Header Premium (728×90)

জেলা/স্থানীয়

রংপুর জেলায় নদ-নদীর অস্তিত্ব সংকটে :রাষ্ট্রীয় পরিচর্যায় নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
রংপুর জেলায় ২৮টি নদ-নদীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-তিস্তা, বুড়ি তিস্তা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, চিকলি, শাখা চিকলি, বুল্লাই, টেপরীর বিল, মরা, নলেয়া, মানস, ধুম, খটখটিয়া, বাইশা ডারা, আলাইকুড়ি, বুড়াইল, খোকসা ঘাঘট, আখিরা, ভেলুয়া, কাঠগিরি, নেংটি ছেঁড়া, করতোয়া, সোনামতি, নলশীসা, ধরলা, দুধকুমর, নীল কুমুর, ব্রহ্মপুত্র ও মাশানকুড়া। যেসব নদীর অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে সেগুলোতে এখন গড়ে উঠছে বসতি ও ফসলের খেত। অনেক স্থানে এসব নদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের অধীনে রাষ্ট্রীয় পরিচর্যায় নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। শতভাগ আগের অবস্থায় ফেরানো না গেলেও এখন নদীগুলো যে অবস্থায় আছে, তা অবিকৃত রাখার ব্যবস্থা করা সম্ভব। এমনকি অনেক দখলদারকে উচ্ছেদ করে নদীর প্রাণ ফেরানো সম্ভব। এতে নদীগুলো বিলুপ্তির কবল থেকে রক্ষা পাবে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর ধরলা, রংপুরের কাউনিয়ার মানস নদী, গঙ্গাচড়ায় তিস্তা ও নগরীর ঘাঘট নদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, একসময়ের প্রাণচাঞ্চল্য এসব নদী এখন মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। পানি না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা বোরো ধান চাষ করার জন্য মানস নদীজুড়েই ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন। একই অবস্থা দেখা গেছে ধরলা, ঘাঘট ও তিস্তা নদীর তলদেশে। কাউনিয়া উপজেলার বুড়িরহাট এলাকার কৃষক আতাউর রহমান বলেন, মানস নদীতে এবার খুব সহজেই বীজতলা তৈরি করা গেছে। কারণ গত বছরের চেয়ে এবার নদীতে পানি খুব কম ছিল। কোথাও আবার কোনো পানির অস্তিত্বও ছিল না।

রিভারাইন পিপলের পরিচালক, নদী গবেষক ও অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ জানান, একসময় রংপুর অঞ্চলের নদ-নদীগুলোতে সারা বছর ছিল প্রমত্তা যৌবনা। কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী ও মানসের বুক চিরে ১২ মাস নৌকা চলত। খেয়াঘাটগুলোতে কাজ করে বিপুল সংখ্যক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত। এখন এসব অনেক নদ-নদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।

রংপুর নগরীসহ মিঠাপুকুর ও গঙ্গাচড়া উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা ও ঘাঘটকে কেন্দ্র করেই এসময় গড়ে উঠেছিল অসংখ্য খেয়াঘাট। এসব ঘিরে জেলে পরিবার ও খেয়াঘাটের মাঝিরা জীবিকা নির্বাহ করতেন। তারা এখন পেশা বদল করতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে কাজের সন্ধানে অন্যত্র চলে গেছেন।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর, সদর উপজেলা, কাউনিয়া ও পীরগাছায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার বিস্তৃতি ছিল মানস নদীর। এ নদীর এখন কোনো অস্তিত্ব নেই বললে চলে। জমির বুক চিরে বেরিয়ে এসেছে হাজার হাজার একর আবাদি জমি। নৌকার পরিবর্তে সেখানে চলছে এখন কলের লাঙল। ৪ দশক আগেও মানস নদীতে নৌকা চলেছে পাল তুলে। হাজার হাজার জেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেছে। সেই মানসের বুকে এখন ফসলের আবাদ হচ্ছে। মানস নদীতে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৫০টির মতো খেয়াঘাট ছিল। সেগুলো এখন শুধুই অতীত।

editor

Recent Posts

রাজধানীর ঢাকার পর চট্টগ্রামেও এআই ক্যামেরা

জান্নাতুল ফাহিমা তানহা, নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজধানী ঢাকার পর এবার চট্টগ্রাম মহানগরীর সড়কেও বসানো হচ্ছে কৃত্রিম…

5 hours ago

সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের আহ্বান, তারাব পৌরসভায় জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

মোঃ ইসমাইল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে সৎ, যোগ্য এবং…

5 hours ago

ফুলগাজীতে ঔষধ ফার্মেসিতে চুরির অভিযোগে ১ যুবক আটক

দেলোয়ার হোসেন, ফেনী পরশুরাম উপজেলা প্রতিনিধি: ফেনী জেলা ফুলগাজী উপজেলায় সদরের বাজারে ১টি ফার্মেসি থেকে…

10 hours ago

১২ মামলায় জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত পেলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী

ফখরুল আলম সাজু নারায়ণগঞ্জ জেলা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী অবশেষে কারাগার থেকে…

10 hours ago

পদ্মা নদীতে আবারও বাস পড়ল

ফখরুল আলম সাজু রাজবাড়ীর জেলা গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ একটি বাস হারিয়ে পদ্মা নদীতে…

11 hours ago

গাজীপুরে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত

ফখরুল আলম সাজু গাজীপুরে অটোরিকশার পিছনে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত হয়েছেন, এই ঘটনায়…

11 hours ago

This website uses cookies.