঁরা বাড়ির সামনে সেলফি তুলছেন।
লক্ষ্মীপুর দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্বপন কুমার সরকার জানান, আমি বাড়িটি মাঝেমধ্যে দেখতে আসি। এটি পরিবেশবান্ধব। বোতল দিয়েও এমন সুন্দর বাড়ি করা যায় হাকিমের বাড়ি না দেখলে তা বিশ্বাস করা কঠিন। সামর্থ্য হলে আমিও এ রকম বাড়ি বানাব।
খালপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান জানান, প্রতিদিন অনেক লোক বাড়িটি দেখতে আসেন। এ কারণে এলাকাটি সব সময় মুখরিত থাকে। রংপুর থেকে আসা স্কুলশিক্ষক রকিবুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে দেখে বাড়িটি দেখতে কৌতূহল হলো। এসে ভালো লাগছে।
হাকিম বলেন, আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল ব্যতিক্রমী কিছু করার। ইউটিউবে বোতলের বাড়ি দেখে ভাবলাম, এমন কিছু করব। তাই ভাঙারির দোকান ও গ্রাম থেকে নানা রঙের খালি বোতল সংগ্রহ করি। এরপর রাজমিস্ত্রিদের দিয়ে কাজ শুরু করি। প্রথমে অনেকে আমাকে পাগল বলত। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার পর সবাই খুশি হয়ে গেল। প্রতিদিন লোকজন বাড়ি দেখতে আসছেন। আমারও ভালো লাগছে।
এমন বাড়ি বানানোর বিষয়ে আবদুল হাকিমের স্ত্রী আনজুমান আরা বেগম তাঁর স্বামীকে সব সময় সমর্থন করেছেন বলে জানালেন। তিনি বলেন, লোকজন তাঁদের বাড়ি দেখতে আসেন। নানা কিছু জানতে চান, তাঁর ভালোই লাগে এসব।
জান্নাতুল ফাহিমা তানহা, নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজধানী ঢাকার পর এবার চট্টগ্রাম মহানগরীর সড়কেও বসানো হচ্ছে কৃত্রিম…
মোঃ ইসমাইল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে সৎ, যোগ্য এবং…
দেলোয়ার হোসেন, ফেনী পরশুরাম উপজেলা প্রতিনিধি: ফেনী জেলা ফুলগাজী উপজেলায় সদরের বাজারে ১টি ফার্মেসি থেকে…
ফখরুল আলম সাজু নারায়ণগঞ্জ জেলা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী অবশেষে কারাগার থেকে…
ফখরুল আলম সাজু রাজবাড়ীর জেলা গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ একটি বাস হারিয়ে পদ্মা নদীতে…
ফখরুল আলম সাজু গাজীপুরে অটোরিকশার পিছনে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত হয়েছেন, এই ঘটনায়…
This website uses cookies.