সম্ভাব্য হামলার সুনির্দিষ্ট হুমকির মুখে থাকা ব্রিটেনের একটি বিমানঘাঁটি থেকে ১২টি বি-১ বোমারু বিমান আকস্মিকভাবে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই হুমকির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে 'বড় কিছু নয়' বলে এড়িয়ে গেছেন। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এটিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, পেন্টাগন প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সামরিক সম্পদের পুনর্বণ্টন করে থাকে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক শক্তি পিছু হটার আরেকটি বড় প্রমাণ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে বাধ্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ব্রিটেন থেকে সামরিক শক্তি সরিয়ে নিতে হচ্ছে। গত কয়েক মাসে ইরানের সাথে চলমান সংঘাত আমেরিকার সামরিক ব্যবস্থার এমন কিছু দুর্বলতা প্রকাশ করেছে, যা এক বছর আগেও কল্পনা করা যায়নি। অথচ ট্রাম্প এই যুদ্ধকে মার্কিন বাহিনীর অজেয় শক্তির প্রদর্শনী হিসেবে দেখাতে চেয়েছিলেন। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় সফল বোমা হামলা এবং একই বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার কারাকাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার শয়নকক্ষ থেকে নাটকীয়ভাবে আটক করার ঘটনার পর ট্রাম্প ভেবেছিলেন ইরান যুদ্ধও সহজেই জিতে যাবেন। কিন্তু বাস্তবে এই যুদ্ধ মার্কিন সামরিক সীমাবদ্ধতাই কেবল সামনে এনেছে।
এই পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ করতে হয়েছে এবং ব্রিটেনের একটি ঘাঁটির ব্যবহারও সীমিত করা হয়েছে, যেখানে মূলত লজিস্টিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মার্কিন বোমারু বিমানগুলো এখনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সক্ষমতা রাখলেও এখন তাদের সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে আসতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। এছাড়া পারস্য উপসাগরের বাইরে আরব সাগরে টহলরত মার্কিন রণতরীগুলোকে এখন প্রায় ২ হাজার ২০০ মাইল দূরে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপ থেকে রসদ ও জ্বালানি সরবরাহ করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত কয়েক সপ্তাহ সময় লাগার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হচ্ছে।
সোমবার মার্কিন ও ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জানান, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিমানঘাঁটির সীমানার বাইরে থেকে ড্রোন হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তড়িঘড়ি করে বোমারু বিমানগুলো সরানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা গত বছর ইউক্রেনের একটি সফল অভিযান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিল, যেখানে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার ভেতরে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে ড্রোন উড়িয়ে এক ডজন রুশ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। এই ঘটনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পেন্টাগনের যুদ্ধকৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন কেবল ক্ষেপণাস্ত্রের সীমানার বাইরে সেনা রাখাই যথেষ্ট নয়, বরং ড্রোন ও সাইবার অস্ত্র পুরো যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র বদলে দিয়েছে।
ইরানি বাহিনীর ক্রমাগত হামলার মুখে বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো এক সময়ের নিরাপদ ঘাঁটিগুলো থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নিতে হয়েছে, কারণ এগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের নাগালের মধ্যে ছিল। কিছু ঘাঁটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে পেন্টাগনের সেগুলো পুনর্নির্মাণের আগ্রহ নেই। কংগ্রেস অর্থ দিলে এগুলোকে আরও দূরে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। এমনকি গত অর্ধশতাব্দী ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির প্রধান যুক্তি 'অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা' হলেও এখন হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছে না ওয়াশিংটন। ওবামা ও বাইডেন প্রশাসনের সময় পেন্টাগনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা ডানা স্ট্রউল বলেন, আকস্মিকভাবে বোমারু বিমান দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে。
বর্তমানে পেন্টাগন ইসরাইল ও জর্ডানে নতুন ঘাঁটি গড়ার কথা ভাবলেও এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে এবং তা বাস্তবায়নে কয়েক বছর লেগে যাবে। গত বুধবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ মার্কিন সেনাদের সাথে আলাপকালে দেশের ভেতরে বড় সামরিক ঘাঁটি গড়ার কথা বললেও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে নীরব ছিলেন। অথচ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন ট্রাম্প ইরানে হামলার ঘোষণা দেন, তখন কয়েক দিনের মধ্যে বিজয়ের লক্ষ্য ছিল। পরে সময়সীমা ৫-৬ সপ্তাহ বাড়িয়ে তিনি ইরানের 'নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ' দাবি করেন এবং তিন সপ্তাহের মাথায় 'সম্পূর্ণ পরাজয়' ঘোষণা করেন। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরান নতিস্বীকার করবে।
কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন সেনাদের বিভিন্ন হোটেল ও সাধারণ অফিসে আশ্রয় নিতে হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ প্রস্তুতির অভাবকে প্রকাশ করে। ইরান মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করে সেসব হোটেলেও হামলা চালায়। এমনকি Saudi আরবে সিআইএর একটি স্টেশনেও হামলা হয়েছে, তবে সেটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাকি কূটনৈতিক এলাকায় হামলার সময় ভুলবশত ঘটেছে তা স্পষ্ট নয়। কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস্টোফার এস. মারফি সম্প্রতি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল সফর করে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন। তবে তাকে কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান। পেন্টাগন অবশ্য দাবি করেছে, সফরের আগেই তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।
ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলোর মেরামত বা পুনর্নির্মাণ ব্যয়ের হিসাব কংগ্রেসকে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পেন্টাগন, যা আইনপ্রণেতাদের মতে কয়েক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। এরই মধ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের সামরিক স্থাপনা পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা শুরু করেছে। রোড আইল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জ্যাক রিড বলেন, প্রতি মাসে যুদ্ধের ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার করে বাড়ছে, অথচ প্রশাসন গোলাবারুদের সংকট এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি পুনর্নির্মাণের বিশাল ব্যয়ের বিষয়টি স্বীকার করছে না। সব মিলিয়ে, এই ইরান যুদ্ধ মার্কিন সামরিক বাহিনীর এমন সব নজিরবিহীন দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা উন্মোচিত করেছে যা আগে ধারণার অতীত ছিল।
ভোটার তালিকা সংশোধনের বিতর্কিত ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার জেরে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে…
‘থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম’ মন্তব্য করে আলোচনায় আসা হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব…
সৌদি আরব থেকে পাঠানো প্রায় ৩০ কেজি ওজনের একটি পার্সেল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরে এসে সাড়ে…
নেপাল ভ্রমণের উদ্দেশ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের বাধার মুখে পড়েছিলেন তিন নারী। তাদের অভিযোগ,…
প্রযুক্তির ভিড়ে ও পড়াশোনার চাপে হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব। শিশুর অধিকার রক্ষা, সুস্থ ও…
বাংলাদেশে প্রযুক্তি, পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে উত্তর-পূর্ব ইউরোপের…
This website uses cookies.