মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির একটি অংশ ক্রোক করা হলেও বেশিরভাগই এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ও বিভিন্ন নিম্ন আদালত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিলেও অজ্ঞাত কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো মহল থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে আইসিটি ভারতে পলাতক হাসিনার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার বিভিন্ন আদালত সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং টিউলিপ সিদ্দিকের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গাজীপুরের ‘টিউলিপ টেরিটরি’ এখনো শেখ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডির ‘সুধা সদন’ ক্রোকের আদেশ থাকলেও ভবনটি বর্তমানে পরিত্যক্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় রয়েছে, যেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা গড়ে উঠেছে। তবে সরকার হাসিনার ব্যাংকের লকারে থাকা ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।
আইনজীবী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, এই ঢিলেমি ন্যায়বিচারের পথে অন্তরায়। আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত নির্বাহী বিভাগের। ধানমন্ডির ৫৪ নম্বর ‘সুধা সদন’ বাড়িটি মূলত হাসিনা, জয় ও পুতুলের মালিকানাধীন ছিল, যা এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল আদালত হাসিনার পরিবারের পাঁচ সদস্যের বাড়ি ও জমি ক্রোকের যে আদেশ দিয়েছিল, তার মধ্যে টিউলিপের নামে গুলশানের ৭১ নম্বর রোডের ১১ নম্বর ভবনের দুই হাজার ৪৩৬ (৪৩৬) বর্গফুট আয়তনের বি/২০১ (২০১) নম্বর ফ্ল্যাটটি ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। রেহানার নামে থাকা রাজধানীর সেগুনবাগিচার ৭৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের ২০৬ (২০৬) নম্বর ফ্ল্যাট, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমি, ববির নামে থাকা নিকেতনের সাততলা বাড়ির চারতলায় কার পার্কিংসহ এক হাজার ৯২০ (৯২০) বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং একই আয়তনের তৃতীয় তলার আরেকটি ফ্ল্যাটও ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। একই এলাকার অন্য একটি ভবনের কার পার্কিংসহ দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় এক হাজার ৮০০ (৮০০) বর্গফুট করে চারটি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। তবে এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি বলে জানান দুদকের এক কর্মকর্তা। পুতুলের বারিধারার প্রায় ৫ কোটি টাকার বাড়ি, খুলনা ও গোপালগঞ্জে তাদের বিভিন্ন জমি এবং রেহানা ও তার সন্তানদের ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এখনো থমকে আছে।
অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে হাসিনা ও তার পরিবারের ১২৪টি ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন ট্রাস্টের হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে হাসিনা, রেহানা, জয় ও পুতুলের ৩১টি ব্যাংক হিসাবের ৩৯৪ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পুতুলের গুলশানের একটি ফ্ল্যাট এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের ১৪টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৪৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিপুল অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের চলনবিলের বুকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদ এবং পাঁচশ বছরের…
রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ২৪৪ লিটার অবৈধ বিদেশি…
কুমিল্লার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে রাতভর তল্লাশি চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ৫১৯ সদস্যকে…
মাদারীপুরের শিবচরে নামাজ শেষে বাজারে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শহিদুল ইসলাম (৬০) নামে উপজেলা বিএনপির…
রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যানজট কমাতে ছয়টি রুটে একক কোম্পানির অধীনে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত…
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামের এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাতে…
This website uses cookies.