Header Premium (728×90)

আয়াতুল কুরসির ফজিলত ও গুরুত্ব

সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটি হলো আয়াতুল কুরসি, যা কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে স্বীকৃত। দশটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাক্যে গঠিত এই আয়াতের মূল বিষয়বস্তু হলো তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ। এতে আল্লাহর মর্যাদা ও গুণাবলির বিস্তারিত বর্ণনা থাকায় এর ফজিলত অপরিসীম। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই আয়াতটি দিনে ও রাতে পাঠ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এটি যেকোনো সময় পাঠ করা যায়, তবে হাদিসের বর্ণনায় তিনটি বিশেষ সময়ের কথা উল্লেখ রয়েছে, যখন এটি পাঠ করা অধিক ফজিলতপূর্ণ।

প্রথমত, সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে জিনের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। মুসতাদরাকে হাকিমের (খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৭৪৯) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি সকালে এটি পাঠ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত জিনের ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে জান্নাতে প্রবেশের পথ সহজ হয়। সুনানে নাসায়ির ১৪৪৩ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর এটি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকবে না। তৃতীয়ত, রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়লে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সহিহ বুখারির ৫০১০ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, রাতে শোয়ার সময় এটি পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা সকাল পর্যন্ত একজন হেফাজতকারী নিযুক্ত রাখেন এবং শয়তান তার কাছে ভিড়তে পারে না।

আয়াতুল কুরসির ফজিলত ও শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচার উপায় প্রসঙ্গে সহিহ বুখারির ২৩১১ নম্বর হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.)-এর একটি ঘটনা বর্ণিত আছে। তিনি রমজানের জাকাত বা সদকাতুল ফিতরের খেজুর দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। তিন রাতে এক আগন্তুক এসে খাদ্যদ্রব্য নিতে চাইলে তিনি তাকে ধরে ফেলেন। প্রতিবারই আগন্তুক অভাব ও পরিবারের ভারগ্রস্ততার কথা বলে ক্ষমা চায়। তৃতীয় রাতে আবু হুরায়রা (রা.) তাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে হাজির করার সংকল্প করলে আগন্তুক তাকে এমন কিছু শেখানোর প্রতিশ্রুতি দেয় যা দিয়ে আল্লাহ তাকে উপকৃত করবেন। সে জানায়, বিছানায় যাওয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষাকর্তা নিযুক্ত থাকেন এবং শয়তান কাছে আসতে পারে না। সকালে রাসুলুল্লাহ (সা.) আবু হুরায়রা (রা.)-কে জানান, আগন্তুকটি ছিল স্বয়ং শয়তান, তবে সে সত্য কথা বলেছে।

আয়াতুল কুরসির বাংলা অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছে এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে, সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসি (সিংহাসন) সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

Recent Posts

সোবহানার সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড সংগ্রহ

অস্ট্রেলিয়া নারী দলের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে ২২১ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। এই…

13 hours ago

৫ বছর পর ন্যান্সি ও জাহিদ নিরবের দ্বৈত গান ‘দিওয়ানা দিল’

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর আবারও দ্বৈত কণ্ঠে গান গাইলেন নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি ও জাহিদ…

14 hours ago

তুরস্কে পর্যটকবাহী বাস ও টো ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ২৭

তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় মানিসা প্রদেশে একটি পর্যটকবাহী বাস ও উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত টো ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত…

14 hours ago

পিরোজপুরে ডেঙ্গু ও কিশোর গ্যাং দমনে প্রতিমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা

পিরোজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ…

14 hours ago

জাতীয় ক্রিকেট লিগে একদিনে পাঁচ ব্যাটারের সেঞ্চুরি

জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ ব্যাটার পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও…

14 hours ago

দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদের ভূত যেভাবে মোদি সরকারকে তাড়া করছে

১০ অক্টোবরের দিল্লির রাজপথের দৃশ্য থেকে পরিষ্কার যে, বিজেপি সরকার জনগণের ভিন্নমতের প্রতি চরম আতঙ্কিত।…

14 hours ago

This website uses cookies.