স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট। হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এ জেলায় প্রতি বছর শীতের আগাম আভাস পাওয়া যায়। প্রকৃতিতে এখন শরৎকাল চলছে। আকাশ কখনো মেঘে ঢাকা, কখনো আবার উজ্জ্বল নীলিমায় ভরপুর। এরই মধ্যে নামে হালকা বৃষ্টি। রোদ-মেঘ-বৃষ্টির এ খেলা যেন ঋতুবদলের আয়োজন প্রকৃতিতে। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরের চাদর আর হালকা হিমেল হাওয়ায় প্রকৃতি জানান দিচ্ছে শীতের আগমনি বার্তা।
কয়েক দিন ধরে লালমনিরহাটের ৫ উপজেলায় ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা পড়ছে। শিশিরভেজা ঘাসের ডগায় মুক্তোর মতো ঝলমল করা বিন্দু, গাছের পাতায় কুয়াশার আবরণ আর ধানের খেতে শিশিরের ঝিলিক সব মিলে প্রকৃতি হয়ে উঠেছে স্নিগ্ধ।আজ (২৫ সেপ্টেম্বর ) বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিল। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গাছের পাতা ও সবুজ ধানের খেত শিশিরবিন্দুতে ভিজে রয়েছে। দিনমজুর ও কৃষক মাঠে কাজ করতে গিয়ে টের পাচ্ছেন শীতের আগাম ছোঁয়া।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের কাকিনায়য় সাবেক প্রভাষক মোস্তফা হাসান জানান, কয়েক দিন ধরে ভোর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কুয়াশা দেখছি। তবে আজ (গতকাল) একটু বেশি মনে হচ্ছে। বোঝা যাচ্ছে শীত দরজায় কড়া নাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এবার শীত একটু বেশি পড়বে মনে হচ্ছে। কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে মহাসড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে।
আর এক পথচারী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মধ্যরাত থেকেই কুয়াশা নেমে আসছে। ভোরে পুরো এলাকা কুয়াশায় ঢেকে ছিল। কৃষক রায়হান আলী বলেন, এবার আগেভাগেই কুয়াশা দেখে মনে হচ্ছে শীত তুলনামূলক বেশি পড়বে। স্থানীয়রা বলছেন, কাশফুল, শিশিরবিন্দু এবং মৃদু কুয়াশার মিলন শরতের সৌন্দর্য আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে। প্রকৃতিতে এ পরিবর্তন শীতের আগমনের বার্তা। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে। তাঁদের মতে এ সময়ে ঠান্ডা-গরমের ওঠানামার কারণে সর্দি-কাশি ও শীতজনিত রোগ বাড়তে পারে।
লালমনিরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আবদুল মোকাদ্দেম জানান, ঠান্ডা-গরমের প্রভাবে মানুষের শরীরে অভিযোজন সমস্যা দেখা দেয়। সর্দি-কাশিসহ মৌসুমি রোগের প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি।
রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবলচন্দ্র সরকার জানান, হিমেল বাতাস বইতে থাকায় রাত ও ভোরে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে, যা মূলত শীতের আগাম সংকেত।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২